নতুনত্বের জাতীয় লিগের শুরুতে অল্পের জন্য সেঞ্চুরি পেলেন না কালাম ও মিঠুন
চমকপ্রদ কিছু পরিবর্তন নিয়ে শুরু হলো প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে দেশের মূল টুর্নামেন্ট জাতীয় ক্রিকেট লিগের নতুন মৌসুম।
প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে মোহাম্মদ মিঠুনের যখন অভিষেক, কালাম সিদ্দিকি আলিনের তখন জন্মই হয়নি। দুজনের বয়সের ব্যবধান প্রায় ১৬ বছরের। একজন পৌঁছে গেছেন ক্যারিয়ারের শেষ বেলায়, আরেকজনের এখনও চলছে হাঁটি হাঁটি পা পা। এজনের এটি ১৪৫তম ম্যাচ, আরেকজনের চতুর্থ। খুলনার দুই প্রজন্মের এই দুজন মিলে গড়লেন দারুণ এক জুটি। তবে দুজনের শেষটা হলো একই হতাশায়। কাছে গিয়েও শতরানের স্বাদ পেলেন না দুজন।
জাতীয় ক্রিকেট লিগের নতুন মৌসুম শুরুর দিনে সেঞ্চুরি করতে পারেননি কেউ, কারও নেই ৫ উইকেট। তবে ওই দুজন ছাড়াও ভালো ইনিংস খেলেছেন রাজশাহীর হাবিবুর রহমান সোহান, সাব্বির হোসেন এবং ময়মনসিংহের মাহফিজুল ইসলাম রবিন।
এবারের জাতীয় লিগকে আকর্ষণীয় করতে বেশ কিছু উদ্যোগ ছিল আগেই। সব দলকে দেওয়া হয় নিজস্ব রংয়ের ব্যাগি ক্যাপ। সেই আয়োজন ছিল কয়েক দিন আগে। ২৮ আসরে প্রথমবার সব দলকে দেওয়া হয় নিজস্ব হেলমেটও। টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী দিনে শনিবার চার মাঠেই আট অধিনায়ক টস করতে নামেন টেস্ট ম্যাচের মতোই নিজস্ব রংয়ের ব্লেজার গায়ে চাপিয়ে। মাঠের লড়াই শুরুর আগে আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনও হয় সব মাঠে।
ঢাকা-রংপুর
দেশের প্রধান ক্রিকেট ভেন্যু মিরপুর শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামে ব্যাট-বলের লড়াই ছিল বেশ জমজমাট। প্রথম দিনে এগিয়ে রাখা যাচ্ছে না কোনো দলকে। ঢাকা বিভাগের বিপক্ষে রংপুর বিভাগের রান ৬ উইকেটে ২২৯।
শুরুটা যেমন ছিল, তাতে দিন শেষের স্কোরে হতাশই হবে রংপুর। টস হেরে ব্যাটিংয়ে নামা বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা উদ্বোধনী জুটিতে তোলে ১১৪ রান। ফিফটি করে দুই ওপেনার অনিক সরকার সেতু ও মিম মোসাদ্দেক।
জমাট শুরুর পর দুজনকে এক ওভারেই ফেরান ঢাকার পেসার এনামুল হক। পঞ্চাশ ছুঁয়েই আউট হন অনিক, ৬৩ রানে ফেরেন মোসাদ্দেক।
একটু পরই রান আউট হন তিনে নামা ইকবাল হোসেন। চতুর্থ উইকেটে আব্দুল্লাহ আল মামুন ও আকবর আলি জুটি গড়ার চেষ্টা করলেও ইনিংস বড় করতে পারেননি কেউ।
