১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২ আশ্বিন ১৪৩৩

আকবরের ‘প্রথম’ সেঞ্চুরি, ১০ ওভারে সাইফ উদ্দিন দিলেন ৯৮ রান

এছাড়াও ৮৩ রানের ইনিংস খেলেন মুমিনুল হক, ফিফটি করেন তানজিদ-শান্ত-নাঈম, ৪ উইকেট নেন খালেদ ও রিশাদ।

আকবরের ‘প্রথম’ সেঞ্চুরি, ১০ ওভারে সাইফ উদ্দিন দিলেন ৯৮ রান
প্রথম শতরানের উল্লাস আকবরের। ছবি: বিসিবি।

ক্রীড়া প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 23 Feb 2026, 08:23 PM

Updated : 26 Aug 2026, 03:01 PM

লিস্ট ‘এ’ ক্যারিয়ারের বয়স ৬ বছর হবে আগামী মাসেই। ম্যাচ সংখ্যা ছুঁতে চলেছে একশ। কিন্তু ২২ গজে শতরানের ছোঁয়া পাচ্ছিলেন না আকবর আলি। অবশেষে অচেনা সেই স্বাদ পেলেন এই কিপার-ব্যাটার। তার প্রথম সেঞ্চুরিটি হলো মনে রাখার মতোই। বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ে দলকে নিয়ে গেলেন তিনি বড় স্কোরের পথে। জয় দিয়ে আসর শুরু করল তার দল উত্তরাঞ্চল। 

বাংলাদেশ ক্রিকেট লিগের (বিসিএল) উদ্বোধনী দিনে বড় রানের ম্যাচে পূর্বাঞ্চলকে ৫৪ রানে হারাল উত্তরাঞ্চল। 

বগুড়ার শহীদ চান্দু স্টেডিয়ামে সোমবার আকবর উপহার দেন ৮৭ বলে ১১১ রানের ইনিংস। তার সঙ্গে তানজিদ হোসেন ও নাজমুল হোসেন শান্তর ফিফটিতে উত্তরাঞ্চল ৫০ ওভারে তোলে ৩৩৫ রান।

চার নম্বরে ব্যাট করতে নেমে ভালো করতে পারেননি লিটন কুমার দাস। 

আরেকজনের সেঞ্চুরিও প্রায় হয়েই যাচ্ছিল। তবে সেটি রান করার নয়, রান খরচের। ১০ ওভারে ৯৮ রান দেন মোহাম্মদ সাইফ উদ্দিন।

বিশাল রান তাড়ায় সেভাবে জয়ের সম্ভাবনা জাগাতে পারেনি পূর্বাঞ্চল। তবে ৮২ বলে ৮৩ রানের ইনিংসে লড়াইয়ে চেষ্টা করেন মুমিনুল। ৯ নম্বরে নেমে ফিফটি করেন নাঈম হাসান।

টস হেরে ব্যাটিংয়ে নামা উত্তরাঞ্চলের ওপেনার হাবিবুর রহমান সোহান দুটি ছক্কা ও একটি চার মেরে আউট হয়ে যান তৃতীয় ওভারে। দ্বিতীয় উইকেটে ৮২ রানের জুটি গড়েন তানজিদ ও শান্ত।

দুজনের ব্যাটিংয়ের ধরন ছিল দুরকম। সহজাত আগ্রাসী ব্যাটিংয়ে ৩৭ বলে ফিফটি করেন তানজিদ। শান্তর ফিফটিতে বল লাগে ৬৪।

৪৪ বলে ৫৪ রান করে তানজিদের বিদায়ে ভাঙে এই জুটি। এরপর লিটন (২৪ বলে ১০) ও তাওহিদ হৃদয় (২) বিদায় নেন দ্রুত। ১৬ রানের মধ্যে ৩ উইকেট হারিয়ে বিপাকে পড়ে যায় উত্তরাঞ্চল।

৮১ বলে ৮৩ করেন মুমিনুল। ছবি: বিসিবি।

৮১ বলে ৮৩ করেন মুমিনুল

সেখান থেকে আকবরের অভিযান শুরু। ১২০ রানের জুটি গড়ে তোলেন তিনি অধিনায়ক শান্তর সঙ্গে। সেই জুটিতে শান্তর অবদান ছিল স্রেফ ৩৮ রান।

৮৭ বলে ৬৮ রান করে শান্ত বোল্ড হন নতুন স্পেলে ফেরা হাসান মাহমুদের বলে। এরপর এসএম মেহেরব ও রিশাদ হোসেন ভালো করতে পারেননি। 

তবে আকবর ছিলেন অপ্রতিরোধ্য। ৫৩ বলে ফিফট করা ব্যাটসম্যান পরের পঞ্চাশে পৌঁছে যান স্রেফ ২৮ বলেই।  

দলকে ৩০০ পার করিয়ে শেষ হয় আকবরের ৮ চার ৬ ছক্কার ইনিংস। 

শেষ দিকে আব্দুল গাফফার সাকলাইনের ১০ বলে ১৭ ও শরিফুলের ১২ বলে ২০ রান উত্তরাঞ্চলকে এনে দেয় ৩৩৫ রান।

সাইফ উদ্দিনের ৯৮ রান দেওয়ার ইনিংসে ৫২ রানে ৪ উইকেট নেন সৈয়দ খালেদ আহমেদ। লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটে তার চতুর্থ চার উইকেট এটি।

এত বড় রান তাড়ায় যেমন শুরু প্রয়োজন, তা পায়নি পূর্বাঞ্চল। ওপেনিংয়ে জাকির হাসান ফেরেন ১৮ বলে ৮ রান করে। পারভেজন হোসেন ইমন ভালো শুরু করলেও নাহিদ রানার দারুণ ডেলিভারিতে আউট হন ৩৮ বলে ৩৫ করে। থিতু হয়েও বিদায় নেন অমিত হাসান (৩৩)।

চতুর্থ উইকেটে অধিনায়ক ইয়াসির আলি চৌধুরি ও মুমিনুল হক গড়েন ৭১ রানের জুটি। কিন্তু এই জুটি ভাঙার পাশপাশি পূর্বাঞ্চলের মিডল অর্ডারের চারটি উইকেট নেন রিশাদ হোসেন।

৪২ বলে ৪২ করে ফেরেন রিশাদ। শামীম হোসেন আউট হয়ে যান একটি ছক্কা মেরেই। সাইফ উদ্দিন (১) পারেনি ব্যাটিং দিয়ে বোলিং ব্যর্থতা আড়াল করতে।

শতরানের আশা জাগানো মুমিনুলকে ৮৩ রানে থামান রিশাদ। 

রান জোয়ারের ম্যাচে বল আঁচসাঁট বোলিং করা অফ স্পিনার নাঈম হাসান ব্যাট হাতে ৯ নম্বরে নেমে অপরাজিত থাকেন ৪৩ বলে ৫০ রানে। লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটে তার দ্বিতীয় ফিফটি এটি।

শেষ জুটিতে হাসান মাহমুদকে নিয়ে তিনি যোগ করেন ৪৫ রান। 

সংক্ষিপ্ত স্কোর: 

উত্তরাঞ্চল: ৫০ ওভারে ৩৩৫ (সোহান ১৬, তানজিদ ৫৪, শান্ত ৬৮, লিটন ১০, হৃদয় ২, আকবর ১১১, মেহেরব ৯, রিশাদ ৭, সাকলাইন ১৭, শরিফুল ২০, নাহিদ ০*; হাসান ১০-০-৫৫-২, খালেদ ১০-০-৫২-৪, নাঈম ১০-১-৪৬-১, সাইফ উদ্দিন ১০-০-৯৮-০, নাসুম ৯-০-৫৮-১, শামীম ১-০-২৩-০)

পূর্বাঞ্চল:  ৪৯.৪ ওভারে ২৮১ (জাকির ৮, পারভেজ ৩৫, অমিত ২২, ইয়াসির ৪২, মুমিনুল ৮৩, শামীম ১২, সাইফ উদ্দিন ১, নাসুম ৭, নাঈম ৫০*, খালেদ ১, হাসান ১২; শরিফুল ৮-১-৩৪-১, নাহিদ ৯-১-৩৩-২, সাকলাইন ৭.৪-১-৫৮-১, মেহেরব ১০-০-৫৫-২, রিশাদ ১০-০-৫৭-৪, শান্ত ৩-০-২৯-০, হৃদয় ২-০-১২-০)।

ফল: উত্তরাঞ্চল ৫৪ রানে জয়ী।

ম্যান অব দা ম্যাচ: আকবর আলি।