১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

দেড় বছরে কী করেছে ঢাবি: তালিকায় ‘ঈদ শোভাযাত্রা’, খালেদা জিয়াকে ‘স্মরণ’

চলতি জানুয়ারি পর্যন্ত ১৭ মাসে ৪১টি কাজের কথা তুলে ধরেন উপাচার্য।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 31 Jan 2026, 09:25 PM

Updated : 26 Aug 2026, 02:50 PM

আওয়ামী লীগ নেতৃত্বধীন সরকার পতনের পর গেল দেড় বছরে কী কী কাজ হয়েছে, সেই ফিরিস্তি তুল ধরল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। 

শনিবার বিকাল ৩টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনে সংবাদ সম্মেলনে এসে ৪১টি কাজের কথা তুলে ধরেন উপাচার্য নিয়াজ আহমদ খান। 

তিনি বলেন, ২০২৪ সালের ২৭ অগাস্ট থেকে ২০২৬ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত ১৭ মাসে এসব কাজ হয়েছে।

কাজের তালিকায় রয়েছে— সিনিয়র ম্যানেজমেন্ট টিম গঠন,বিশেষ আপৎকালীন আর্থিক সহায়তা প্রদান, গণরুম প্রথা বিলুপ্ত করা, ছাত্ররাজনীতির সংস্কার, ক্যাম্পাসে ‘শাটল’ পরিবহন সেবা চালু, ‘সেরা’ বিশ্ববিদ্যালয়ের সূচকে ‘অগ্রগতি’, ঈদ শোভাযাত্রা, নৈতিকতা ও মূল্যবোধ বিষয়ক কোর্স, যৌন হয়রানি নিপীড়ন এবং বুলিং ও র‍্যাগিং প্রতিরোধে পদক্ষেপ, ডাকসু নির্বাচন ও ‘জাতীয় ঐক্যের প্রতীক’ হিসেবে খালেদা জিয়াকে স্মরণ, সাত কলেজের ‘সম্মানজনক’ পৃথকীকরণসহ নানা কার্যক্রম তুলে ধরা হয়েছে। 

উপাচার্য বলেন,“আমরা সবকিছু একদম পুরোপুরি করতে পেরেছি, এমন না। আমরা আপনাদের নিয়ে চেষ্টা করছি।”

লিখিত বক্তব্যে ‘সিনিয়র ম্যানেজমেন্ট টিম’ (এসএমটি) গঠনের বিষয়ে বলা হয়, “এটি বিশ্ববিদ্যালয়ের উচ্চপর্যায়ের একটি প্রশাসনিক সমন্বয়কারী কাঠামো, যা উপাচার্যের নেতৃত্বে বিশ্ববিদ্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক কার্যক্রম দক্ষভাবে বাস্তবায়নে সহায়তা করে। এই টিমে উপাচার্য, দুই প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর, কোষাধ্যক্ষ, রেজিস্ট্রার ও প্রক্টর রয়েছেন। এসএমটি গঠনের মধ্য দিয়ে উপাচার্য তার নিরঙ্কুশ ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ নিশ্চিত করেছেন। 

“ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের যেকোনো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণে একক কর্তৃত্ব বা একনায়কতান্ত্রিক অবস্থানের সুযোগ থাকে না বরং সমন্বিত ও অংশগ্রহণমূলক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব হয়। এর ফলে প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বৃদ্ধি পাওয়ার পাশাপাশি কাজের গতি ত্বরান্বিত হয়েছে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা, গবেষণা, অবকাঠামো উন্নয়ন ও সামগ্রিক শাসন ব্যবস্থায় আরও কার্যকর অগ্রগতি নিশ্চিত হয়েছে”।

