আরেকটি সেঞ্চুরিতে দু প্লেসির অনন্য কীর্তি
৪১ ছুঁইছুঁই বয়সে ১০ দিনের মধ্যে দুটি টি-টোয়েন্টি সেঞ্চুরি উপহার দিলেন দক্ষিণ আফ্রিকান ব্যাটসম্যান।
আর সপ্তাহ দুয়েক পরই বয়স পূর্ণ হবে ৪১। কিন্তু ফাফ দু প্লেসির ব্যাটে যেন যৌবনের ধার। মেজর লিগ ক্রিকেটে তার আগের সেঞ্চুরিটির রেশ মিলিয়ে যায়নি পুরোপুরি। এর মধ্যেই উপহার দিলেন আরেকটি সেঞ্চুরি। এই শতরানে টি-টোয়েন্টির রেকর্ড বইয়ে নতুন এক পাতার উন্মোচন করলেন দক্ষিণ আফ্রিকার অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যান।
মেজর লিগ ক্রিকেটে টেক্সাস সুপার কিংসের হয়ে এমআই নিউ ইয়র্কের বিপক্ষে ৫৩ বলে ১০৩ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেন দু প্লেসি। ডালাসে বাংলাদেশ সময় সোমবার সকালে শেষ হওয়া ম্যাচটিতে টেক্সাস অধিনায়কের ইনিংসে ছিল ৫টি চার ও ৯টি ছক্কা।
টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে ৪০ পেরিয়ে দুটি সেঞ্চুরি করা একমাত্র ব্যাটসম্যান এখন দু প্লেসি। এবারের মেজর লিগ ক্রিকেটেই তিনি কদিন আগে সেঞ্চুরি করেছিলেন স্যান ফ্রান্সিসকো ইউনিকর্নসের বিপক্ষে।
গত ২০ জুন ওই সেঞ্চুরি করেছিলেন তিনি ৪০ বছর ৩৪২ দিন বয়সে। দক্ষিণ আফ্রিকার ব্যাটসম্যানদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি বয়সে সেঞ্চুরির নিজের রেকর্ডই আবার নতুন করে লিখিয়েছিলেন তিনি। এবার নিজেকে ছাড়িয়ে গেলেন আরও একবার। এবার সেঞ্চুরি করলেন ৪০ বছর ৩৫১ দিন বয়সে।
মেজর লিগ ক্রিকেটের গত আসরে একটি সেঞ্চুরি করেছিলেন তিনি ৩৯ বছর ৩৬১ দিন বয়সে।
বয়স ৩৯ পেরিয়ে টি-টোয়েন্টিতে তিনটি সেঞ্চুরির কীর্তিও নেই আর কারও।
সবচেয়ে বেশি বয়সে সেঞ্চুরির বিশ্বরেকর্ডে দু প্লেসির ওপরে নাম আছে কেবল দুজনের। ২০০৭ সালে ৪১ বছর ৩৭ দিন বয়সে সেঞ্চুরি করেছিলেন ইংল্যান্ডের গ্রায়েম হিক। ২০১৭ সালে তাকে ছাড়িয়ে ৪১ বছর ৬৫ দিন বয়সে সেঞ্চুরি করেন আরেক ইংলিশ ক্রিকেটার পল কলিংউড।
দু প্লেসির ৪১ পূর্ণ হবে আগামী ১৩ জুলাই। এখনও তার যে ফিটনেস এবং যে ফর্ম, বিশ্বজুড়ে যেভাবে টি-টোয়েন্টি খেলে বেড়ান, হিক-কলিংউডের রেকর্ড তার নাগালের মধ্যেই বলতে হবে।
এই সেঞ্চুরিটি দু প্লেসির ক্যারিয়ারের অষ্টম সেঞ্চুরি। অবিশ্বাস্যভাবে, সবকটি শতরানই করেছেন তিনি অধিনায়ক হিসেবে। ২০ ওভারের ক্রিকেটে অধিনায়ক হিসেবে সবচেয়ে বেশি সেঞ্চুরির বিশ্বরেকর্ড এটি।
দু প্লেসি ছাড়িয়ে গেছেন অধিনায়ক বাবর আজম ও মাইকেল ক্লিঙ্গারের সাত সেঞ্চুরিকে।
ডালাসের গ্র্যান্ড প্রেইরি স্টেডিয়ামে দু প্লেসির সেঞ্চুরির সঙ্গে তার স্বদেশি অলরাউন্ডার ডনোভান ফেরেইরার ২০ বলে ৫৩ রানের ইনিংসে টেক্সাস ২০ ওভারে তোলে ২২৩ রান। রান তাড়ায় এমআই নিউ ইয়র্ক যেতে পারে ২০ ওভারে ১৮৪ পর্যন্ত। আরেক চিরতরুণ ক্রিকেটার কাইরন পোলার্ড ৫টি করে ছক্কা ও চারে ৩৯ বলে করেন ৭০ রান।
ম্যাচ জিতে প্লে-অফে জায়গা নিশ্চিত করেছে টেক্সাস।
