১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২ আশ্বিন ১৪৩৩

বুয়েটে হয়ে গেল ‘ইন্টেলেকচুয়াল প্রপার্টি ম্যানেজমেন্ট’ বিষয়ক কর্মশালা

“উদ্ভাবন ও গবেষণার প্রকৃত মূল্য তখনই পাওয়া যায়, যখন তার বুদ্ধিবৃত্তিক স্বত্ব সঠিকভাবে সংরক্ষিত হয়।”

নিজস্ব প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 07 Nov 2025, 05:44 PM

Updated : 26 Aug 2026, 02:37 PM

উদ্ভাবন, গবেষণা ও প্রযুক্তি বিকাশে বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পদের সুরক্ষা ও বাণিজ্যিকীকরণ সম্পর্কে শিক্ষার্থী, গবেষক ও শিল্পখাতের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধিতে বুয়েটে একটি কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

‘ইন্টেলেকচুয়াল প্রপার্টি ম্যানেজমেন্ট’ শীর্ষক দিনব্যাপী এ কর্মশালা বুধবার অনুষ্ঠিত হয় বলে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।

এতে বলা হয়, কর্মশালাটি আয়োজন করে বুয়েটের রিসার্চ অ্যান্ড ইনোভেশন সেন্টার ফর সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (রাইজ) এবং জিপিএইচ ইস্পাত লিমিটেড। শিল্প-একাডেমিয়া সহযোগিতার মাধ্যমে উদ্ভাবনের পরিবেশ আরও শক্তিশালী করতে এ অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়।

তিনটি সেশনের প্রথমটির বিষয় ছিল ‘ম্যানেজিং ইন্টেলেকচুয়াল প্রোপার্টি: দ্য রোল অফ দ্য স্টেট অ্যান্ড অর্গানাইজেশন ইন ইনোভেশন’। এ সেশনে বুয়েটের কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক এবং ইনস্টিটিউট অফ অ্যাপ্রোপ্রিয়েট টেকনোলজির (আইএটি) পরিচালক মহিদুস সামাদ খান বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পদ ব্যবস্থাপনায় রাষ্ট্র ও প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।

দ্বিতীয় সেশনে ‘প্র্যাকটিক্যাল ইনসাইট অন আইপি ইনফ্রিঞ্জমেন্ট অ্যান্ড প্রোটেকশন ইন বাংলাদেশ’ বিষয়ে বক্তব্য দেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী সালেহ আকরাম সম্রাট। আদালতের বিভিন্ন কেস স্টাডি ও বাস্তব উদাহরণ তুলে ধরে তিনি ব্যাখ্যা করেন—কীভাবে আইনি সুরক্ষা ও সচেতনতার অভাবে অনেক উদ্ভাবক তাদের বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পদ হারাচ্ছেন।

শেষ সেশনের ‘স্ট্রেনদেনিং দ্য আইপি পলিসি অ্যান্ড কমার্শিয়ালাইজেশন ইকোসিস্টেম ইন বাংলাদেশ: দ্য রোল অফ পেটেন্টস ইন ড্রাইভিং ইনোভেশন’ বিষয়ে কথা বলেন শিল্প মন্ত্রণালয়ের পেটেন্ট, ইন্ডাস্ট্রিয়াল ডিজাইন ও ট্রেডমার্ক বিভাগের উপ পরিচালক মির্জা গোলাম সারোয়ার। তিনি বাংলাদেশের আইপি কাঠামোকে শক্তিশালী করার উপায়, পেটেন্ট আবেদন প্রক্রিয়া এবং বাণিজ্যিকীকরণের মাধ্যমে উদ্ভাবনের অর্থনৈতিক মূল্য সৃষ্টির সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেন।

কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে বুয়েটের ন্যানোম্যাটেরিয়াল অ্যান্ড সিরামিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রধান এ এস এম এ হাসিব বলেন, “উদ্ভাবন ও গবেষণার প্রকৃত মূল্য তখনই পাওয়া যায়, যখন তার বুদ্ধিবৃত্তিক স্বত্ব সঠিকভাবে সংরক্ষিত হয়। একাডেমিয়া ও শিল্পের পারস্পরিক সহযোগিতা এই ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। বুয়েট সবসময় এমন উদ্যোগকে স্বাগত জানায়, যা দেশের প্রযুক্তি-নির্ভর অগ্রযাত্রাকে ত্বরান্বিত করবে।”

জিপিএইচ ইস্পাত লিমিটেডের চিফ পিপল অফিসার শারমিন সুলতান বলেন, “আমরা বিশ্বাস করি, বাংলাদেশের গবেষণা ও উদ্ভাবনের পরিধি আরও বিস্তৃত করতে শিল্পখাতকে একাডেমিয়ার সঙ্গে যুক্ত করা জরুরি। 

“এই ওয়ার্কশপ তরুণ গবেষকদের ইন্টেলেকচুয়াল প্রপার্টির গুরুত্ব ও বাস্তব প্রয়োগ সম্পর্কে সচেতন করবে, যা ভবিষ্যতে দেশের ইন্ডাস্ট্রিয়াল ইনোভেশনকে নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দেবে।”