১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২ আশ্বিন ১৪৩৩

পাকিস্তান ক্রিকেটের উন্নতির পথে ‘একমাত্র বাধা পাকিস্তান’

অস্ট্রেলিয়ার সাবেক ওপেনার ম্যাথু হেইডেন মনে করেন, পাকিস্তান ক্রিকেটকে সবচেয়ে বেশি পিছিয়ে দিচ্ছে বিশৃঙ্খলা।

পাকিস্তান ক্রিকেটের উন্নতির পথে ‘একমাত্র বাধা পাকিস্তান’
ম্যাথু হেইডেন। ছবি: আইসিসি

স্পোর্টস ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 05 Sep 2026, 06:30 PM

Updated : 17 Sep 2026, 02:55 AM

প্রতিভার কোনো কমতি না থাকলেও মাঠের পারফরম্যান্সে ধারাবাহিক হতে পারছে না পাকিস্তান। এর পেছনে তাদেরই সবচেয়ে বড় দায় দেখছেন ম্যাথু হেইডেন। অস্ট্রেলিয়ার সাবেক ওপেনারের মতে, পাকিস্তান ক্রিকেটকে সবচেয়ে বেশি পিছিয়ে দিচ্ছে তাদের নিজেদের তৈরি করা বিশৃঙ্খলা।

বিতর্ক ও বিশৃঙ্খলা অবশ্য পাকিস্তান ক্রিকেটে নতুন কিছু নয়। সম্প্রতি যেমন, ইংল্যান্ডে টানা দুই টেস্ট হারের পর স্কোয়াড ও টিম ম্যানেজমেন্টে ব্যাপক পরিবর্তন এনে তোলপাড় ফেলে দিয়েছে তারা। তাদের এমন ‘নজিরবিহীন’ সিদ্ধান্ত নিয়ে বইছে সমালোচনার ঝড়।

লিডসে ইনিংস ব্যবধানে হেরে ইংল্যান্ড সফর শুরু করে পাকিস্তান। পরে লর্ডসে পায় ১৯৪ রানের বড় পরাজয়ের তেতো স্বাদ। তৃতীয় টেস্টের আগে দল থেকে সাত জন খেলোয়াড়কে দেশে পাঠিয়ে দেয় তারা। সেই জায়গায় ডাক পাওয়া সাতজনের মধ্যে পাঁচজনেরই নেই টেস্ট খেলার অভিজ্ঞতা।

এখানেই শেষ নয়, প্রধান কোচ সারফারাজ আহমেদ ও বোলিং কোচ উমার গুলকেও বরখাস্ত করে পাকিস্তান। দায়িত্ব দেওয়া হয় সাদা বলের প্রধান কোচ মাইক হেসন ও বোলিং কোচ অ্যাশলি নফকে।

অতীতে পাকিস্তানের ব্যাটিং কোচ ও দলের মেন্টর হিসেবে কাজ করেছেন হেইডেন। তাই দলটির ভেতরের পরিবেশ সম্পর্কে ভালোই জানাশোনা আছে তার। সেই অভিজ্ঞতা থেকে এশিয়ার দলটিকে তুলনা করেছেন ‘প্রেসার কুকারের’ সঙ্গে। উইজডেন ক্রিকেট পডকাস্টে তিনি বলেছেন, এখনও আগের মতোই আছে পাকিস্তানের ক্রিকেট।

“পাকিস্তানের সঙ্গে কাজ করার সময়টা সত্যি উপভোগ করেছি। যদিও (পরিবেশ) কিছুই পরিবর্তন হয়নি। এটা সবসময় সমস্যা। এটাকে আসলে কোনো পরিবেশ বলা যায় না…ধারাবাহিক থাকার জন্য এটা খুবই কঠিন একটি পরিবেশ। কারণ, এটাই যেন তাদের ধরণ হয়ে গেছে।”

২০২১ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে পাকিস্তানের ব্যাটিং কোচ হিসেবে কাজ করেন হেইডেন। বাবর আজমের নেতৃত্বে পাকিস্তান সেবার সেমি-ফাইনালে খেলে। সেখানে অস্ট্রেলিয়ার কাছে পাঁচ উইকেটে হেরে যায় তারা। পরের বছরের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে পাকিস্তানের মেন্টর হিসেবে কাজ করেন হেইডেন। সেবার ফাইনালে উঠে দলটি। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে হেরে ভাঙে তাদের হৃদয়।

পাকিস্তান ক্রিকেটে প্রতিভার ঘাটতি দেখেন না হেইডেন। তার মতে, বিশৃঙ্খল পরিবেশের কারণে সেটাকে কাজে লাগাতে পারছে না দলটি।

“পাকিস্তান সবসময়ই ডার্ক হর্স, কারণ তাদের সহজাত প্রতিভা অসাধারণ। বলতে চাচ্ছি, যারা অ্যাথলেটিক দক্ষতা বুঝতে পারে, সে দেখতে পাবে পাকিস্তানের প্রচুর প্রতিভা আছে। সমস্যা হলো, সেই প্রতিভা কখনোই মনোযোগ পায় না, কারণ মনোযোগ দেওয়ার সুযোগই দেওয়া হয় না। সবসময় বিশৃঙ্খলা লেগেই থাকে। স্থিরতার বদলে তারা সবসময় অস্থিতিশীল অবস্থায় থাকে।

“আর পাকিস্তানের সঙ্গে অল্প সময় কাজ করার সময় আমি যেটা করতে উপভোগ করেছি, সেটা হলো, সবকিছুকে আবার স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনা এবং অতিরিক্ত অস্থিরতা কমানো। তাই তাদের জন্য বিষয়টি খুবই কঠিন।”

হেইডেনের মতে, বিশ্ব ক্রিকেটে আবারও নিজেদের সেরা অবস্থান ফিরে পাওয়ার পথে পাকিস্তানের একমাত্র বাধা তারা নিজেরাই।

“পাকিস্তান অনেকটা ওয়েস্ট ইন্ডিজের মতো, যাদের কথা আমি বিশেষভাবে উল্লেখ করেছি, পাকিস্তানের কথাও বিশেষভাবে বলব। কারণ, একটি দেশে ২৬ কোটি মানুষ আছে, যারা ক্রিকেটকে ভালোবাসে, অথচ সেখানে ক্রিকেটকে স্বাভাবিকভাবে এগোতেই দেওয়া হয় না।

“আর ‘ইটস জাস্ট নট ক্রিকেট’- পুরনো কথাটি পাকিস্তান নিয়ে এই আলোচনায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ আপনি যদি পাকিস্তানকে আর পাকিস্তান যদি নিজেদের কেবল আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে ও স্বাধীনভাবে খেলতে দেয়, তবে তারা যেকোনো দলকে হারিয়ে দেওয়ার সামর্থ্য রাখে। কারণ ওয়েস্ট ইন্ডিজের মতো তাদের প্রতিভাও অসাধারণ।”