ঘরোয়া ক্রিকেটে ওপরের দিকে ব্যাট করেন না বলে একটা অভিযোগ আছে আকবরকে নিয়ে। রংপুর অধিনায়ক পাঁচে নেমে আউট হন ২৬ রানে।
এরপর চৌধুরি মোহাম্মদ রিজওয়ান একপ্রান্ত আগলে রাখলেও অভিজ্ঞ মাহমুদুল হাসান আউট হয়ে যান দিনের শেষ বেলায়। রিজওয়ান অপরাজিত থাকেন ৩৮ রানে।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
রংপুর ১ম ইনিংস: ৮৬ ওভারে ২২৯/৬ (অনিক ৫০, মিম ৬৩, ইকবাল ১, আল মামুন ২২, আকবর ২৬, রিজওয়ান ৩৮*, মাহমুদুল ১৯, আলাউদ্দিন ৫*; সুমন ১৭-৪-৬৪-১, রিপন ১৬-২-৪২-০, এনামুল ১২-২-৩৩-১, আরিফ ২৬-৭-৫৩-১, তাইবুর ৫-১-৭-০, আমিনুল ১০-০-২৭-১)।
চট্টগ্রাম-রাজশাহী
অনেকটা মিরপুরের চিত্র ছিল চট্টগ্রামেও। প্রথম দিনে চট্টগ্রামের বিপক্ষে রাজশাহীর রান ৬ উইকেটে ২৯০। স্কোর দেখে হয়তো রাজশাহীকে এগিয়ে রাখা যায়, কিন্তু দুর্দান্ত শুরুর পর ৬টি উইকেট হারানোয় তাদের হতাশই হওয়ার কথা।
টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে হাবিবুর রহমান সোহান ও সাব্বির হোসেন উদ্বোধনী জুটিতে তোলেন ১২৭ রান। দুজনই ছিলেন স্বভাবজাত আগ্রাসী। ৯ চার ও ২ ছক্কায় ৯৬ বলে ৭১ রানে আউট হন সাব্বির।
৮ চার ও ২ ছক্কায় সোহান করেন ৭৫। দেশের ক্রিকেটে তার পরিচিত মূলত সীমিত ওভারের বিশেষজ্ঞ হিসেবে। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ১১ ম্যাচে তার ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ এটি।
ভালো ব্যাট করছিলেন তিনে নামা নাঈম আহমেদও। তবে অধিনায়ক প্রিতম কুমার ফেরেন ১০ রানেই। নাঈমের ইনিংস থামে ৪৫ রানে।
অভিজ্ঞ সাব্বির রহমান নিজের মতো শুরু করলেও আউট হয়ে যান ৫ চারে ৩৮ বলে ৩৫ রান করে।
রাজশাহী ১ম ইনিংস: ৮১ ওভারে ২৯০/৬ (সোহান ৭৫, সাব্বির হোসেন ৭১, নাঈম ৪৫, প্রিতম ১০, সাব্বির রহমান ৩৫, মেহেরব ১৫, শাকির ১৪*, সানজামুল ১৮*; ফাহাদ ৯-০-৫১-০, ইফরান ১২-০-৫৩-০, মুরাদ ২৬-৬-৬৩-২, আশিক ১৩-৩-৫২-২, আশরাফুল ১২-২-৪৬-১, জয় ৯-৩-২১-০)।
খুলনা-বরিশাল
প্রথম দিনের চার ম্যাচে একমাত্র তিনশ ছাড়াতে পারে খুলনা। ঘরের মাঠে টেস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে দিন শেষ করে তারা ৫ উইকেটে ৩২৮ রানে।
ওপেনিংয়ে অভিজ্ঞ এনামুল হক ফেরেন ১৬ রানেই। তার সঙ্গী আজিজুল হাকিম ভালো কিছুর আভাস দিয়ে বিদায় নেন ৫ চারে ৩১ করে।
তৃতীয় উইকেটে ১৫০ রানের জুটি গড়েন কালাম ও অধিনায়ক মিঠুন। অনেকটা ওয়ানডের গতিতে ব্যাট করেছেন মিঠুন, কালামও ছিলে সাবলিল।
