২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩

ব্যাট-বলের জমজমাট দিনে অ‍্যাকারম‍্যানের ৯৫, স্টার্কের ৬ উইকেট

দেড়শ ছোঁয়া উদ্বোধনী জুটির পর পথ হারিয়ে ফেলল দক্ষিণ আফ্রিকা, দ্বিতীয় নতুন বলে ছয় বলের মধ্যে চার উইকেট নিয়ে অস্ট্রেলিয়াকে লড়াইয়ে ফেরালেন মিচেল স্টার্ক।

ব্যাট-বলের জমজমাট দিনে অ‍্যাকারম‍্যানের ৯৫, স্টার্কের ৬ উইকেট

দ্বিতীয় নতুন বলে আগুনে বোলিং করেন মিচেল স্টার্ক। ছবি: ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া 

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 27 Oct 2026, 10:38 PM

Updated : 27 Oct 2026, 11:26 PM

অনেকটা নিষ্প্রভ উইকেটে অনায়াসে রান করছিলেন রায়ান রিকেলটন ও মার্কো ইয়ানসেন। তাদের সপ্তম উইকেট জুটি পৌঁছে যায় শতরানের দুয়ারে। তবে দ্বিতীয় নতুন বল হাতে নিয়েই ম্যাচে প্রাণ ফেরালেন মিচেল স্টার্ক। অস্ট্রেলিয়ান তারকা দুই ওভার মিলিয়ে ছয় বলের মধ্যে তুলে নিলেন চার উইকেট। বড় সংগ্রহের পথে থাকা দক্ষিণ আফ্রিকা আটকে গেল সাড়ে তিনশর অনেক নিচে।

টেস্ট ক্রিকেটের জন্য রোমাঞ্চকর একটি দিন কাটল কেপ টাউনে। ব্যাটে-বলে লড়াই হলো দারুণ। ম্যাচের মোড় বারবার ঘুরে গেল নাটকীয়ভাবে।

সিরিজ নির্ধারণী তৃতীয় টেস্টের প্রথম দিনের শুরুর সেশন ছিল পুরোপুরি দক্ষিণ আফ্রিকার, কোনো উইকেট না হারিয়ে তারা তোলে ১৪০। উদ্বোধনী জুটিতে আসে ১৫৮ রান। কিন্তু এই জুটি ভাঙার পর একপর্যায়ে স্বাগতিকদের স্কোর হয়ে যায় ৬ উইকেটে ২৩২।

এরপরই রিকেলটন ও ইয়ানসেনের ৯৫ রানের জুটিতে আবার ঘুরে দাঁড়ায় প্রোটিয়ারা। কিন্তু স্টার্কের তোপে ২ রানে শেষ ৪ উইকেট হারিয়ে ৩২৯ রানেই অলআউট হয়ে যায় তারা।

ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় টেস্টে প্রথম সেঞ্চুরির সম্ভাবনা জাগিয়ে ৯৪ বলে ৯৫ রানে থামেন মার্কেস অ্যাকারম্যান। পঞ্চাশ ছোঁয়া ইনিংস খেলেন দক্ষিণ আফ্রিকার আরও তিন জন।

তবে দিনের সব আলো কেড়েন নেন স্টার্ক। ৭২ রানে ৬ উইকেট শিকার করেন ৩৬ বছর বয়সি পেসার। ১১০ টেস্টের ক্যারিয়ারে এই নিয়ে ২০ বার ইনিংসে পাঁচ উইকেটের স্বাদ পেলেন তিনি।

নিউল্যান্ডসে মঙ্গলবার টস জিতে বোলিং নেন অস্ট্রেলিয়া অধিনায়ক প্যাট কামিন্স। তবে সিদ্ধান্তটি যে সঠিক ছিল না, তা প্রমাণ হয়ে যায় দক্ষিণ আফ্রিকা ব্যাটিংয়ে নামার পর। বোলারদের জন্য তেমন কোনো সহায়তা ছিল না উইকেটে। এইডেন মার্করাম ও অ্যাকারম্যানের জুটিতে শক্ত ভিত পায় দক্ষিণ আফ্রিকা।

প্রথম ঘণ্টায় ১৪ ওভারে আসে ৫৩ রান। পরের ঘন্টায় অ্যাকারম্যান ফিফটি পূর্ণ করেন ৬২ বলে। মার্করামের পঞ্চাশে যেতে লাগে ৮১ বল। অ্যাকারম্যান ৮২ ও মার্করাম ৫৬ রান নিয়ে যান লাঞ্চ বিরতিতে।

