২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৪ কার্তিক ১৪৩৩

অস্বস্তি নিয়েই শেষ হলো বাংলাদেশের বিশ্বকাপ প্রস্তুতি

উইমেন’স টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের প্রস্তুতি ম্যাচে পাকিস্তানের পর ভারতের কাছেও হারল বাংলাদেশ।  

স্পোর্টস ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 08 Feb 2023, 10:07 PM

Updated : 08 Feb 2023, 10:07 PM

ইনিংসের দুই ভাগ যেন পুরো ভিন্ন দুই জগতের গল্প। প্রথম ভাগে বাংলাদেশের বোলাদের দাপটে জড়সড় ভারতীয় ব্যাটাররা। পরের ভাগে ভারতীয় ব্যাটারদের তাণ্ডবে তছনছ বাংলাদেশের বোলিং। প্রথম ১০ ওভারে রান ৫১, পরের ১০ ওভারে ১৩২! শেষের ওই ঝড়ে যে উচ্চতায় উঠল ভারতের স্কোর, বাংলাদেশ পারল না সেটির কাছাকাছি যেতেও। 

আইসিসি উইমেন’স টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আগে দ্বিতীয় প্রস্তুতি ম্যাচে ভারতের কাছে ৫২ রানে হারল বাংলাদেশ। তাতে প্রস্তুতি পর্ব হতাশা নিয়েই শেষ হলো নিগার সুলতানার দলের। প্রথম ম্যাচে তারা হেরেছিল পাকিস্তানের কাছে। 

প্রস্তুতি ম্যাচে অবশ্য জয়-পরাজয় খুব একটা মুখ্য নয়। মূল আসরের জন্য নিজেদের ঝালিয়ে নেওয়াই গুরুত্বপূর্ণ। তবে দুই ম্যাচ থেকেই ব্যাটে-বলে আশার আলো খুব একটা মেলেনি বাংলাদেশের। 

দক্ষিণ আফ্রিকার স্টেলেনবস বিশ্ববিদ্যালয় মাঠে বুধবার ভারত ২০ ওভারে তোলে ৫ উইকেটে ১৮৩। বাংলাদেশ যেতে পারে ১৩১ পর্যন্ত। 

ব্যাটিং বাংলাদেশের বরাবরের দুর্বলতা। তবে ভারতের বিপক্ষে এ দিন স্লগ ওভারে তুলাধুনা হয় বোলিংও। ইনিংসের শেষ ওভারে অভিজ্ঞ পেসার জাহানারা আলম হজম করেন চার ছক্কা। নিজের শেষ দুই ওভারে মোট ছয়টি ছক্কা আসে তার বলে। ১৯তম ওভারে তরুণ পেসার মারুফা আক্তারের ওভারে ছক্কা আসে তিনটি। 

ভারতের হয়ে বিধ্বংসী ইনিংসে খেলে ৯ ছক্কায় ৫৬ বলে অপরাজিত ৯১ রানের ইনিংস খেলেন রিচা ঘোষ। 

ভারতের অধিনায়ক হারমানপ্রিত কৌর, তারকা ওপেনার স্মৃতি মান্ধানা খেলেননি এ দিন। বাংলাদেশের হয়ে খেলেননি অলরাউন্ডার রুমানা আহমেদ। 

টস জিতে ব্যাটিংয়ে নামা ভারত পাওয়ার প্লেতে ৩ উইকেট হারায় কেবল ৩৫ রান তুলে। মারুফা আক্তারের বলে ক্রিজ ছেড়ে বেরিয়ে খেলে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দেন ওপেনার ইয়াস্তিকা ভাটিয়া। আরেক ওপেনার শেফালি ভার্মা স্টাম্পড হন নাহিদা আক্তারের বাঁহাতি স্পিনে। জোরের ওপর করা সোজা ডেলিভারিতে নাহিদা এলবিডব্লিউ করে দেন তিনে নামা হারলিন দেওলকেও। 

