সাইমন্ডসের নামে টাউন্সভিলের গ্র্যান্ডস্ট্যান্ড

অ্যান্ড্রু ‘রয়’ সাইমন্ডস গ্র্যান্ডস্ট্যান্ড উন্মোচন করেন তার দুই সন্তান ক্লোয়ি ও উইল এবং মা বারবারা।

স্পোর্টস ডেস্কবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 30 Sept 2022, 10:47 AM
Updated : 30 Sept 2022, 10:47 AM

যে শহরের কাছে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছিলেন অ্যান্ড্রু সাইমন্ডস, সেই টাউন্সভিলের একটি স্টেডিয়ামের গ্র্যান্ডস্ট্যান্ডের নামকরণ হয়েছে এই অলরাউন্ডারের নামে।  

সাইমন্ডসের দুই সন্তান ক্লোয়ি ও উইল এবং মা বারবারা শুক্রবার রিভারওয়ে স্টেডিয়ামের গ্র্যান্ডস্ট্যান্ডের নাম- অ্যান্ডু ‘রয়’ সাইমন্ডস উন্মোচন করেন।

পরে গণমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে ১০ বছর ক্লোয়ি জানান প্রতিক্রিয়া।

“আমি অনুভব করছি, তিনি প্রতিটি ক্ষেত্রেই ভালোবাসা পাবেন, একইভাবে সবার ভালোবাসাও পাবেন। আমি জানি, তিনি বড় কিছু পছন্দ করতেন না, এই গ্র্যান্ডস্ট্যান্ডটাও বড় নয়… সম্ভবত এটা তার ভালো লাগত।”  

২০০৩ ও ২০০৭ বিশ্বকাপে অস্ট্রেলিয়ার শিরোপা জয়ে বড় অবদান ছিল সাইমন্ডসের। ওই দশকে টেস্ট দলেও বছর দুয়েক তিনি ছিলেন গুরুত্বপূর্ণ সদস্য।

তিনি ছিলেন ‘আল্টিমেট’ অলরাউন্ডার। টি-টোয়েন্টির জমানায় এখন ‘ইম্প্যাক্ট’ ক্রিকেটারদের যে জয়গান, সাইমন্ডস সেসব দেখিয়েছেন বহু বছর আগেই। ওয়ানডে ইতিহাসের সবচেয়ে কার্যকর ক্রিকেটারদের একজন মনে করা হয় তাকে।

ব্যাট হাতে সাইমন্ডস ছিলেন বিধ্বংসী, ভয়ডরহীন। পেশিশক্তি আর শরীরী ভাষায় গুঁড়িয়ে দিতেন প্রতিপক্ষকে। বোলিংয়ে তিনি বুদ্ধিদীপ্ত মিডিয়াম পেস ও অফ স্পিন, দুটিই করতেন। দলের ভারসাম্যের জন্য যা ছিল গুরুত্বপূর্ণ। ফিল্ডিংয়ে তো তিনি ক্রিকেট ইতিহাসের সর্বকালের সেরাদের একজন।

গত ১৪ মার্চ টাউনসভিলে এক গাড়ি দুর্ঘটনায় ৪৬ বছর বয়সে মারা যান সাইমন্ডস।

গত মাসে টাউন্সভিলে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে অস্ট্রেলিয়ার ম্যাচের সময় সাইমন্ডসের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয়। তবে সে সময় স্ট্যান্ডের নামকরণের কাজ শেষ হয়নি।

প্রথম ম্যাচের ইনিংস বিরতিতে সাইমন্ডসের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে তার প্রিয় বন্ধু জিমি মাহের পিচের কাছে যান। উইকেটে সাবেক অলরাউন্ডারের ব্যাগি গ্রিন, আকুব্রা টুপি, মাছ ধরার ছিপ ও একটি মাছ রাখার জাল রাখেন। সাইমন্ডসের দুটি কুকুর বাজ ও উডি সেই অনুষ্ঠানে সঙ্গী হয়েছিল।

স্ট্যান্ডের নামকরণের পর প্রতিক্রিয়া জানান এই অলরাউন্ডারের মা বারবারাও।

“আমার ছেলে সাইমন্ডস, যে ক্রিকেট খেলতে ভালোবাসত। এত বেশি মানুষ তাকে যে এত ভালোবাসত, তা জেনে আমি গর্বিত।”

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক