২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬ আশ্বিন ১৪৩৩

স্কুলের বিরুদ্ধে মামলা ২৭ বছরেই ক্রিকেট ছেড়ে দেওয়া পুকোভস্কির

সাবেক অস্ট্রেলিয়ান ব্যাটসম্যানের অভিযোগ, তার মাথায় গুরুতর আঘাত পাওয়ার ঘটনা স্কুল কর্তৃপক্ষ সঠিকভাবে সামাল দিতে পারেনি।

স্কুলের বিরুদ্ধে মামলা ২৭ বছরেই ক্রিকেট ছেড়ে দেওয়া পুকোভস্কির
উইল পুকোভস্কি। ফাইল ছবি: রয়টার্স

স্পোর্টস ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 25 Aug 2026, 11:16 PM

Updated : 11 Sep 2026, 03:54 PM

বারবার কনকাশনে আক্রান্ত হয়ে পেশাদার ক্রিকেট থেকে অবসর নিতে বাধ্য হওয়ার দেড় বছর পর নিজের এক পুরনো স্কুলের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিয়েছেন উইল পুকোভস্কি। মেলবোর্নের ব্রাইটন গ্রামার স্কুলের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন সাবেক অস্ট্রেলিয়ান ব্যাটসম্যান।

অস্ট্রেলিয়ান সংবাদমাধ্যম ‘দা এজ’ এর খবর, পুকোভস্কির ম্যানেজমেন্ট তাদের নিশ্চিত করেছে যে, মঙ্গলবার ভিক্টোরিয়ান সুপ্রিম কোর্টে এই মামলা করা হয়েছে। যেহেতু বিষয়টি আদালতে বিচারাধীন, তাই মেলবোর্নের উপকণ্ঠে অবস্থিত ছেলেদের বেসরকারি স্কুলটি এ ব্যাপারে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।

২৮ বছর বয়সী পুকোভস্কির অভিযোগ, ২০১৪ সালে ফুটবল খেলার সময় তার মাথায় প্রথম গুরুতর আঘাত পাওয়ার ঘটনা স্কুল কর্তৃপক্ষ সঠিকভাবে সামাল দিতে পারেনি। চিকিৎসকদের পরামর্শে গত বছর ক্রিকেট থেকে অবসর নেওয়ার আগে তিনি ১৩ বার কনকাশনে আক্রান্ত হন, যার মধ্যে ওই ঘটনাটি ছিল প্রথম।

১২ বছর আগে ফুটবল অনুশীলনের সময় দুর্ঘটনাবশত মাথায় অন্য একজনের হাঁটুর আঘাতে পুকোভস্কি অজ্ঞান হয়ে যান। এই বছরের শুরুতে লর্ডসে এক অনুষ্ঠানে ওই ঘটনার বিস্তারিত বলেন তিনি।

“আমাকে সাইডলাইনে নেওয়া হয়েছিল এবং এরপর আমার শুধু এটুকুই মনে আছে যে, কোচ আমার কাছে এসে জিজ্ঞেস করেন, ‘তুমি কি অনুশীলন চালিয়ে যেতে চাও?’ আমি বললাম, ‘হ্যাঁ’। তাই আমি গিয়ে বাকি দিনটা অনুশীলন করলাম। অদ্ভুতভাবে এটা সম্ভবত আমার জীবনের সবচেয়ে বড় দিন, কারণ সেই দিনের পর থেকে আমি আর আগের মতো অনুভব করিনি। আমি এমন একজন ছিলাম, যে সবকিছুই করত, সেখান থেকে আমি কোনোকিছু করা ছাড়াই দীর্ঘ সময় সোফায় বসে থাকার অবস্থায় চলে গেলাম।”

পরের সময়টা কত কঠিন ছিল, সেটিও তুলে ধরেন পুকোভস্কি।

“আমার চোখ ঝাপসা হয়ে যেত। মনে হতো ‘আমি দেখতে পাচ্ছি না’, ভাবতাম আমি হয়তো ক্লান্ত বা অবসন্ন বা অন্য কিছু, পরে দেখা গেল কনকাশনের কারণেই এমন হতো। পরের কয়েকদিন, আমার শরীর আরও খারাপ হতে শুরু করল, মাথাব্যথা আরও বাড়তে থাকল। পাঁচ-ছয় দিন পর, আমার সত্যিই খুব, খুব খারাপ লাগতে শুরু করল এবং মা-বাবা আমাকে হাসপাতালে নিয়ে গেলেন। মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যাগুলো খুব দ্রুতই শুরু হয়ে গেল।”

পরবর্তীতে তিনি ভিক্টোরিয়ার হয়ে শেফিল্ড শিল্ডে অসাধারণ একজন ব্যাটসম্যান হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেন নিজেকে। সেই পথ ধরে ২০২১ সালে ভারতের বিপক্ষে সিডনিতে তার টেস্ট অভিষেক হয়। প্রথম ইনিংসেই তার ব্যাট থেকে আসে ৬২। কিন্তু ওই টেস্টেই ফিল্ডিংয়ের সময় কাঁধে চোট পেয়ে মাঠ ছাড়তে হয় তাকে। এরপর আর কোনো টেস্ট খেলতে পারেননি। কনকাশন নামক শত্রু যে পিছু ছাড়েনি কখনোই! ২০১৮ সালে তিনি মানসিক স্বাস্থ্যের কারণেও ক্রিকেট থেকে বিরতি নেন।

২০২৪ সালে ভিক্টোরিয়ার হয়ে হোবার্টে শেফিল্ড শিল্ডের ম্যাচে তাসমানিয়ার রাইলি মেরেডিথের বাউন্সার ছোবল দেয় পুকোভস্কির হেলমেটে। শেষ পর্যন্ত এটিই হয়ে থাকে তার শেষ ম্যাচ। একটি স্বাধীন মেডিকেল প্যানেলের পরামর্শে ২০২৫ সালের মার্চে ২৭ বছর বয়সেই পেশাদার ক্রিকেট থেকে অবসর নেন তিনি।

অবসরের সময় এসইএন রেডিওতে পুকোভস্কি বলেন, “ওই (শেষ কনকাশন) আঘাত পাওয়ার পরের কয়েক মাস আমি কোনো কাজই ঠিকমতো করতে পারতাম না, বাড়ির ভেতরে হাঁটাচলা করাও ছিল কষ্টকর। আমার বাগদত্তা বিরক্ত ছিল, কারণ আমি বাড়ির কাজে কোনো সাহায্য করতাম না। আমি প্রচুর ঘুমাতাম।”

গত ১০ বছরে খেলাধুলায় কনকাশন সংক্রান্ত নিয়মকানুন দ্রুত উন্নত হয়েছে। আইসিসি ২০১৯ সালে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে প্রথমবার কনকাশন বদলি ব্যবহারের অনুমোদন দেয়। একই বছরে অ্যাশেজে জফ্রা আর্চারের বাউন্সারে স্টিভেন স্মিথ ভূপাতিত হওয়ার পর টেস্ট ম্যাচে প্রথম কনকাশন বদলি হিসেবে মাঠে নামেন মার্নাস লাবুশেন।