১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২ আশ্বিন ১৪৩৩

অনুমোদন পেল তামিমের স্বপ্নের এক্সিলেন্স সেন্টার, কাজ শুরু ‘শিগগিরই’

আড়াই থেকে তিন বছরে কাজ শেষ করার লক্ষ্য, ‘বাংলাদেশ ক্রিকেটের জন্য একটি বড় মাইলফলক হবে’, বললেন বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবাল।

ক্রীড়া প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 29 Jul 2026, 10:51 PM

Updated : 11 Sep 2026, 03:45 PM

“কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় যেটা আমি মনে করি…”, সংবাদ সম্মেলনের শুরুতেই তামিম ইকবালের কণ্ঠের উত্তেজনা ফুটে উঠছিল স্পষ্টই। সেই রোমাঞ্চ নিয়েই বিসিবি সভাপতি জানালেন, যে এক্সিলেন্স সেন্টারের স্বপ্ন তিনি দেখে আসছেন, সেটি বোর্ডের আনুষ্ঠানিক অনুমোদন পেয়েছে। সম্পূর্ণ বিসিবির অর্থায়নে এটি কাজও শুরু হয়ে যাবে দ্রুতই।

টেস্ট মর্যাদা পাওয়ার ২৬ বছর পেরিয়ে গেলেও দেশের ক্রিকেট অবকাঠামোয় একটি বড় এক শূন্যতা একাডেমি কিংবা এক্সিলেন্স সেন্টারের অভাব। মিরপুর শের-ই-বাংলা স্টেডিয়াম আঙিনায় বিসিবি একাডেমি ভবন থাকলেও আদতে সেটি একটি হোস্টেল। একাডেমির কোনো কার্যক্রম নেই। 

নাজমুল হাসান পাপন বোর্ড সভাপতি থাকার সময় পূর্বাচলে ক্রিকেট স্টেডিয়ামের পাশাপাশি একাডেমিসহ পূর্ণাঙ্গ একটি কমপ্লেক্স গড়ার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছিল। তবে বেশ কয়েক বছরেও সেটি বাস্তবতার রূপ পায়নি। 

বিসিবির অন্তবর্তীকালীন সভাপতি থাকার সময়ই তামিম বলেছিলেন, একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ ও আন্তর্জাতিক মানের এক্সিলেন্স সেন্টারের স্বপ্ন দেখেন তিনি। এরপর নির্বাচনে জিতে সভাপতি হয়ে দেড় মাসেই সেটি বাস্তবায়নের পথে বড় পদক্ষেপ নিলেন তিনি। 

বিসিবি পরিচালনা পর্ষদের সভা শেষে বুধবার সংবাদ সম্মেলনে সেই অগ্রগতি তুলে ধরলেন তামিম। 

“আজকে কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় যেটা আমি মনে করি, বাংলাদেশ ক্রিকেটের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত, তা হলো আমরা এক্সিলেন্স সেন্টার তৈরির কাজ শুরু করতে যাচ্ছি। আমরা আজকে এটার অনুমোদন পেয়েছি এবং খুব দ্রুতই কাজ শুরু করে দেব।”

অস্ট্রেলিয়ান প্রতিষ্ঠান পপুলাসকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল পূর্বাচলে ক্রিকেট স্টেডিয়ামসহ পূর্ণাঙ্গ কমপ্লেক্সের ডিজাইন তৈরি করতে। ডিজাইন তারা তৈরিও করেছিল, সেখানে নানা পরিবর্তন আনা হয়েছে নানা সময়ে। তামিমের বোর্ডও সেই প্রতিষ্ঠানের ওপরই দায়িত্ব দিচ্ছে, তবে ডিজাইনে পরিবর্তন আনা হচ্ছে আবার।

“আপনারা জানেন যে কয়েক বছর আগে পপুলাস এটার ডিজাইন করেছিল। গত ২২ তারিখে তাদেরকে আমন্ত্রণ করে একটি বৈঠক করা হয়েছে। তাদের ডিজাইনের ওপর ভিত্তি করে এক্সিলেন্স সেন্টার এবং স্টেডিয়ামের কিছু পরিবর্তন আনা হবে। 

