সল্টের বিধ্বংসী ইনিংসে পাকিস্তানকে গুঁড়িয়ে সমতায় ইংল্যান্ড

সিরিজের ষষ্ঠ টি-টোয়েন্টিতে সহজেই ৮ উইকেটে জিতল ইংলিশরা।

স্পোর্টস ডেস্কবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 30 Sept 2022, 05:54 PM
Updated : 30 Sept 2022, 05:54 PM

শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত খেলে দারুণ এক ইনিংসে পাকিস্তানকে লড়াইয়ের পুঁজি এনে দিলেন বাবর আজম। কিন্তু দলটির বোলাররা ন্যূনতম লড়াইও করতে পারল না। ব্যাটকে তরবারি বানিয়ে তাদের স্রেফ কচুকাটা করলেন ফিল সল্ট। তার বিস্ফোরক ইনিংসে অনায়াস জয়ে সিরিজে সমতা ফেরাল ইংল্যান্ড।

লাহোরে শুক্রবার ষষ্ঠ টি-টোয়েন্টিতে পাকিস্তানের বিপক্ষে ইংল্যান্ডের জয় ৮ উইকেটে। ১৭০ রানের লক্ষ্য ইংলিশরা পেরিয়ে যায় ৩৩ বল হাতে রেখে।

এই সংস্করণে ১৭০ বা এর বেশি রানের লক্ষ্য তাড়ায় বল হাতে রেখে দ্বিতীয় বড় জয় এটি। ২০১৪ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে সিলেটে আয়ারল্যান্ডের ১৮৯ রান ৬ উইকেট ও ৩৭ বল হাতে রেখে পেরিয়ে গিয়েছিল নেদারল্যান্ডস।

সাত ম্যাচের সিরিজে এখন ৩-৩ সমতা। একই মাঠে আগামী রোববার শেষ ম্যাচটা তাই অলিখিত ‘ফাইনাল’। 

৫৯ বলে ৭ চার ও ৩ ছক্কায় ৮৭ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেন পাকিস্তান অধিনায়ক বাবর। তাকে ছাপিয়ে ৪১ বলে ৮৮ রানের অপরাজিত ইনিংসে ম্যাচের সেরা সল্ট। এই ওপেনারের ক্যারিয়ার সেরা ইনিংসটি গড়া ১৩ চার ও ৩ ছক্কায়। 

আগের ম্যাচে পিঠে সমস্যা অনুভব করা কিপার-ব্যাটসম্যান মোহাম্মদ রিজওয়ানকে এ দিন বিশ্রাম দেয় পাকিস্তান। বাইরে রাখা হয় পেসার হারিস রউফকেও। 

টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে পাকিস্তানের শুরুটা ভালো ছিল না। অভিষিক্ত মোহাম্মদ হারিস ছক্কায় রানের খাতা খোলার পর আদিল রশিদকে ক্যাচ অনুশীলন করিয়ে বিদায় নেন ৭ রান করে। তিন নম্বরে নেমে শূন্য রানে ফেরেন শান মাসুদ। 

১৫ রানে ২ উইকেট হারানো দলকে এগিয়ে নেন বাবর ও হায়দার আলি। তৃতীয় উইকেটে দুজনে গড়েন ৩২ বলে ৪৭ রানের জুটি। 

১৪ বলে একটি করে চার-ছক্কায় হায়দার করেন ১৮ রান। রানের গতিতে দম দেন এরপর ইফতিখার আহমেদ। ২টি করে চার ও ছক্কায় ২১ বলে তিনি করেন ৩১ রান। 

৪১ বলে ফিফটি করে এগিয়ে যান বাবর। রিচার্ড গ্লিসনকে ছক্কায় উড়িয়ে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে দ্রুততম তিন হাজার রানের রেকর্ডে বিরাট কোহলির পাশে বসেন তিনি, ৮১ ইনিংসে। 

Also Read: দ্রুততম ৩ হাজারে কোহলির পাশে বাবর

রিস টপলির শেষ ওভারে পাকিস্তান তোলে ২০ রান। প্রথম দুই বলে চার-ছক্কা মারেন বাবর। পঞ্চম বলে ছক্কা মেরে শেষ বলে আউট হন মোহাম্মদ নাওয়াজ। 

৪ ওভারে ২৬ রানে ২ উইকেট নিয়ে ইংল্যান্ডের সফলতম বোলার স্যাম কারান।

রান তাড়ায় অ্যালেক্স হেলস ও সল্টের ব্যাটে উড়ন্ত সূচনা পায় ইংল্যান্ড। নাওয়াজের করা ইনিংসের প্রথম বলে চার মেরে শুরু করেন সল্ট, এক বল পর আরেকটি।

পরের ওভারে ঝড় বয়ে যায় শাহনাওয়াজ দাহানির ওপর দিয়ে। দুই ওপেনারই মারেন একটি করে চার ও ছক্কা। ওভারে আসে ২২ রান। পরের ওভারে মোহাম্মদ ওয়াসিমকে টানা তিনটি চার মারেন হেলস। 

তিন ওভারেই ইংল্যান্ডের রান স্পর্শ করে পঞ্চাশ! 

পরের ওভারে হেলস বিদায় নেন ১২ বলে ২৭ রান করে। পঞ্চম ওভারে নাওয়াজকে তিনটি চারের সঙ্গে একটি ছক্কা মারেন সল্ট। 

পাওয়ার প্লের ৬ ওভারে ইংল্যান্ডের রান ছিল ১ উইকেটে ৮২। 

সল্ট ফিফটি তুলে নেন স্রেফ ১৯ বলে। ইংল্যান্ডের কোনো ব্যাটসম্যানের যা তৃতীয় দ্রুততম। 

দ্বিতীয় উইকেটে দাভিদ মালানের সঙ্গে তিনি ৭৩ রানের জুটি গড়েন স্রেফ ৩৪ বলে। মালান ১৮ বলে ৫ চারে ২৬ রান করে এলবিডব্লিউ হন শাদাব খানের বলে। 

বেন ডাকেটের সঙ্গে অবিচ্ছিন্ন ৪২ রানের জুটিতে বাকিটা সারেন সল্ট। ১৬ বলে ৪টি চারে ২৬ রানে অপরাজিত থাকেন ডাকেট। 

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

পাকিস্তান: ২০ ওভারে ১৬৯/৬ (বাবর ৮৭*, হারিস ৭, মাসুদ ০, হায়দার ১৮, ইফতিখার ৩১, আসিফ ৯, নাওয়াজ ১২*; টপলি ৪-০-৩১-১, উইলি ৪-০-৩২-২, গ্লিসন ৪-০-৩৯-১, কারান ৪-০-২৬-২, রশিদ ৪-০-৩৮-০)

ইংল্যান্ড: ১৪.৩ ওভারে ১৭০/২ (সল্ট ৮৮*, হেলস ২৭, মালান ২৬, ডাকেট ২৬*; নাওয়াজ ৪-০-৪৩-০, দাহানি ২-০-৩৩-০, ওয়াসিম ২.৩-০-২৯-০, শাদাব ৪-০-৩৪-২, জামাল ২-০-৩০-০)

ফল: ইংল্যান্ড ৮ উইকেটে জয়ী

সিরিজ: ৭ ম্যাচের সিরিজে প্রথম ছয় ম্যাচের পর ৩-৩ সমতা

ম্যান অব দা ম্যাচ: ফিল সল্ট

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক