সাইবার ক্রাইম তদন্ত সংস্থার কাছে মোবাইল ফেরত চেয়েছেন রিজওয়ান
পাশাপাশি এনসিসিআইএ-কে তদন্তের মূল বিষয় লিখিতভাবে জানাতে অনুরোধ করেছেন পাকিস্তানের এই কিপার-ব্যাটসম্যান।
তিন ঘণ্টার মধ্যে ফেরত দেওয়ার কথা থাকলেও প্রায় চার সপ্তাহ ধরে ন্যাশনাল সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন এজেন্সির (এনসিসিআইএ) কাছে রয়েছে মোহাম্মাদ রিজওয়ানের মোবাইল। তদন্তে সহযোগিতা করছেন দাবি করে এবার ফোনটি ফেরত দেওয়ার অনুরোধ করেছেন পাকিস্তানের কিপার-ব্যাটসম্যান।
এনসিসিআইএ-কে একটি চিঠি দিয়ে রিজওয়ান বলেছেন, তাকে ঘিরে তদন্তের বিষয়ে অন্ধকারে আছেন তিনি। সেই চিঠিতে লাহোর হাইকোর্টের সবশেষ রায় মেনে চলার আহ্বানও জানিয়েছেন এই ক্রিকেটার।
লর্ডসে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে দ্বিতীয় টেস্ট শেষের পরদিন গত ৩১ অগাস্ট রিজওয়ানের মোবাইল নেয় এনসিসিআইএ। তিন ঘণ্টার মধ্যে ফেরত দেওয়ার কথা বলে ফোনটি নেওয়া হয় বলে দাবি করেছেন রিজওয়ান।
এর আগে এনসিসিআইএ-এর বিরুদ্ধে লাহোর হাইকোর্টে রিট আবেদন করেছিলেন রিজওয়ান। ৩৪ বছর বয়সী এই ক্রিকেটার সেখানে যুক্তি দেন, তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করার কোনো এখতিয়ার নেই এনসিসিআইএ-এর; আবেদন অনুযায়ী বিষয়টি ছিল ‘পাকিস্তান ক্রিকেটে কথিত অনলাইন বাজি বা জুয়া সংক্রান্ত।’ ওই রিট আবেদন খারিজের দুই সপ্তাহ পর এনসিসিআইএ-কে এই চিঠি দিলেন তিনি।
তার আবেদন খারিজের রায়ে লাহোর হাইকোর্ট তাকে সংস্থাটির তদন্তে সহযোগিতা করার নির্দেশ দেয়। পাশাপাশি এনসিসিআইএ যেন তাকে হয়রানি না করে সে বিষয়েও নির্দেশনা ছিল রায়ে। এছাড়া, এই রায়ে রিজওয়ানকে ফেরত না দেওয়া জিনিসপত্র, বিশেষ করে মোবাইল ফোন উদ্ধারের জন্য সংশ্লিষ্ট আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়।
এনসিসিআইএর কাছে পাঠানো চিঠিতে রিজওয়ান উল্লেখ করেন, আদালতের নির্দেশ পালনে সংস্থাটি তার সঙ্গে কোনো আনুষ্ঠানিক যোগাযোগ করেনি। চিঠিতে সংস্থাটিকে তাদের তদন্তের মূল বিষয় লিখিতভাবে জানাতে এবং কখন তাকে সেখানে হাজির হতে হবে তা জানানোর অনুরোধ করেছেন।
ওই চিঠিতে তিনি আরও উল্লেখ করেন, যুক্তরাজ্যে কোনো আইনি বাধ্যবাধকতা না থাকা সত্ত্বেও, তিন ঘণ্টার মধ্যে ফোনটি ফেরত দেওয়া হবে- এমনটা জেনে স্বেচ্ছায় এনসিসিআইএকে ফোনটি হস্তান্তর করেছিলেন। কিন্তু চার সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও তার মোবাইল এখনও এনসিসিআইএ রেখে দিয়েছে।
চিঠিতে রিজওয়ান উল্লেখ করেন, ফোন ফেরত দেওয়ার ব্যাপারে তার সঙ্গে এনসিসিআইএ কোনো ধরনের যোগাযোগ করেনি। তার দাবি, স্বতঃস্ফূর্তভাবে ফোন হস্তান্তর ও পরবর্তী আচরণে এটা প্রমাণিত হয় যে, তিনি তদন্তে সহযোগিতা করছেন। তার চাওয়া সংস্থাটি একই ধরনের সদিচ্ছা দেখাবে এবং ফোন ফেরত দেবে। পাশাপাশি তদন্তের ধরন খোলাসা করবে।
ইংল্যান্ডের বিপক্ষে দ্বিতীয় টেস্টে ১৯৪ রানের বড় ব্যবধানে হারের পর রিজওয়ান ও ইমাম উল হাকসহ সাতজন ক্রিকেটারকে দেশে পাঠিয়ে দেয় পাকিস্তান। এরপর থেকেই ইমাম ও রিজওয়ানের বিরুদ্ধে এনসিসিআইএ-এর এই তদন্ত চলমান রয়েছে।
রিজওয়ান আইনি পথে এগোলেও এনসিসিআইএ-এর প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন ইমাম। রিজওয়ানের আবেদন খারিজ হলেও তিনি আইনি সহায়তা নেওয়া অব্যাহত রেখেছেন। পাশাপাশি মামলার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট যেকোনো বিষয়ে লিখিতভাবে তার সঙ্গে যোগাযোগ করতে এনসিসিআইএ-কে অনুরোধ করেছেন।
