নাঈম শেখ-আরিফুল-রবিউলের ফিফটি, এনামুলের ৫ উইকেট
বোলিংয়ে আলো ছড়িয়েছেন হাসান মাহমুদ-নাজমুল ইসলাম।
ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরিতে জাকের আলি যে ভিত গড়ে দিয়েছিলেন আগের দিন, সেখানে দাঁড়িয়ে বিসিবি মধ্যাঞ্চলকে সাড়ে চারশ পার করালেন আরিফুল হক ও রবিউল হক। দুজনের ফিফটির পর হাসান মুরাদের ঘূর্ণিতে চাপে ইসলামী ব্যাংক পূর্বাঞ্চল।
রাজশাহীর শহীদ কামারুজ্জামান স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ ক্রিকেট লিগের প্রথম রাউন্ডের দ্বিতীয় দিন শেষে প্রথম ইনিংসে পূর্বাঞ্চলের সংগ্রহ ৬ উইকেটে ১২৫ রান। স্রেফ ৪ উইকেট হাতে নিয়ে এখনও ৩২৮ রানে পিছিয়ে তারা। চোখরাঙানি দিচ্ছে ফলো-অন।
জাকেরের সেঞ্চুরির সঙ্গে শুভাগত হোম, আরিফুল ও রবিউলের ফিফটির সৌজন্যে প্রথম ইনিংসে মধ্যাঞ্চল করে ৪৫৩ রান। বল হাতে ক্যারিয়ারে প্রথমবার ৫ উইকেট নেন ডানহাতি পেসার মোহাম্মদ এনামুল হক।
আগের দিন করা ৭ উইকেটে ৩২৪ রান নিয়ে মঙ্গলবার খেলা শুরু করে মধ্যাঞ্চল। অষ্টম উইকেটে জুটিতে ১১৮ রান যোগ করেন আরিফুল ও রবিউল। প্রথম শ্রেণির ক্যারিয়ারে প্রথম ফিফটি করে রবিউল আউট হন ৫৯ রানে। এনামুলের লেগ স্টাম্পের বাইরের বল পুল করতে গিয়ে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দেন তিনি।
শেষ ব্যাটসম্যান হিসেবে ফেরা আরিফুল করেন ৭৮ রান। এনামুলের পঞ্চম শিকার হওয়া আরিফুল ক্যাচ দেন ব্যাকওয়ার্ড পয়েন্টে। মাঝে হাসান মুরাদকেও ফেরান ২২ বছর বয়সী পেসার।
সবমিলিয়ে ১০৬ রান খরচায় ৫ উইকেট পেয়েছেন এনামুল। ক্যারিয়ারের আগের ৯টি প্রথম শ্রেণির ম্যাচে তার ঝুলিতে ছিল মোটে ১১ উইকেট। আরেক পেসার রিপন মণ্ডলের শিকার ৪ উইকেট।
বিশাল রানের বোঝা মাথায় নিয়ে শুরুতেই ড্রেসিংরুমে ফেরেন অভিজ্ঞ ওপেনার জহুরুল হক। ধাক্কা সামাল দিয়ে দ্বিতীয় উইকেটে ৮০ রান যোগ করেন নাঈম শেখ ও পারভেজ হোসেন ইমন।
নাঈম প্রথম শ্রেণির ক্যারিয়ারে দ্বিতীয় ফিফটি ছোঁয়ার পরপরই আউট হন পারভেজ। অফ স্পিনার শরিফউল্লাহর মিডল স্টাম্পে পিচ করা ডেলিভারি উড়িয়ে মারতে গিয়ে বোল্ড হন ৩০ রান করা পারভেজ।
নাঈমকেও ফেরান শরিফউল্লাহ। ইনিংসের ৩৪তম ওভারের দ্বিতীয় বলে লং অন দিয়ে ছক্কা মারেন নাঈম। এক বল পর হালকা লাফিয়ে ওঠা ডেলিভারিতে বড় শটের জন্য ব্যাট চালিয়ে মিড উইকেটে মোহাম্মদ মিঠুনের হাতে ক্যাচ দেন নাঈম।
এরপর মুরাদের স্পিনে আটকা পড়েন শাহাদাত হোসেন দীপু, মোহাম্মদ আশরাফুল ও জিয়াউর রহমান। বুধবার ফলো-অন এড়ানোর অভিযানে ব্যাটিংয়ে নামবেন প্রীতম কুমার ও নাঈম হাসান।
সংক্ষিপ্ত স্কোর (দ্বিতীয় দিন শেষে)
বিসিবি মধ্যাঞ্চল ১ম ইনিংস: ১১০.৫ ওভারে ৪৫৩ (আগের দিন ৩২৪/৭) (আরিফুল ৭৮, রবিউল ৫৯, মুরাদ ১, মুশফিক ০*; রিপন ২১-৭-৬৭-৪, এনামুল ২১.৫-৪-১০৬-৫, জিয়াউর ১৩-১-৩৭-০, নাঈম হাসান ২২-৩-১১১-০, তানভির ২৯-৪-১০৪-১, আশরাফুল ৪-০-২১-০)