আমি আগেও বলেছি যে, আমরা যে এক্সিলেন্স সেন্টারের স্বপ্ন দেখি, আগের ডিজাইনটি সেটার সঙ্গে পুরোপুরি মিলছিল না। তাই আমরা পপুলাসকে এটি রি-ডিজাইন করতে বলেছি। তাদের ৯ লাখ ডলারের একটি পেমেন্ট পেন্ডিং ছিল, সেটা নিয়েও আলোচনা হয়েছে। ডিজাইন পাওয়ার পর আমরা পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেব। তবে বোর্ড একমত হয়েছে যে, বিসিবির ফান্ড ব্যবহার করে আমরা এই এক্সিলেন্স সেন্টারটি সম্পন্ন করব।”

তামিম নিজেও এই ডিজাইন চূড়ান্ত করার প্রক্রিয়ায় সম্পৃক্ত থাকবেন বলে জানালেন। তার মতে, এক্সিলেন্স সেন্টার হবে বাংলাদেশ ক্রিকেটের বড় এক সম্পদ। 

“অনেক সময় প্রক্রিয়ার কারণে আমরা বড় কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারতাম না। কিন্তু আমাদের এই বোর্ড গত কয়েক মাসে খুব দ্রুত সিদ্ধান্ত নিচ্ছে। এক্সিলেন্স সেন্টারে আন্তর্জাতিক মানের সব ধরনের ফ্যাসিলিটি থাকবে। আমি ব্যক্তিগতভাবে এটার ডিজাইনিং এবং ফ্যাসিলিটির সঙ্গে সম্পৃক্ত আছি, কারণ আমি চাই বাংলাদেশ ক্রিকেটকে সেরাটা দিতে। এটি সম্পন্ন হলে বাংলাদেশ ক্রিকেটের জন্য একটি বড় মাইলফলক হবে।

আমি যখন দায়িত্ব নেই, তখন দেখেছি আমাদের বোর্ডকে অনেক সময় খেলা জেতা-হারা দিয়ে বিচার করা হয়। হ্যাঁ, মাঠের ফলাফল গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু আমার কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, ফ্যাসিলিটি তৈরি করা। গত কয়েক বছরে ফ্যাসিলিটির দিকে নজর কম ছিল, কারণ হয়তো জেতা-হারার চিন্তা বেশি ছিল।”

ডিজাইন চূড়ান্ত করার পর এক্সিলেন্স সেন্টারের সম্ভাব্য বাজেটও বোঝা যাবে বলে জানালেন বিসিবি পরিচালক ও গ্রাউন্ডস কমিটির চেয়ারম্যান শানিয়ান তানিম। 

“আমরা আশা করছি আড়াই থেকে তিন বছরের মধ্যে এটি শেষ হবে। বাজেটের বিষয়টি এখনই সুনির্দিষ্ট কিছু বলা কঠিন, কারণ ডিজাইনে কিছু পরিবর্তন আসবে। পপুলাস যখন আমাদের ডিটেইলড ডিজাইন দেবে, তখন আমরা বাজেট মূল্যায়ন করতে পারব। তবে এটি আন্তর্জাতিক স্ট্যান্ডার্ডের হবে এবং বিসিবি এটার খরচ বহন করবে।”

পূর্বাচলে ওই কমপ্লেক্সের তৈরি করার কথা ছিল মিরপুরের চেয়ে প্রায় দ্বিগুণ দর্শক ধারণক্ষমতার এক ক্রিকেট স্টেডিয়ামের, যেটির নামকরণ করা হয়েছিল শেখ হাসিনা ক্রিকেট স্টেডিয়াম। দেশে রাজনৈতিক পালাবদলের পর সেটির নাম হয়ে গেছে জাতীয় ক্রিকেট গ্রাউন্ড। 

২০৩১ বিশ্বকাপের সহ-আয়োজক হিসেবে স্টেডিয়ামটি নির্মাণ করাও জরুরি। তবে সেটির ভারত সরকারের ওপর ছেড়ে দিলেন তামিম। 

“স্টেডিয়ামের বিষয়ে আমাদের সরকারি ফান্ডের প্রয়োজন হবে। আপনারা জানেন, ২০৩১ সালে বাংলাদেশে ৫০ ওভারের ক্রিকেট বিশ্বকাপ হবে, যা বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম স্পোর্টিং ইভেন্ট। বাংলাদেশ সহ-আয়োজক, এটি আমাদের জন্য অনেক গর্বের বিষয়। 

আমরা যখন এই বিশ্বকাপের জন্য বিড করেছিলাম, পূর্বাচল স্টেডিয়াম সেই বিডিং প্রক্রিয়ার অংশ ছিল। আমরা সরকারের সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা শুরু করেছি এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপগুলো নেব।”