২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫ আশ্বিন ১৪৩৩

৫ ক্যাচ ছেড়েও অনায়াস জয় ভারতের

তৃতীয় ও শেষ টি-টোয়েন্টিতে ৩৫ রানের জয় পেয়েছে শ্রেয়াস আইয়ারের দল।

৫ ক্যাচ ছেড়েও অনায়াস জয় ভারতের
টানা তৃতীয় জয় পেল ভারত। ছবি: ইন্ডিয়ান ক্রিকেট টিম ফেইসবুক

স্পোর্টস ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 26 Jul 2026, 10:01 PM

Updated : 11 Sep 2026, 03:44 PM

সেঞ্চুরির সম্ভাবনা জাগিয়ে শেষ পর্যন্ত পারলেন না বৈভাব সুরিয়াভানশি। তবে, তার দারুণ ইনিংস ও বাকিদের অবদানে বড় সংগ্রহ গড়ল ভারত। পরে দলের ফিল্ডিং ভালো হলো না, একে একে ক্যাচ পড়ল পাঁচটি। তবুও, বোলারদের দারুণ পারফরম্যান্সে জিম্বাবুয়েকে সহজেই হারাতে পারল সফরকারীরা।

হারারেতে রোববার তৃতীয় ও শেষ টি-টোয়েন্টিতে ৩৫ রানে জিতেছে ভারত। ১৯২ রানের পুঁজি গড়ে প্রতিপক্ষকে ১৫৭ রানে থামিয়ে দিয়েছে তারা।

প্রথম টি-টোয়েন্টিতে ৭ উইকেটে জিতে সিরিজ শুরু করে ভারত। পরেরটিতে ৯০ রানের বড় জয় পায় তারা। আরেকটি সহজ জয়ে তিন ম্যাচের সিরিজ স্বাগতিকদের হোয়াইটওয়াশ করল শ্রেয়াস আইয়ারের দল।

ভারতকে দুইশর কাছাকাছি সংগ্রহ এনে দেওয়ার পথে ৪৯ বলে ৮১ রান করেন সুরিয়াভানশি। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নিজের দ্বিতীয় পঞ্চাশ ছোঁয়া ইনিংসটি গড়েন চারটি ছক্কা ও আটটি চারে। ১৬ বছর বয়সের আগে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে দুটি ফিফটি করা প্রথম ব্যাটসম্যান তিনি।

ম্যাচ ও সিরিজ সেরার পুরস্কার ওঠে সুরিয়াভানশির হাতে।

জিম্বাবুয়ের রান দেড়শ ছাড়ায় রায়ান বার্লের সৌজন্যে। পাঁচে নেমে পাঁচটি চারে ৫৪ রান করে অপরাজিত থাকেন তিনি। তার একটি ক্যাচও ছাড়ে ভারত। সামনে ঝাঁপিয়ে নিচু ক্যাচ মুঠোয় রাখতে পারেননি সুরিয়াভানশি। তখন ৩৮ রানে খেলছিলেন বার্ল।

ভারতীয় ফিল্ডারদের হাত থেকে ফসকে যাওয়া পাঁচটি ক্যাচের তিনটিই ইয়াশ ঠাকুরের বলে। রেকর্ড রাখার পর থেকে, টি-টোয়েন্টি ম্যাচে ভারতীয় কোনো বোলারের বলে এর চেয়ে বেশি ক্যাচ হাতছাড়া হয়নি আর। তাদের তিনটির নজির আছে আরও পাঁচটি। 

আর টি-টোয়েন্টিতে এই নিয়ে তিনবার এক ম্যাচে পাঁচটি ক্যাচ ছাড়ল ভারত। মোহালিতে ২০০৯ সালে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সর্বোচ্চ ছয়টি ক্যাচ ছেড়েছিল তারা।

টস জিতে ব্যাটিংয়ে নামা ভারতকে ভালো শুরু এনে দেন সুরিয়াভানশি। ম্যাচের প্রথম বলে সিকান্দার রাজাকে চার মেরে রানের খাতা খোলেন তিনি। দুই বল পর মারেন আরেকটি।

পরের ওভারে কট বিহাইন্ড হন আভিশেক শার্মা। জিম্বাবুয়ে সফরে একটি ম্যাচেও দুই অঙ্কে যেতে পারলেন না তিনি। সবশেষ ছয় ইনিংস মিলিয়ে তার রান ৪০, সর্বোচ্চ ১৬।

এরপর ইশান কিষানকে নিয়ে দলের রান বাড়ান সুরিয়াভানশি। এদিন কিছুটা মন্থর ছিল তার রান তোলার গতি। ৩১ বলে স্পর্শ করেন ফিফটি। প্রথম টি-টোয়েন্টিতে পঞ্চাশ ছুঁয়েছিলেন তিনি ১৮ বলে।

