১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

লিটন-রিজওয়ানের কথার লড়াই উপভোগ করেছেন বাংলাদেশের বোলিং কোচ

সিলেট টেস্টের চতুর্থ দিন বিকেলে দারুণ উত্তাপ ছড়ায় লিটন কুমার দাস ও মোহাম্মাদ রিজওয়ানের কথার লড়াই।

লিটন-রিজওয়ানের কথার লড়াই উপভোগ করেছেন বাংলাদেশের বোলিং কোচ
রিজওয়ান-লিটনের সেই কথার লড়াই। ছবি: ভিডিও থেকে স্ক্রিনশট।

বিডিনিউজ২৪

ক্রীড়া প্রতিবেদক, সিলেট থেকে, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 19 May 2026, 11:14 PM

Updated : 11 Sep 2026, 03:18 PM

ব্যাট-বলের লড়াই তো চলছিলই। এক পর্যায়ে তুমুল জমে উঠল কথার লড়াই। লিটন কুমার দাস ও মোহাম্মাদ রিজওয়ান একদম মুখোমুখি হয়ে গেলেন। দুজনের কথার বারুদে উত্তাপ ছড়াল বেশ। এক পর্যায়ে আম্পায়ারদের হস্তক্ষেপ করতে হলো। মাঠের ভেতরের এসব উত্তেজনা মাঠের বাইরে থেকে দেখতে উপভোগ করেছেন বলেই জানালেন বাংলাদেশের বোলিং কোচ শন টেইট।

সিলেট টেস্টের চতুর্থ দিনের শেষ সেশনে বাংলাদেশ এক পর্যায়ে অপেক্ষা করছিল দ্বিতীয় নতুন বলের। স্পিন দিয়ে দ্রুত ওভার শেষ করার চেষ্টা করছিল তারা। বড় জুটি গড়া পাকিস্তানের দুই ব্যাটসম্যান সালমান আলি আগা ও রিজওয়ান বারবার চেষ্টা করছিলেন সময় ক্ষেপণ করে প্রক্রিয়াটা দেরি করিয়ে দিতে। বিশেষ করে, রিজওয়ান নানাভাবেই বারবার চেষ্টা করছিলেন এসব।

৭২তম ওভারে এক পর্যায়ে বোলার তাইজুলকে থামিয়ে সাইটস্ক্রিনের ওপরের দিকে কিছু ইশারা করে দেখান রিজওয়ান। স্টাম্প মাইকে শোনা যায়, কিপার লিটন তখন হিন্দি-উর্দুর মিশেলে বলছিলেন, “কি হলো? কি করছেন?” রিজওয়ান ইশারা দিয়ে দেখিয়ে বলেন, “তাকিয়ে দেখ ওদিকে…।” লিটন আবার বলেন, “প্রতি বলেই এমন করছেন, সব বলেই…।” রিজওয়ানের জবাব, “এরকম তো হচ্ছেই…!”

লিটন এবার বলেন, “ওদিকে তাকানোর কি দরকার আপনার? এখানে ব্যাটিং করুন…!” এবার রিজওয়ান উত্তেজিত হয়ে পড়েন, “এটা কি তোর কাজ?” লিটনও ছাড় দেননি, “কী আমার কাজ! আপনি প্রতি বলেই ডিস্টার্ব করছেন…।”

দুজনের কথার লড়াই চলে আরও কিছুক্ষণ। রিজওয়ান এক পর্যায়ে আম্পায়ারের কাছে গিয়ে কিছু বলেন। আম্পায়ার তখন রিজওয়ানের সঙ্গে কথা বলেন, পরে লিটনের সঙ্গেও আলাদা করে কথা বলেন। খেলা শুরু হয় আবার।

তবে বাংলাদেশের ফিল্ডারদের স্লেজিং শেষ হয়নি। বরং ওই ঘটনার পর স্লেজিংয়ের মাত্রা বেড়ে যায় আরও। “কিছু রান করেছে (রিজওয়ান), এখন অভিনয় শুরু করে দেবে”, “অনেক বেশি অভিনয় চলছে রে ভাই, অনেক বেশি…”, “এক সপ্তাহ পর বলিউডে ট্রেনিং আছে…”, “অতি অভিনয়ের জন্য পঞ্চাশ পয়সা কেটে রাখব আমরা…”, “খুব ভালো অভিনয় করছে, সবাইকে শেখাচ্ছে…”, এই ধরনের নানা কথা বলতে থাকেন নাজমুল হোসেন শান্ত, লিটন, মুশফিকুর রহিমরা। যুগ যুগ ধরে প্রতিপক্ষের এমন স্লেজিংয়ের সামনে নুইয়ে পড়েছে বাংলাদেশ। এবার শোনা গেল দিনবদলের গান।

মাঠে লিটন-রিজওয়ানের কথোপকথনের অর্থ বুঝতে পারেননি টেইট। তবে এই উত্তাপের আঁচে উষ্ণ হয়েছেন বাংলাদেশের বোলিং কোচ। তিনি নিজে অস্ট্রেলিয়ান, এসব লড়ায়ে যারা সবসময় থাকে অগ্রণী। সেটিও তুলে ধরলেন টেইট। 

“কী বলাবলি হচ্ছিল, জানি না। কিন্তু আমি এটা উপভোগ করেছি। মানে… আমি তো অস্ট্রেলিয়ান, তাই না? এতেই হয়তো সবটা বোঝা যায়। আমরা এসব পছন্দ করি। আমার মনে হয়, কিছুটা তর্কাতর্কি থাকা দরকার আছে। সবসময় অবশ্যই নয়। সীমা অতিক্রম করা কাম্য নয়। সীমা না ছাড়ানো এবং এই ধরনের ব্যাপার নিয়ে আমরা কথা বলি। কিন্তু কিছুটা আগ্রাসন তো থাকতেই হবে।”

“এটা তো টেস্ট ম্যাচ…পাকিস্তান-বাংলাদেশ লড়াই। আমার মনে হয়, ভক্তদের জন্য, আমাদের সবার জন্যই, খেলায় কিছুটা প্যাশন দেখাতে চায় এবং লড়াইয়ের মধ্যে চায় পরস্পরকে আউট করতে। সবাই চায় লড়াইয়ে টিকে থাকতে। আমার তো এসব ভালো লাগে।”