বিশ্বকাপ-হতাশা ভুলে সামনের সব টেস্টে খেলতে চান কামিন্স
বাংলাদেশের বিপক্ষে সিরিজ দিয়ে সামনের মৌসুমে তুমুল ব্যস্ত সময় কাটবে অস্ট্রেলিয়ার, অধিনায়ক প্যাট কামিন্স খেলতে চান সবকটি টেস্টেই।
চোট কাটিয়ে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলার পথেই ছিলেন প্যাট কামিন্স। কিন্তু শেষ সময়ে বাগড়া দিয়েছে শরীর। সেই হতাশা তার মনের কোণে আছেই। তবে চোখে আছে আশার ঝিলিকও। মন্দের ভালো দেখছেন তিনি পর্যাপ্ত বিশ্রাম পাওয়ায়। তাতে সামনের মৌসুমের তুমুল ব্যস্ত সূচির জন্য তৈরি করে নিতে চান নিজেকে। অস্ট্রেলিয়ান অধিনায়ক খেলতে চান মৌসুমের সব টেস্ট।
গত জুলাইয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফর থেকে পিঠের চোট নিয়ে ফেরা কামিন্স এই সাত মাসে খেলতে পেরেছেন স্রেফ একটি ম্যাচ। গত ডিসেম্বরে অ্যাশেজে অ্যাডিলেইড টেস্ট খেলেই আবার ছিটকে পড়েন তিনি। তার ফেরার কথা ছিল টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ দিয়ে। অস্ট্রেলিয়ার প্রাথমিক দলে রাখা হয়েছিল তাকে। পরে বলা হলো, বিশ্বকাপের মাঝামাঝি যোগ দেবেন দলে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ছিটকেই গেছেন গোটা আসর থেকে।
এএপির সঙ্গে কথোপকথনে বিশ্বকাপে যেতে না পারার প্রেক্ষাপট তুলে ধরলেন কামিন্স।
“সত্যিই দুর্ভাগ্যজনক ছিল (বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে পড়া)। বেশ ভালো অনুভব করছিলাম আমি। কিন্তু ছোট্ট একটি ধাক্কার পর সময় আর বেশি ছিল না। এখন কয়েক সপ্তাহ বিশ্রাম নিয়ে এরপর আবার ছুটব।”
"(অ্যাডিলেইড) টেস্টের পরই জানতাম যে, থিতু হতে চার থেকে আট সপ্তাহ সময় লাগবে। এরপর মাঠে ফেরার প্রক্রিয়া শুরু। প্রাথমিকভাবে ভেবেছিলাম, চার সপ্তাহের মতোই লাগবে, কারণ বেশ ভালো লাগছিল আমার। কিন্তু ফলো-আপ স্ক্যান করানোর পর তাদের মনে হয়েছে, আরও সপ্তাহ দুয়েক সময় লাগবে। তাতে সময়টা আঁটসাঁট হয়ে গেছে।”
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের পর অস্ট্রেলিয়ার লম্বা বিরতি। নতুন মৌসুম শুরু হবে অগাস্টে বাংলাদেশের বিপক্ষে সিরিজ দিয়ে। ডারউইন ও ম্যাকাইতে হবে টেস্ট দুটি। এরপর তারা খেলবেন দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে টেস্ট সিরিজে। দেশে ফিরে চার ম্যাচের টেস্ট সিরিজ নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে।
শেষ নয় সেখানেই। বোর্ডার-গাভাস্কার ট্রফির পাঁচ টেস্টের সিরিজ আছে ভারতে। টেস্ট ক্রিকেটের ১৫০ বছর পূর্তিতে বিশেষ টেস্ট আছে মেলবোর্নে। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে উঠতে পারলে আছে সেই ম্যাচটিও। এসবের ফাঁকে ওয়ানডে তো থাকবেই। বিশেষ করে, আগামী বছর আছে ওয়ানডে বিশ্বকাপ।
সব মিলিয়ে অগাস্ট থেকে দম ফেলার ফুরসত থাকবে না কামিন্সদের। এই চ্যালেঞ্জের জন্য এই ফাঁকা সময়টায় নিজের শরীরকে পোক্ত করতে চান ৩২ বছর বয়সী পেসার।
“আমাদের মনে হয়েছে, বছরের প্রথম ছয় মাস বেশ ভালো সময় একটু সতর্ক হয়ে এগোনোর, বিশেষ করে সামনে যে পরিমাণ খেলা আছে। যদি সবকিছু ঠিকঠাক এগোয়, তাহলে আশা করি আর এটা (চোট) নিয়ে চিন্তায় পড়তে হবে না, সবকটি টেস্ট ম্যাচই খেলা যাবে। অন্যদিকে এখন সতর্ক না হলে এটা আরও বাড়তে পারে এবং শেষ পর্যন্ত পণ্ডশ্রম হতে পারে।”
সব ঠিকঠাক থাকলে অবশ্য আইপিএল দিয়েই মাঠে ফিরতে পারেন তিনি। তবে সানরাইজার্স হায়দরাবাদের অধিনায়ক জানালেন, আইপিএলে খেলা নির্ভর করবে চোটের অবস্থার ওপর।
“আমার পিঠের অবস্থা যেমন থাকবে, সেটিই অনুসরণ করব আমি। কয়েক সপ্তাহ পর আরেকটি স্ক্যান হবে। সেটি ভালো হলে আস্তে আস্তে ফেরার প্রক্রিয়া শুরু হবে। টি-টোয়েন্টি তো তুলনামূলকভাবে সহজ (টেস্টের তুলনায়), সেজন্যই টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলার এতটা কাছাকাছি ছিলাম।”
