বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারের সীমারেখা টানলেন নিউ জিল্যান্ড গ্রেট সুজি বেটস
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আরেকটি শিরোপা জিতে আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের ইতি টানতে চান এই অলরাউন্ডার।
আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় বলার পরিকল্পনা সাজিয়ে রেখেছেন সুজি বেটস। উইমেন’স টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলে দীর্ঘ ২০ বছরের ক্যারিয়ারের ইতি টানার ইচ্ছা নিউ জিল্যান্ড গ্রেটের।
আগামী জুনে ইংল্যান্ডে বসবে মেয়েদের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের দশম আসর। প্রথম আসরের চ্যাম্পিয়ন ইংল্যান্ড, ২০১৬ আসরের শিরোপাজয়ী ওয়েস্ট ইন্ডিজ, শ্রীলঙ্কা, আয়ারল্যান্ড ও স্কটল্যান্ডের সঙ্গে ‘বি’ গ্রুপে পড়েছে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন নিউ জিল্যান্ড।
সবকিছু ঠিক থাকলে ‘হোয়াইট ফার্নস’ নামে পরিচিত দএক্লসযক্টিসর শিরোপার ধরে রাখার অভিযানের সঙ্গী হবেন ৩৮ বছর বয়সী বেটস। আগামী বুধবার বিশ্বকাপের দল ঘোষণা করার কথা রয়েছে নিউ জিল্যান্ডের। বিশ্বকাপের আগে ইংল্যান্ডে ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি সিরিজ খেলবে তারা। সেখানেও দলের সঙ্গে যাওয়ার কথা বেটসের।
“গত ২০ বছরের দিকে ফিরে তাকালে, আমার বিশ্বাসই হয় না, সময় এতটা দ্রুত কেটে গেছে। ফার্ন (নিউ জিল্যান্ডের) জার্সিতে এতবার মাঠে নামতে পেরে খুবই গর্বিত। এই দলের জন্য প্রতিদিন নিজেকে আরও ভালো মানুষ, সতীর্থ, ক্রিকেটার ও ক্রীড়াবিদ হিসেবে গড়ে তোলার প্রচেষ্টায় এক বিশাল লক্ষ্য ও আনন্দ খুঁজে পেয়েছি।”
“আমার শেষ একটি অভিযান আছে- যুক্তরাজ্য যাওয়া, যেখানে আমার অনেক বিশেষ স্মৃতি রয়েছে এবং সেখানে আরেকটি বিশ্বকাপ জেতা। এই শেষ লড়াইয়ে সর্বোচ্চ শক্তি দিয়ে চেষ্টা করব, এই দলকে এমন ক্রিকেট খেলতে প্রতিটি মিনিট উৎসর্গ করব, যেন আমরা ও আমাদের দেশ গর্বিত হতে পারে।”
২০০৩ সালে ১৫ বছর বয়সে ঘরোয়া ক্রিকেটে খেলা শুরু করেন বেটস। তিন বছর পর আন্তর্জাতিক আঙিনায় পথচলা শুরু হয় তার। সময়ের সঙ্গে দলটির গুরুত্বপূর্ণ ক্রিকেটার হয়ে ওঠেন তিনি। এখন তো দেশের ক্রিকেটের কিংবদন্তি বেটস।
নিউ জিল্যান্ডের জার্সিতে ১৮১টি করে ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি খেলেছেন বেটস। ৫০ ওভারের সংস্করণের ১৩ সেঞ্চুরি ও ৩৭ ফিফটিতে দেশের হয়ে সর্বোচ্চ পাঁচ হাজার ৯৬৪ রান করেছেন তিনি। আর সব মিলিয়ে ওয়ানডেতে এখন চতুর্থ সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক এই ব্যাটার।
তার ১৩ সেঞ্চুরি ওয়ানডেতে দক্ষিণ আফ্রিকার লরা উলভার্টের সঙ্গে যৌথভাবে তৃতীয় সর্বোচ্চ। অস্ট্রেলিয়ার মেগ ল্যানিং (১৫টি) ও ভারতের স্মৃতি মান্ধানা (১৪টি) তালিকায় তার উপরে।
আর আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে বেটসের রান চার হাজার ৭১৭, স্ট্রাইক রেট ১০৮.৫৬। নামের পাশে এক সেঞ্চুরির সঙ্গে ফিফটি ২৮টি। এই সংস্করণে চার হাজার রানই আছে কেবল আর একজনের, মান্ধানার চার হাজার ২৯৩।
পেস বোলিংয়ে ওয়ানডেতে ৮৩ ও টি-টোয়েন্টিতে ৬২ উইকেট নিয়েছেন বেটস। ফিল্ডার হিসেবেও দুর্দান্ত তিনি। ওয়ানডেতে ৯৩টি ক্যাচের রেকর্ড তার। টি-টোয়েন্টিতে তার ৯৬ ক্যাচ সর্বোচ্চ।
২০১১ সালের জুলাইয়ে নিউ জিল্যান্ডের অধিনায়ক হন বেটস। সাত বছর এই দায়িত্ব পালন করেন তিনি।
২০২৪ সালে নিউ জিল্যান্ডের টি-টোয়েন্টি জয়ী দলের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য ছিলেন বেটস। ২০১৩ ওয়ানডে বিশ্বকাপের সেরা খেলোয়াড় হয়েছিলেন তিনি। ওই বছর ও ২০১৬ সালে আইসিসির বর্ষসেরা নারী ওয়ানডে ক্রিকেটার নির্বাচিত হয়েছিলেন। আর ২০১৬ সালে উইজডেনের ‘লিডিং উইমেন’স ক্রিকেটার’ হন এই অলরাউন্ডার।
নিউ জিল্যান্ডের হয়ে বাস্কেটবলও খেলেছেন বেটস। ২০০৮ বেইজিং অলিম্পিকসে দেশের প্রতিনিধিত্ব করেন তিনি।
নিউ জিল্যান্ডের বর্তমান অধিনায়ক অ্যামেলিয়া কারের মতে, বেটস ‘সবকালের সেরা ক্রিকেটারদের একজন।’
