নাশতার টেবিল, টিম বাস, অনুশীলন-মুশফিকের পেশাদারিত্বে মুগ্ধ আইরিশ কোচ
বাংলাদেশে মাত্র কয়েকদিনের উপস্থিতিতেই মুশফিকুর রহিমের পরিশ্রম ও পেশাদারিত্বের নমুনা দেখে ফেলেছেন আয়ারল্যান্ডের কোচ হাইনরিখ মালান।
বাংলাদেশের হয়ে টেস্ট খেলার সেঞ্চুরি ছোঁয়ার অপেক্ষায় এখন মুশফিকুর রহিম। এই সেঞ্চুরি মানে স্রেফ পরিসংখ্যান নয়, বরং বছরের পর বছর ধরে কঠিন শৃঙ্খলা, নিবেদন আর নিষ্ঠার প্রতিচ্ছিবি এটি। কাছ থেকে এসব দেখে অল্প সময়েই তা ছুঁয়ে গেছে আয়ারল্যান্ডের কোচ হাইনরিখ মালানকে।
মুশফিকের শততম টেস্টের দুই দিন আগে সোমবার অনুশীলনের পর সংবাদ সম্মেলনে মালান বললেন, মুশফিকের প্রতিদিনের প্রস্তুতির চেনা ছবি নজর কেড়েছে তারও।
‘‘আমি মনে করি তার পেশাদারিত্ব (শেখার মতো)। আমি ভোরে উঠি এবং প্রতিদিন সকাল ৬টা ৪৫ মিনিটে তাকে নাস্তা করতে দেখি। তারপর সে সবার আগে বাসে ওঠে যায়, মাঠে চলে যায় এবং অন্যরা মাঠে আসার আগেই গা গরম করে, স্ট্রেচিং করে ব্যাটিং অনুশীলন করে দেয়।”
“আমার মনে হয়, যদি কেউ ধারাবাহিকভাবে পর্দার আড়ালে এমন পরিশ্রম করে যায় দিন-রাত, তখন জানা থাকে, সময়টা এলে পারফর্ম করার রসদ জমা আছে। সেটা দীর্ঘ সময় ধরে প্রমাণও করেছে।’’
মুশফিকের শততম টেস্ট শুধু তার ব্যক্তিগত মাইফলকই নয়, গোটা বাংলাদেশ ক্রিকেটের জন্যই উদযাপনের এক উপলক্ষ। তার এই অর্জনকে রাঙানোর নানা আয়োজন রাখছে বিসিবি। সেই উৎসবের অংশ হতে
মিরপুর টেস্ট আয়ারল্যান্ডের কাছে বড় পরীক্ষা। সিলেট টেস্টের ভুল থেকে শিখে আরও ভালোভাবে লড়াই নামিয়ে আনার। তবুও প্রতিপক্ষের এক ক্রিকেটারের শততম টেস্টের সামনে সম্মান জানাতে ভোলেননি মালান।
‘‘প্রথমত, দেশের জন্য ১০০টি টেস্ট ম্যাচ খেলা একটি বিশাল অর্জন। আমরা মাত্র ১০টি টেস্ট খেলেছি। স্থায়ীত্ব বলতে কী বোঝায়, কঠোর পরিশ্রম মানে কী, সেসব ফুটিয়ে তোলে এটি।”
“এটির সঙ্গে চারশ-পাঁচশ প্রস্তুতি পর্বও যোগ করুন, এত বছর ধরে যা সে করেছে। আমাদের জন্য তাই ব্যাপারটি হলো উপলব্ধির যে, টেস্ট ক্রিকেট কতটা পরিশ্রমের। আশা করি, এই পাঁচ দিন তার খুব ভালো কাটবে না। তবে ১০০ টেস্ট খেলার জন্য তাকে অভিনন্দন।”
২০২৩ সালে মিরপুরে একটি টেস্ট খেলে গেছে আয়ারল্যান্ড। মিরপুর নিয়ে আলোচনাও এত বেশি হয়ে থাকে যে, এখানকার উইকট-কন্ডিশনের ছবিটা তাদের মোটামুটি পরিষ্কার। সিলেট টেস্টে চারদিনেই ইনিংস ব্যবধানে হেরে যাওয়া কোচের চাওয়া, এখানে যেন লড়াইটা অন্তত জমাতে পারে তার দল।
‘‘দেখুন, আমাদের জন্য আবার এখানে আসতে পারাটা একটা দারুণ সুযোগ। যেমনটা বললেন, আমরা এখানে প্রথম ম্যাচ খেলেছিলাম ২০২৩ সালে। কন্ডিশন কেমন হবে, সে সম্পর্কে আমাদের একটা ভালো ধারণা আছে। গত সপ্তাহে আমরা সিলেটে খেলেছি, সেখান থেকে পাওয়া শিক্ষা সামনে বয়ে নেওয়ার ব্যাপার আছে।”
“আশা করি, আমরা ঘুরে দাঁড়াতে পারব এবং এমনভাবে লড়াই করতে পারব, যেন আমাদের অস্তিত্বের প্রমাণ দিতে পারি।”
