Published : 01 Sep 2026, 07:32 PM
কিটব্যাগ টেনে হাসান মাহমুদের মাঠে ঢোকার একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট করেছে কেন্ট কাউন্টি ক্রিকেট ক্লাব। এক পর্যায়ে কেন্টের সমর্থকদের উদ্দেশে এই পেসার নাটকীয়ভাবে বললেন, “আমি ফিরে এসেছি এবং এবার একা আসিনি…।” এরপর মুচকি হাসিতে তিনি তাকালেন পাশে। সেখানে তার সঙ্গে এসে দাঁড়ালেন সৈয়দ খালেদ আহমেদ।
এই মৌসুমের আগে কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশিপে খেলার অভিজ্ঞতা ছিল বাংলাদেশের কেবল সাকিব আল হাসানের। এবার এক মৌসুমেই সেই স্বাদ পাচ্ছেন দুজন এবং একই দলে। হাসান তো এর মধ্যেই খেলে ফেলেছেন। এখন তিনি সঙ্গী পাচ্ছেন খালেদকে।
সব ঠিকঠাক থাকলে উস্টারশায়ারের বিপক্ষে ক্যান্টারবুরিতে বুধবার একসঙ্গে মাঠে নামবেন বাংলাদেশের দুই পেসার। যে কোনো সংস্করণেই এই প্রথম দেশের বাইরের কোনো দলে খেলার সুযোগ পেলেন খালেদ।
বাংলাদেশের অস্ট্রেলিয়া সফরে ছিলেন খালেদও। তবে দুই টেস্টের কোনোটিতে খেলার সুযোগ পাননি ১৮ টেস্টে ৩৪ উইকেট শিকারি পেসার।
৩৩ বছর বয়সী পেসার কেন্টের ওয়েবসাইটে বললেন, ক্লাব সমর্থকদের ও বাংলাদেশের ক্রিকেট অনুসারীদের ভালো কিছু উপহার দিতে চান তিনি।
“কাউন্টি ক্রিকেট খেলতে পারা এবং কেন্টের মতো একটি সমৃদ্ধ ইতিহাস সম্পন্ন ক্লাবে যোগ দেওয়া আমার জন্য সম্মানের ব্যাপার। মৌসুমের গুরুত্বপূর্ণ অংশ এটি এবং দলকে প্রমোশন পেতে (ডিভিশন ওয়ানে) সাহায্য করতে আমি দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।
যখন প্রস্তাবটি প্রথম পাই, তখন ‘হ্যাঁ’ বলাটা খুবই সহজ ছিল আমার জন্য। হাসান এবং আমার এজেন্ট দুজনেই কেন্টের সঙ্গে তাদের অভিজ্ঞতা নিয়ে এবং এই ক্লাব আসলে কেমন একটি পরিবার, সে সম্পর্কে আমাকে অনেক ভালো কথা বলেছেন। আশা করি, কেন্টের সদস্য ও সমর্থকদের, সেই সঙ্গে বাংলাদেশের ভক্তদেরও গর্বিত করতে পারব।”
খালেদকে দলে নেওয়ার পেছনের ভাবনা তুলে ধরলেন কেন্টের ক্রিকেট পরিচালক সাইমন কুক।
“হাসানের পাশাপাশি খালেদকে ক্যান্টারবুরিতে স্বাগত জানাতে পেরে আমরা আনন্দিত। এমন একজন বোলারকে আমরা দলে নিতে চেয়েছিলাম, যিনি এসে দ্রুতই আমাদের স্কোয়াডকে শক্তিশালী করতে পারবেন এবং মৌসুমের শেষ পর্যায়ে আমাদেরকে আরও বেশি বিকল্প এনে দেবে।
আমাদের শেষ চারটি ম্যাচের মধ্যে তিনটিই ঘরের মাঠে হওয়ায়, আমরা সেই কৌশল ধরে রাখতে পারি, যা মৌসুমের প্রথমার্ধে ভালোভাবে কাজ করেছিল। পাশাপাশি, পারফরম্যান্সের মানের সঙ্গে আপস না করেই আমাদের প্রধান বোলারদের বিশ্রাম দেওয়া ও ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে খেলানোর সুযোগও থাকবে।
ক্রিকেট পরিচালকের আশা, বাংলাদেশের ক্রিকেট অনুসারীরা এখন কেন্টকে আরও বেশি আপন করে নেবেন।
“এটা দেখে খুব ভালো লাগছে যে, এই গ্রীষ্মের শুরুতে হাসানের প্রথম মেয়াদের পর থেকে বহু বাংলাদেশি ক্রিকেট ভক্ত কেন্টকে অনুসরণ করতে শুরু করেছেন এবং আমরা আশা করি যে, খালেদের আগমনও এই ধারা অব্যাহত রাখতে সাহায্য করবে।”
কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশিপের ডিভিশন টু-তে এখন দুইয়ে আছে কেন্ট। প্রতি মৌসুমে ডিভিশন টু থেকে দুটি দল ডিভিশন ওয়ানে প্রমোশন পায়।
গত জুনে কেন্টের হয়ে কাউন্টি অভিষেকে ৯ উইকেট নিয়ে দলের জয়ে বড় অবদান রাখেন হাসান। পরের ম্যাচেও দলের জয়ে তার শিকার ছিল তিনটি। পরে বাংলাদেশের হয়ে জিম্বাবুয়ে সফরে টেস্ট খেলে আবার তিনি ইংল্যান্ডে যান কেন্টের হয়ে টি-টোয়েন্টি ব্লাস্টে খেলতে। সেখানে তিন ম্যাচে পাঁচ উইকেট নিয়ে খেলতে যান লঙ্কা প্রিমিয়ার লিগে কলম্বো ক্যাপসের হয়ে। পরে বাংলাদেশের অস্ট্রেলিয়া সফরে ডারউইনে ঐতিহাসিক জয়ের ম্যাচে ম্যান অব দা ম্যাচ হন ৯ উইকেট নিয়ে।
সেপ্টেম্বরে তার আবার ফেরা নিশ্চিত ছিল আগেই।