সেখানে ‘সিনিয়র ম্যানেজমেন্ট টিম’ গঠনের বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের যে অধ্যাদেশ আছে, সেটিতে এমন টিম গঠনের কোন নীতিমালা আছে কিনা জানতে চাইলে অনুষ্ঠানে প্রক্টর সাইফুদ্দিন আহমদ বলেন, “ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট,সিন্ডিকেট, একাডেমিক কাউন্সিল ও ডিন’স কমিটি গুরুত্বপূর্ণ নীতিনির্ধারণী ফোরাম। তবে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অধ্যাদেশে এমন নীতি না থাকলেও সিন্ডিকেট এটাকে গঠন করেছে। ফলে অধ্যাদেশ ২ এটা সংযুক্ত হবে।” 

‘ছাত্ররাজনীতির সংস্কার’ নিয়ে বলা হয়,“ক্যাম্পাসে রাজনীতি চর্চার প্রকৃতি ও ধরন বিষয়ে প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সুপারিশ প্রদানের জন্য খ্যাতিমান ব্যক্তিবর্গের সমন্বয়ে একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছে। বিভিন্ন বিষয়ে প্রধান অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা, মতবিনিময় ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের পরামর্শ নিয়েই কমিটি কাজ করছে।”

ছাত্ররাজনীতির সংস্কারে ২০২৪ সালের শেষ দিকে এ কমিটি গঠন করা হয়। 

 এতদিন পরেও কেন কমিটি প্রতিবেদন জমা দিতে পারেনি, সে বিষয়ে জানতে চাইলে অধ্যাপক নিয়াজ আহমদ কোনো উত্তর দেননি। 

অনুষ্ঠানে প্রক্টর সাইফুদ্দিন আহমদ জানান, ১৬ বছরের ‘বৈষম্য’ নিয়ে ২৬টি কমিটি গঠন করা হয়েছে। 

এর মধ্যে কয়টি কমিটির প্রতিবেদন জমা পড়েছে জানতে চাইলে প্রক্টর বলেন, “বেশ কয়েকটির কাজ চলমান আছে। আমাদের ঠিক মনে নেই, কয়টি প্রতিবেদন জমা পড়েছে।”

‘যৌন হয়রানি ও নিপীড়ন এবং বুলিং ও র‍্যাগিং প্রতিরোধে পদক্ষেপ’ নেওয়ার কথা জানায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। 

তবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে গত দেড় বছরে কোনো যৌন হয়রানি ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের নজির আছে কিনা জানতে চাইলে উপ-উপাচার্য সাইমা হক বিদিশা বলেন,“আমরা প্রতিটি হল, বিভাগ ও অনুষদে যৌন হয়রানি ও নিপীড়নের অভিযোগ বক্স স্থাপন করেছি। সেটার মধ্যদিয়ে শিক্ষার্থীরা কিছুটা হলেও সুফল পাবে।” 

এছাড়া প্রথমবারের মত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ঈদ শোভাযাত্রা এবং নৈতিকতা ও মূল্যবোধ বিষয়ক কোর্স চালু করার কথা তুলে ধরেন উপাচার্য অধ্যাপক নিয়াজ আহমদ খান। 

পাশাপাশি ‘জাতীয় ঐক্যের প্রতীক’ হিসেবে খালেদা জিয়াকে স্মরণ তাদের দেড় বছরের কার্যবিবরণীতে তুলে ধরা হয়। 

সেখানে বলা হয়, “জাতীয় ঐক্যের প্রতীক বেগম খালেদা জিয়ার প্রতি সর্বোচ্চ সম্মান প্রদর্শনের উদ্দেশ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে তিন দিনের শোক ঘোষণা করা হয়। এই সময়ে সকল ক্লাস ও পরীক্ষা স্থগিত রাখা হয় এবং পতাকা অর্ধনমিত রাখা হয়। শোক পালন উপলক্ষ্যে একাডেমিক সেমিনার, কোরআনখানি, দোয়া ও মোনাজাতসহ ধর্মীয় প্রার্থনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।”

অনুষ্ঠানের শেষ দিকে ঢাবির বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প উদ্বোধন করা হয়।