মিঠুন আগে শতরানে পৌঁছে যাবেন বলেই মনে হচ্ছিল। কিন্তু বাঁহাতি পেসার রুয়েল মিয়ার শর্ট বল পুল করে তিনি তুলে দেন সীমানার ফিল্ডারের হাতে। ১২ চারে ১২৬ বলে ৮৯ রানে আউট হন ৩৫ বছর বয়সী ব্যাটসম্যান। আউট হয়ে নিজের ওপর হতাশায় কোমরে হাত দিয়ে কিছুক্ষণ ক্রিজে দাঁড়িয়ে থাকেন তিনি।
কালামের রান তখন ছিল ৬১। পরে মিঠুনকে ছাড়িয়ে তিনি এগিয়ে যান শতরানের দিনে। জুটি ভাঙার জন্য বল হাতে নিয়ে দ্বিতীয় ডেলিভারিতেই সফল হন ইফতিখার হোসেন ইফতি। বরিশাল অধিনায়কের জেন্টল মিডিয়াম পেসে ব্যাট-প্যাডের ফাঁক গলে বোল্ড হন ৯২ রান করা কালাম। আউট হয়ে তিনিও মিঠুনের মতো ক্রিজে দাঁড়িয়ে থাকেন।
পঞ্চম উইকেটে ৮১ রানের জুটি গড়েন আফিফ হোসেন ও নুরুল হাসান সোহান। আগ্রাসী ব্যাটিংয়ে ৭ চার ও ১ ছক্কায় ৫৪ বলে ৪৭ করে সোহান ফেরেন শেষ বিকেলে। আফিফ অপরাজিত থাকেন ৪৪ রানে।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
খুলনা ১ম ইনিংস: ৮৬ ওভারে ৩২৮/৫ (এনামুল ১৬, আজিজুল ৩১, কালাম ৯২, মিঠুন ৮৯, আফিফ ৪৪*, সোহান ৪৭, সামিউন ৬*; রুয়েল ১৭-১-৩৮-৩, তৌহিদুল ১৩-১-৬১-০, শহিদুল ১২-১-৩৯-১, তানভির ২৪-০-৯৩-০, মইন ১৫-১-৬৭-০, ইফতি ৩-০-২২-১, জাওয়াদ ২-০-৮-০)।
সিলেট-ময়মনসিংহ
এই ম্যাচেও কোনো এক দলকে প্রথম দিনে এগিয়ে রাখা কঠিন। সিলেটের বিপক্ষে ৭ উইকেটে ২৭৩ রান তোলে জাতীয় লিগের নবতম দল ময়মনসিংহ।
সিলেটে টস হেরে ব্যাটিংয়ে নামা ময়মনসিংহের প্রথম সাত ব্যাটসম্যানের ছয়জন ২৫ ছুঁলেও ফিফটি করতে পারেন কেবল মাহফিজুল ইসলাম রবিন।
৬ চার ও ৩ ছক্কায় ৭০ রান করা মাহফিজুলকে ফিরিয়ে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে প্রথম উইকেটের স্বাদ পান অভিষিক্ত পেসার অনিক দেব বার্মা।
অভিজ্ঞ আব্দুল মাজিদ ফেরেন ফিফটির কাছে গিয়ে। থিতু হয়েও ইনিংস টানতে পারেননি আরিফুল ইসলাম ও আল আমিন। একই পথের পথিক তরুণ অলরাউন্ডার রিজান হোসেনও। এসবের মধ্যেই পাল্টা আক্রমণে আবু হায়দার অপরাজিত আছে তিনটি করে চার ও ছক্কায় ৪৬ রান করে।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
ময়মনসিংহ ১ম ইনিংস: ৮৮ ওভারে ২৭৩/৭ (মাহফিজুল ৭০, খালিদ ৯, আরিফুল ২৮, মজিদ ৪৬, আল আমিন ৩০, রিজান ২৫, আবু হায়দার ৪৬*, ফাহিম ৬, রকিবুল ৬*; তারেক ১০-১-২৯-০, অনিক ১০-১-৩৪-১, তোফায়েল ১৬-৬-৩৪-১, নাঈম ২১-১-৭৯-২, নাবিল ২৮-০-৯২-২, গালিব ৩-১-২-০)।