একাদশ ওভারে কিষানের বিদায়ে ভাঙে ৭৫ রানের জুটি। এরপর শ্রেয়াসের সঙ্গে সুরিয়াভানশির যুগলবন্দিতে আসে ৫০ রান। যেভাবে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে খেলছিলেন সুরিয়ভানশি, মনে হচ্ছিল, তার সেঞ্চুরি কেবল সময়ের ব্যাপার। কিন্তু পঞ্চদশ ওভারের শেষ বলে ব্র্যাড ইভান্সের চমৎকার ক্যাচে বাজে তার বিদায় ঘণ্টা।

১৮ বলে ২৭ রান করেন শ্রেয়াস। শেষ দিকে ১৪ বলে ২৫ রান আসে রিঙ্কু সিংয়ের ব্যাট থেকে।

লক্ষ্য তাড়ায় নামা জিম্বাবুয়ে শিবিরে প্রথম বলেই ছোবল দেন মায়াঙ্ক ইয়াদাভ। এই পেসারের ১৪৭ কিলোমিটার গতির লেংথ বলে স্লিপে ধরা পড়েন ব্রায়ান বেনেট। চতুর্থ ওভারে ইয়াশের বলে ডিওন মেয়ার্সের সহজ ক্যাচ ছাড়েন মায়াঙ্ক। এক বল পর টানা দুই ডেলিভারিতে মেয়ার্স ও রাজাকে ফিরিয়ে সেই হতাশা ঘোচান ইয়াশ।

মুখোমুখি প্রথম বলে চার মেরে রানের খাতা খোলেন বার্ল। তাকে কিছুক্ষণ সঙ্গ দেন বেন কারান। সপ্তম ওভারে কারানের সহজ ক্যাচ গ্লাভসে জমাতে পারেননি কিষান। 

পরের ওভারে কারানকে বিদায় করে দেন রাভি বিষ্ণই। এরপর ওয়েলসলি মাধেভেরেকে নিয়ে ইনিংসের সবচেয়ে বড় ৬০ রানের জুটি উপহার দেন বার্ল। এই বন্ধন আরও আগে ভাঙার সুযোগ কাজে লাগাতে পারেননি ভারত। ইয়াশের করা মাধেভেরের ক্যাচ মুঠোয় জমাতে পারেনি তিলাক ভার্মা।

১৭ রানে জীবন পেয়ে ইয়াশকে একটি করে ছক্কা ও চার মারেন মাধেভেরে। পরের ওভারে তাকে থামান মায়াঙ্ক। ১৯তম ওভারের প্রথম বলে মিডউইকেটে ইভান্সের ক্যাচ নিতে পারেননি বদলি ফিল্ডার হার্শ দুবে।

বেঁচে যাওয়ার সুযোগ কাজে লাগাতে পারেননি জিম্বাবুয়ের ব্যাটসম্যানরা। তাতে দেড়শ পেরিয়েই থামতে হয় তাদের।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

ভারত: ২০ ওভারে ১৯২/৫ (সুরিয়াভানশি ৮১, আভিশেক ২, কিষান ২৯, শ্রেয়াস ২৭, তিলাক ১১*, রিঙ্কু ২৫; রাজা ৪-০-৪০-১, মুজারাবানি ৪-০-৩৩-১, নিয়ামুরি ২-০-১৮-০, ইভান্স ৪-০-৪১-২, মাসাকাদজা ১-০-১৪-০, মাধেভেরে ৪-০-৩৭-১, বেনেট ১-০-৭-০)

জিম্বাবুয়ে: ২০ ওভারে ১৫৭/৭ (বেনেট ০, কারান ২০, মেয়ার্স ১৯, রাজা ০, বার্ল ৫৪*, মাধেভেরে ২৮, মারুমানি ১, ইভান্স ১৪, নিয়ামুরি ১*; মায়াঙ্ক ৪-০-২৯-৩, ইয়াশ ৪-০-৪৫-২, আশোক ৪-০-২০-১, বিষ্ণই ৪-০-২৪-১, সুরিয়ানশ ২-০-১৫-০, আভিশেক ২-০-১৮-০)

ফল: ভারত ৩৫ রানে জয়ী

ম্যান অব দা ম্যাচ: বৈভাব সুরিয়াভানশি

সিরিজ: ৩ ম্যাচের সিরিজ ৩-০তে জয়ী ভারত

ম্যান অব দা সিরিজ: বৈভাব সুরিয়াভানশি