ইসলামী ব্যাংক পূর্বাঞ্চল ১ম ইনিংস: ৫০ ওভারে ১২৫/৬ (জহুরুল ৯, নাঈম শেখ ৫৬, পারভেজ ৩০, শাহাদাত ১৯, আশরাফুল ৭, প্রীতম ৪*, জিয়াউর ০, নাঈম হাসান ০*; রবিউল ১১-৪-২৮-০, মুশফিক ১৪-৪-৩৪-১, আরিফুল ৩-২-১২-০, শুভাগত ৭-২-৯-০, সৌম্য ৬-৩-২২-০, শরিফউল্লাহ ৩-০-১১-২, মুরাদ ৬-৩-৯-৩)
হাসান-নাজমুলের তোপে দক্ষিণাঞ্চলের বড় লিড
বগুড়ার শহীদ চান্দু স্টেডিয়ামে বিসিবি দক্ষিণাঞ্চলের বিপক্ষে স্বস্তিতে নেই বিসিবি উত্তরাঞ্চল। পেসার হাসান মাহমুদ ও বাঁহাতি স্পিনার নাজমুল ইসলাম অপুর তোপে বড় লিড পেয়েছে দক্ষিণাঞ্চল।
ম্যাচের দ্বিতীয় দিন শেষে দ্বিতীয় ইনিংসে দক্ষিণাঞ্চলের সংগ্রহ ২ উইকেটে ৯০ রান। এরই মধ্যে তারা এগিয়ে গেছে ২০১ রানে।
প্রথম ইনিংসে দক্ষিণাঞ্চলের করা ২২২ রানের জবাবে উত্তরাঞ্চল গুটিয়ে যায় স্রেফ ১১১ রানে।
আগের দিন করা ৯ উইকেটে ২২২ রানের পর মঙ্গলবার ব্যাটিংয়ে নামেনি দক্ষিণাঞ্চল। তারা ইনিংস ঘোষণা করলে ব্যাটিংয়ে নেমে উদ্বোধনী জুটিতে ৩৭ রান যোগ করে উত্তরাঞ্চলের দুই ওপেনার অমিত মজুমদার ও তৌফিক খান তুষার।
১৫তম ওভারে ব্রেক থ্রু দেন সুমন খান। তার খাটো লেংথের ডেলিভারি পুল করে ফাইন লেগে ক্যাচ আউট হন তৌফিক। নিজের পরের ওভারে তানজিদ হাসান তামিমকে বোল্ড করেন জাতীয় ক্রিকেট লিগের সবশেষ আসরে সর্বোচ্চ উইকেট পাওয়া সুমন।
এরপর উত্তরাঞ্চলের ইনিংসে শুধুই আসা-যাওয়ার মিছিল। হাসান ও নাজমুলের তোপে ৬৮ রানে ৭ উইকেট হারিয়ে ফেলে তারা। অষ্টম উইকেটে ৩৪ রানের জুটি গড়েন সানজামুল ইসলাম ও সাইফ উদ্দিন।
এ জুটিতে সাইফ উদ্দিনের অবদান স্রেফ ৯ রান। সানজামুল করেন দলের সর্বোচ্চ ৩৪ রান। তার ব্যাটে ভর করেই একশো পেরোয় উত্তরাঞ্চল।
বাঁহাতি স্পিনে স্রেফ ৮ রান দিয়ে ৪ উইকেট নেন নাজমুল। হাসান ২১ রান খরচায় পান ৪ উইকেট।
১১১ রানের লিড নিয়ে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিংয়ে নেমে দলীয় পঞ্চাশের আগেই ফরহাদ হোসেন ও অমিত হাসানের উইকেট হারায় দক্ষিণাঞ্চল।
অবিচ্ছিন্ন তৃতীয় উইকেট জুটিতে ৪৩ রান যোগ করেন দিনের বাকি অংশ কাটিয়ে দেন পিনাক ঘোষ ও ফজলে রাব্বি। পিনাক ৪৩ ও ফজলে রাব্বি ২৭ রান নিয়ে তৃতীয় দিনের খেলা শুরু করবেন।
সংক্ষিপ্ত স্কোর (দ্বিতীয় দিন শেষে)
বিসিবি দক্ষিণাঞ্চল ১ম ইনিংস: ২২২/৯ (ডিক্লে.)
বিসিবি উত্তরাঞ্চল ১ম ইনিংস: ৫১.৪ ওভারে ১১১ (অমিত ১৬, তৌফিক ২৭, তানজিদ ৪, আমিনুল ৮, নাঈম ইসলাম ২, নাসির ৭, আকবর ০, সাইফ উদ্দিন ৯, সানজামুল ৩৪, সালাউদ্দিন ০*, নাহিদ ০; হাসান ১৪-৩-২১-৪, হালিম ১৩-২-২৫-০, সুমন ১০-৪-৩৯-২, নাজমুল ৮.৪-৪-৮-৪, নাহিদুল ৬-২-১৫-০)
বিসিবি দক্ষিণাঞ্চল ২য় ইনিংস: ২৯ ওভারে ৯০/২ (পিনাক ৪৩*, ফরহাদ ১৫, অমিত ৪, ফজলে রাব্বি ২৭*; সালাউদ্দিন ৬-১-১৯-০, নাহিদ ৭-১-২৭-০, সানজামুল ৫-২-১০-১, সাইফ উদ্দিন ৩-১-১২-১, নাসির ৬-১-১২-০, আমিনুল ২-০-৯-০)
