১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

নাওয়াজের হ্যাটট্রিক, আফগান ব্যাটিং গুঁড়িয়ে চ্যাম্পিয়ন পাকিস্তান

বাঁহাতি স্পিনে দারুণ বোলিংয়ে পাঁচ উইকেট নিলেন মোহাম্মদ নাওয়াজ, প্রথম পর্বে আফগানিস্তানের বিপক্ষে হারের বদলা নিয়ে ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনালে জিতল পাকিস্তান।

নাওয়াজের হ্যাটট্রিক, আফগান ব্যাটিং গুঁড়িয়ে চ্যাম্পিয়ন পাকিস্তান
মোহাম্মদ নাওয়াজের আরেকটি উইকেট, তাকে ঘিরে সতীর্থদের উল্লাস। ছবি: পাকিস্তান ক্রিকেট টিম ফেইসবুক

স্পোর্টস ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 08 Sep 2025, 04:21 AM

Updated : 26 Aug 2026, 02:15 PM

স্পিনারদের জন্য আদর্শ উইকেট। বল টার্ন ও গ্রিপ করল বেশ। ভালো বোলিং করলেন দুই দলের স্পিনাররাই। যেখানে সবচেয়ে উজ্জ্বল নাম মোহাম্মদ নাওয়াজ। তার স্পিন বিষে নীল হলো আফগানিস্তানের ব্যাটিং। বড় জয়ে ত্রিদেশীয় টি-টোয়েন্টি সিরিজের ট্রফি জিতল পাকিস্তান।

শারজাহ ক্রিকেট স্টেডিয়ামে রোববার ফাইনালে পাকিস্তানের জয় ৭৫ রানে। ১৪১ রানের পুঁজি নিয়ে আফগানদের স্রেফ ৬৬ রানে গুটিয়ে দিয়েছে সালমান আলি আগার দল।

পাকিস্তানের নায়ক মোহাম্মদ নাওয়াজ। দেশটির তৃতীয় বোলার হিসেবে এই সংস্করণে হ্যাটট্রিক করেছেন তিনি। চার ওভারে একটি মেডেনে ১৯ রানে ৫ উইকেট নিয়েছেন বাঁহাতি এই স্পিনিং অলরাউন্ডার। তার আগে ব্যাট হাতে ২ ছক্কায় খেলেছেন ২১ বলে ২৫ রানের ইনিংস। 

পাঁচ উইকেটের স্বাদ পেলেন তিনি প্রথমবার। ৫ রানে ৩ উইকেট ছিল তার আগের সেরা বোলিং।

টি-টোয়েন্টিতে নিজেদের দ্বিতীয় সর্বনিম্ন রানে গুটিয়ে যাওয়ার তেতো অভিজ্ঞতা হলো আফগানিস্তানের। ২০২৪ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সেমি-ফাইনালে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ৫৬ রান তাদের সর্বনিম্ন।

বোলিংয়ে পাকিস্তানের সুর বেঁধে দেন পেসার শাহিন শাহ আফ্রিদি। প্রথম ওভারে রাহমানউল্লাহ গুরবাজকে বিদায় করে দেন তিনি। পরের ৯ উইকেটের সবকটি নেন স্পিনাররা। 

পঞ্চম ওভারে লেগ স্পিনার আবরার আহমেদের শিকার সেদিকউল্লাহ আটাল। পরের ওভারে প্রথমবার বোলিংয়ে এসে শেষ দুই বলে দারভিশ রাসুলি ও আজমাতউল্লাহ ওমারজাইকে ফিরিয়ে দেন নাওয়াজ। নিজের পরের ওভারের প্রথম বলে ইব্রাহিম জাদরানকে স্টাম্পিংয়ের ফাঁদে ফেলে হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন তিনি।

পাকিস্তানের হয়ে নাওয়াজের আগে এই স্বাদ পেয়েছেন ২০১৭ সালে ফাহিম আশরাফ ও ২০১৯ সালে মোহাম্মদ হাসনাইন।  

ওই ওভারে কোনো রান না দিয়ে কারিম জানাতের উইকেটও নেন নাওয়াজ। তার বোলিং ফিগার তখন ২-১-১-৪!