পরের জুটিতে রিচা ঘোষ ও জেমিমা রদ্রিগেস ১১ ওভারে যোগ করেন ৯২ রান। শুরুতে একটু সময় নিয়ে থিতু হওয়ার পর তারা বইয়ে দেন রানের জোয়ার। 

জাহানারার বলে ছক্কার চেষ্টায় জেমিমা আউট হলে ভাঙে এই জুটি। ২৭ বল খেলে তিনি করেন ৪১ রান। তবে রিচার খুনে ব্যাটিং চলতে থাকে ইনিংসের শেষ পর্যন্ত। পুজা ভাস্ত্রাকার শেষ দিকে নেমে ২ ছক্কায় করেন ১৩ রান। 

শেষ ৫ ওভারে ভারত তোলে ৮৩ রান। মারুফার করা ১৯তম ওভার থেকে আসে ২১ রান, জাহানারার করা শেষ ওভার থেকে ২৫! 

বাংলাদেশের যা ব্যাটিং সামর্থ্য, তাতে এই রান ধরাছোঁয়ার বাইরে। কিন্তু ম্যাচ জমিয়ে তোলা কিংবা ভালো কোনো ইনিংস খেলা বা জুটি গড়তেও দেখা যায়নি কাউকে। 

ওপেনিংয়ে শামিমা সুলতানা আউট হয়ে যান তিনটি চার মেরে ১৫ রান করে। বাঁহাতি স্পিনার রাজেশ্বরি গায়কোয়াড়ের বলে ক্রিজ ছেড়ে বেরিয়ে খেলে তিনি ক্যাচ দেন পয়েন্টে। তিনে নামা সোবহানা মোস্তারি বোল্ড হয়ে যান দিপ্তী শর্মাকে স্লগ করতে গিয়ে। 

ওপেনার মুর্শিদা খাতুন ৫টি চার মারলেও ৩২ রান করতে বল খেলেন ৩২টি। মিডল অর্ডারে স্বর্ণা আক্তার, রিতু মনিরাও পারেননি টিকতে। সতীর্থদের ব্যর্থতার মাঝে কিছুটা ব্যাটিং অনুশীলন সেরে নেন নিগার। বাংলাদেশ অধিনায়ক ৪০ রান করেন ৩৬ বলে। 

প্রস্তুতি পর্ব শেষে এবার মূল লড়াইয়ের পালা। দক্ষিণ আফ্রিকা ও শ্রীলঙ্কার ম্যাচ দিয়ে শুক্রবার শুরু বিশ্বকাপ। বাংলাদেশের প্রথম ম্যাচ রোববার, শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে কেপ টাউনে। 

সংক্ষিপ্ত স্কোর: 

ভারত: ২০ ওভারে ১৮৩/৫ (ইয়াস্তিকা ১৯, শেফালি ৯, হারলিন ১০, রিচা ৯১*, জেমিমা ৪১, দেবিকা ১, পুজা ১৩*; জাহানারা ৪-০-৫৪-১, সালমা ৩-০-১৮-১, মারুফা ৪-০-৩৬-১, নাহিদা ৩-০-২৪-২, ফাহিমা ৩-০-২৫-০, রিতু মনি ২-০-১৩-০, স্বর্ণা ১-০-১৩-০)। 

বাংলাদেশ: ২০ ওভারে ১৩১/৮ (মুর্শিদা ৩২, শামিমা ১৫, সোবহানা ২, নিগার ৪০, স্বর্ণা ১, রিতু মনি ১১, লতা ৫, নাহিদা ২, ফাহিমা ২, জাহানারা ৫*; শিখা ৩-০-১৯-০, রাজেশ্বরি ৩-০-২০-১, অঞ্জলি ৩-০-২২-১, দিপ্তী ৩-০-১৫-১, রাধা ৩-০-১৭-১, দেবিকা ৩-০-২১-২, শেফালি ২-০-১৩-১)। 

ফল: ভারত ৫২ রানে জয়ী।