Published : 12 Sep 2026, 05:45 PM
নেপালের কাছ থেকে দ্বিপাক্ষিক সিরিজ খেলার প্রস্তাব পেয়ে গুরুত্ব দিয়ে ভাবছে বিসিবি। যদিও সামনের কয়েক মাসে বাংলাদেশ দলের ব্যস্ততা তুমুল, তবু উপযুক্ত একটি সময় বের করার চেষ্টা চলছে। বিসিবির ক্রিকেট পরিচালনা বিভাগের ইন-চার্জ শাহরিয়ার নাফীস জানালেন, ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন অব নেপালের সঙ্গে আলোচনা চলছে তাদের।
গত মাসের অস্ট্রেলিয়া সফরের পর আপাতত বিরতি বাংলাদেশ দলের। তবে আগামী ২৮ সেপ্টেম্বর এশিয়ান গেমসের কোয়ার্টার-ফাইনাল দিয়ে শুরু হবে টানা একের এক এক সিরিজ। এশিয়ান গেমস শেষেই সংযুক্ত আরব আমিরাতে আফগানিস্তানের বিপক্ষে আছে টেস্ট ম্যাচ। এরপর সেখানেই আফগানিস্তান ও জিম্বাবুয়ের সঙ্গে ত্রিদেশীয় সিরিজ।
ওই ত্রিদেশীয় সিরিজ শেষের আগেই বাংলাদেশে চলে আসবে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ২৮ অক্টোবর থেকে ৯ নভেম্বর পর্যন্ত ক্যারিবিয়ানদের বিপক্ষে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ খেলবে বাংলাদেশ। ওই সিরিজ শেষে দলের গন্তব্য দক্ষিণ আফ্রিকা। সেখানে দুইটি টেস্টের পাশাপাশি তিনটি করে ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি খেলবেন নাজমুল হোসেন শান্ত, লিটন দাসরা।
ডিসেম্বরের মাঝামাঝি পর্যন্ত আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের এই ব্যস্ততার ঘরোয়া ক্রিকেটের ব্যস্ত হয়ে পড়বেন ক্রিকেটাররা। যদিও ভারতের বিপক্ষে স্থগিত হওয়া সিরিজ জানুয়ারিতে আয়োজনের আলোচনা চলছে। ফেব্রুয়ারিতে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ খেলতে আসবে ইংল্যান্ড।
মিরপুরে শনিবার সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে শাহরিয়ার বললেন, আইসিসির ভবিষ্যত সফরসূচিতে (এফটিপি) থাকা সিরিজগুলোর এই ব্যস্ততার মধ্যেই নেপালের বিপক্ষে খেলার সময় খুঁজে নিতে চান তারা।
“নেপাল বেশ কিছুদিন আগেই আমাদের কাছে একটা প্রস্তাব পাঠিয়েছিল। যেখানে ওরা বাংলাদেশের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সিরিজ খেলার আগ্রহ প্রকাশ করেছে। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড সেই আহবান খুব ইতিবাচকভাবে নিয়েছে। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড এবং নেপাল ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনের মধ্যে কথা হচ্ছে।
যদি সবকিছু ঠিকঠাক মতো মেলে… কারণ আমাদের এফটিপি খুবই প্যাকড… এরপরও আমরা এই চক্রের মধ্যে একটা সুবিধাজনক সময় বেছে নেওয়ার চেষ্টা করছি। যদি সবকিছু ঠিকঠাক মতো হয়, আশা করি এই সিরিজটা হতে পারে।”
আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নেপালের বিপক্ষে এখন পর্যন্ত দুইটি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলেছে বাংলাদেশ। প্রত্যাশিতভাবে দুই ম্যাচেই ধরা দিয়েছিল জয়। ২০১৪ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে চট্টগ্রামে বাংলাদেশ জিতেছিল ৮ উইকেটে, ২০২২ বিশ্বকাপে ২১ রানে।
আইসিসি এফটিপির বর্তমান চক্র শেষ হবে চলতি মৌসুম দিয়েই। শাহরিয়ার জানালেন, বর্তমান চক্রের মধ্যেই সিরিজটি হতে পারে।
“এই চক্রের মধ্যেই আমাদের ইচ্ছা আছে এবং নেপাল ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনেরও সেই অনুরোধ আছে। আমরা ইতিবাচকভাবে কাজ করছি। যখন এটা বলার মতো পর্যায় হবে বা আমরা একটা সিদ্ধান্তে আসতে পারব, আমরা বলতে পারব, সিরিজটি হচ্ছে বা হচ্ছে না। তখন আমরা সময়ও জানিয়ে দিতে পারব। কিন্তু এতটুকু নিশ্চিত করতে পারি নেপাল থেকে যোগাযোগ করা হয়েছে এবং আমরা ইতিবাচকভাবে দেখছি।”
গত ২৬ অগাস্ট নেপালের উত্তর-মধ্যাঞ্চলে আকস্মিক বন্যায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তহবিল সংগ্রহের জন্য নেপালের পক্ষ থেকে সিরিজের প্রস্তাবটি এসেছে কি না, সেই প্রশ্ন করা হলো শাহরিয়ারকে। তবে তিনি ব্যাপারটি নিশ্চিত করতে পারলেন না।
“আমি ব্যক্তিগতভাবে আসলে এই ব্যাপারটা জানি না। মাননীয় ক্রীড়ামন্ত্রী (প্রতিমন্ত্রী) এই ব্যাপারে কথা বলেছেন বা ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সাথে নেপাল সরকারের একটা যোগাযোগ হয়েছে। এটা (বন্যা নিয়ে আলোচনা) ওপরের মহলে হয়ে থাকতে পারে।
আমাদের সঙ্গে যে যোগাযোগ হয়েছে, এটার মধ্যে বন্যার ইস্যু আসেনি। নেপালে যে ভয়াবহ বন্যা হয়েছে, এটাতে আমরা সবাই খুবই দুঃখিত। নেপালের যারা বাস করেন, তাদের প্রতি অবশ্যই আমাদের সহমর্মিতা রয়েছে। দুই সরকারের মধ্যে আলোচনা হয়ে থাকতে পারে, তবে ক্রিকেটের বিষয়টা তো আমরা ওভাবে (এফটিপির ব্যস্ততা) আলোচনা করব।”