মাঝের সেশনে দুজনই উইকেট বিলিয়ে দিয়ে আসেন। বাঁহাতি ওপেনার অ্যাকারম্যানকে আগেই ক্রিজ ছেড়ে বেরিয়ে আসতে দেখে অফ স্টাম্পের অনেকটা বাইরে বল করেন স্পিনার ন্যাথান লায়ন। ব্যাটসম্যান পাননি বলের নাগাল, সহজেই স্টাম্পিং করেন কিপার অ্যালেক্স কেয়ারি।

১২ চার ও দুই ছক্কায় গড়া অ্যাকারম্যানের ৯৫ রানের ইনিংসটি।

দলের স্কোর দুইশ পার করে জশ হেইজেলউডের শর্ট বলে পুল শট খেলে লং লেগে ধরা পড়েন মার্করাম। ১০ চার ও এক ছক্কায় ৪১ বলে ৭৮ রান করেন তিনি।

পরের ওভারেই টেম্বা বাভুমাকে শূন্য রানে বোল্ড করে দেন অফ স্পিনার লায়ন। ম্যাথু ব্রিটস্কিকে এলবিডব্লিউ করে ফেরান বাঁহাতি স্পিনিং অলরাউন্ডার কুপার কনোলি। রিভিউ নিয়ে সফল হয় অস্ট্রেলিয়া। ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে অভিষেকের পর, দীর্ঘ অপেক্ষা শেষে ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় টেস্ট খেলতে নামা ক্রিকেটারের প্রথম উইকেট এটি।

তৃতীয় সেশনে ফিফটি করার পরপরই আউট হয়ে যান ডেভিড বেডিংহ্যাম (৮০ বলে ৫০)। তিনিও শর্ট বলের শিকার। তাকে ফিরিয়ে প্রথম উইকেটের দেখা পান স্টার্ক। সীমানায় দুইবারের চেষ্টায় চমৎকার ক্যাচ নেন হেইজেলউড। একই ওভারে আরেকটি শর্ট ডেলিভারিতে ফেরেন ভিয়ান মুল্ডার।

একপর্যায়ে ১ উইকেটে ২০৩ থেকে দক্ষিণ আফ্রিকার স্কোর হয়ে যায় ৬ উইকেটে ২৩২!

সেখান থেকে প্রতিরোধ গড়েন রিকেলটন ও ইয়ানসেন। তাদের ব্যাটিং দেখে মনে হচ্ছিল, দুজনেই কাটিয়ে দেবেন বাকি দিন।

কিন্তু দ্বিতীয় নতুন বলে দ্রুত পাল্টে যায় চিত্র। দ্বিতীয় নতুন বলে প্রথম ওভারের চতুর্থ বলে প্রায় ইয়র্কার লেংথের এক আউটসুইঙ্গারে রিকেলটনকে (৮৩ বলে ৮২) এলবিডব্লিউ করেন স্টার্ক, শেষ বলে ১৪৩ কিলোমিটার গতির ইনসুইঙ্গারে ইয়ানসেনকে (৭১ বলে ৫২) বোল্ড করেন তিনি।

নিজের পরের ওভারের প্রথম বলে জেরল্ড কুটসিয়াকে বোল্ড করে হ্যাটট্রিকের সম্ভাবনা জাগান স্টার্ক। সেটি না হলেও, এক বল পরই কাগিসো রাবাদাকে এলবিডব্লিউ করে দক্ষিণ আফ্রিকার ইনিংসের ইতি টেনে দেন বাঁহাতি পেসার। দিনের খেলাও শেষ সেখানেই।

সংক্ষিপ্ত স্কোর: (প্রথম দিন শেষে)

দক্ষিণ আফ্রিকা ১ম ইনিংস: ৮২.৩ ওভারে ৩২৯ (মার্করাম ৭৮, অ্যাকারম্যান ৯৫, বেডিংহ্যাম ৫০, বাভুমা ০, ব্রিটস্কি ২, রিকেলটন ৪২, মুল্ডার ০, ইয়ানসেন ৫২, হার্মার ০*, কুটসিয়া ০, রাবাদা ০; স্টার্ক ১৬.৩-২-৭২-৬, হেইজেলউড ১৫-৩-৫৯-১, কামিন্স ১৮-২-৭৩-০, লায়ন ২৩-১-৭১-২, কনোলি ৯-০-৪১-১, রেনশ ১-০-৫-০)