অষ্টম ওভারে ৩২ রানে ৬ উইকেট হারিয়ে ফেলে আফগানিস্তানের জন্য এরপর অপেক্ষা ছিল কেবল অলআউট হওয়ার। ১০ বলে ৩ রান করে বিদায় নেন মোহাম্মাদ নাবি। নিজের শেষ ওভারে রাশিদ খানকে আউট করে পাঁচ উইকেট পূর্ণ করেন নাওয়াজ। 

শেষ দুটি উইকেট নিয়ে দলের জয় নিশ্চিত করেন বাঁহাতি রিস্ট স্পিনার সুফিয়ান মুকিম।

শেষটা ভালো হলেও পাকিস্তানের ব্যাটিংয়ের শুরুটা ভালো ছিল না। টস জিতে ব্যাটিংয়ে নেমে ম্যাচের তৃতীয় বলে শূন্য রানে বিদায় নেন সাহিবজাদা ফারহান।

দ্বিতীয় উইকেটে ৪৯ রানের জুটিতে দলকে এগিয়ে নেন সাইম আইয়ুব ও ফখার জামান। কিন্তু এ জুটি ভাঙার পর ধস নামে পাকিস্তানের ব্যাটিংয়ে। ১ উইকেটে ৪৯ থেকে তাদের স্কোর হয়ে যায় ৫ উইকেটে ৭২।

সাইম ১৯ বলে করেন ১৭ রান, ফাখার ২৬ বলে ২৭। হাসান নাওয়াজ ও মোহাম্মদ হারিসের দ্রুত বিদায়ের পর সালমান (২৭ বলে ২৪), মোহাম্মদ নাওয়াজ (২১ বলে ২৫) ও ফাহিম আশরাফের (৮ বলে ১৫) সৌজন্যে ১৪১ পর্যন্ত যেতে পারে পাকিস্তান। 

সেই পুঁজিই যথেষ্ট হলো জয়ের জন্য। প্রথম পর্বে আফগানিস্তানের বিপক্ষে দ্বিতীয় ম্যাচে হারের বদলা নিয়ে ট্রফির ছোঁয়া পেল পাকিস্তান। এই সাফল্য আসন্ন এশিয়া কাপে নিশ্চিতভাবে আত্মবিশ্বাস বাড়াবে তাদের।

শারজাহতে এই সিরিজের সাত ম্যাচের সবকটিতে জিতল আগে ব্যাটিং করা দল!

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

পাকিস্তান: ২০ ওভারে ১৪১/৮ (সাহিবজাদা ০, সাইম ১৭, ফাখার ২৭, সালমান ২৪, হাসান নাওয়াজ ১৫, হারিস ২, মোহাম্মদ নাওয়াজ ২৫, ফাহিম ১৫, আফ্রিদি ২*, মুকিম ০*; ফারুকি ৩-০-১৯-২, ওমারজাই ১-০-৫-০, গাজানফার ৪-০-২৭-১, নাবি ৪-০-২৮-০, নুর ৪-০-১৭-২, রাশিদ ৪-০-৩৮-৩)

আফগানিস্তান: ১৫.৫ ওভারে ৬৬ (গুরবাজ ৫, সেদিকউল্লাহ ১৩, ইব্রাহিম ৯, রাসুলি ০, ওমারজাই ০, নাবি ৩, জানাত ০, রাশিদ ১৭, নুর ৩, গাজানফার ৭, ফারুকি ২*; আফ্রিদি ২-০-৭-১, আবরার ৪-০-১৭-২, সাইম ৩-০-১০-০, মোহাম্মদ নাওয়াজ ৪-১-১৯-৫, মুকিম ২.৫-০-৯-২) 

ফল: পাকিস্তান ৭৫ রানে জিতে চ্যাম্পিয়ন

ম্যান অব দা ম্যাচ: মোহাম্মদ নাওয়াজ

ম্যান অব দা সিরিজ: মোহাম্মদ নাওয়াজ