১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে সাংবাদিকদের সংঘর্ষ, আহত ৮

সাংবাদিক সমিতির দুই গ্রুপ ছাড়াও ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মী ও ছাত্রদল কর্মীরাও দুই দলে ভাগ হয়ে ‘সংঘর্ষে জড়ান’ বলে অভিযোগ উঠেছে।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 05 Mar 2026, 11:57 PM

Updated : 26 Aug 2026, 03:05 PM

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সংগঠনটির দুই গ্রুপের সংবাদকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে।

বৃহস্পতিবার বেলা পৌনে ১২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়টির অবকাশ ভবনের তৃতীয় তলায় সাংবাদিক সমিতির কার্যালয়ের সামনে এ ঘটনা ঘটে। এতে সংবাদকর্মীসহ অন্তত ৮ জন আহত হন।

আহতরা হলেন- প্রথম আলোর জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি শাহাদাত হোসেন, বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) মাহামুদুর রহমান নাজিদ, বাংলাদেশ প্রতিদিনের মাহির মিলন, কালের কণ্ঠের জুনায়েদ শেখ, যুগান্তরের সাকেরুল ইসলাম, সময়ের আলোর মুশফিকুর রহমান ইমন।

এছাড়া জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রঅধিকার পরিষদের সভাপতি একেএম রাকিব, ছাত্রশিবিরের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল আলিম আরিফও আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

সাংবাদিক সমিতির দুই গ্রুপ ছাড়াও ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মী ও ছাত্রদল কর্মীরাও দুই দলে ভাগ হয়ে সংঘর্ষে জড়ান বলে অভিযোগ উঠেছে।

সাংবাদিক সমিতির বর্তমান কমিটিতে দায়িত্বরত এক সংবাদকর্মী বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “সমিতির নির্বাচনকে সামনে রেখে আমরা গঠনতন্ত্র অনুযায়ী তফসিল ঘোষণা করেছি। সেজন্য তাদের (অপর পক্ষ) সঙ্গে বসে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করার জন্য বলেছি। কিন্তু তারা আমাদের কাছে সরাসরি পদের ভাগ চান। সে প্রস্তাবে আমরা রাজি হইনি।

“গতকাল (বুধবার) রাতে আমরা জানতে পারি, আজ (বৃহস্পতিবার) তারা সমিতির কার্যালয়ে এসে বিশৃঙ্খলা করবে, সেজন্য আমাদের ফরম বিতরণ কার্যক্রম স্থগিত রেখে আমাদের নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে পরামর্শে বসি। এরই মধ্যে তারা সমিতির সামনে এসে যখন বিশৃঙ্খলা করে। তখন ভেতরে আমাদের জুনিয়র কিছু সংবাদকর্মী ছিল। পরে আমরা সমিতিতে গেলে উদ্ভূত পরিস্থিতির সম্মুখীন হই।”

বিষয়টি নিয়ে সাংবাদিক সমিতির আরেক পক্ষের সদস্য আহত সাংবাদিক মাহামুদুর রহমান নাজিদের মোবাইল ফোনে ফোন করলে তিনি লিখিত বক্তব্য দিতে চান। তবে পরে আবার ফোন করলে তিনি ধরেননি।

বিকালে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির দপ্তর সম্পাদক সাকেরুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, “বৃহস্পতিবার সাংবাদিক সমিতির নির্বাচনের মনোনয়ন ফরম সংগ্রহের দিন ধার্য ছিল। এর মধ্যে বেলা পৌনে ১টার দিকে জবি ছাত্রদলের ‘সুপার ফাইভের’ (শীর্ষ ৫ নেতা) নেতৃত্বে সাংবাদিক সমিতির কার্যালয়ে প্রবেশ করে হামলা চালায় কিছু বহিরাগত। নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পূর্ব থেকে ছাত্রদলের আহ্বায়ক মেহেদী হাসান হিমেল ও সদস্য সচিব শামসুল আরেফিন বারবার বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যসহ প্রশাসনের উপর চাপ দিয়ে আসছিল, যাতে সাংবাদিক সমিতির নির্বাচনি কার্যক্রম বন্ধ করা হয়।”

বিকালে ‘সাংবাদিকদের ওপর ছাত্রশিবিরের হামলার অভিযোগ করে’ সংবাদ সম্মেলনও করে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদল।

সেখানে ছাত্রদলের আহ্বায়ক মেহেদি হাসান হিমেল বলেন, “আমরা চাই জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় এর প্রতিটি সাংবাদিক সংগঠন নিরপেক্ষতা বজায় রেখেই চলবে। কিন্তু আমরা দেখতে পাই একটা গোষ্ঠী জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতিকে তাদের পক্ষে নিতে নিয়মবহির্ভূত ভাবে কারো সঙ্গে কোনো আলোচনা না করে গঠনতন্ত্র প্রণয়ন করে। 

“আমরা চাই সাংবাদিকদের সংগঠন সাংবাদিকরাই নেতৃত্ব দিবে, এখানে আমাদের কোনো দায়িত্ব নেই। তবে আমরা চাই এটা যাতে কারো পক্ষপাতিত্ব না হয়, এজন্য আমরা ভিসি স্যার, প্রক্টর স্যার নির্বাচন কমিশনারকে বলেছি তারা যেন সবার সঙ্গে আলোচনা করে তারপর একটা নিরপেক্ষ তফসিল ঘোষণা করে।”

অপরদিকে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবির সাধারণ সম্পাদক ও জকসুর জিএস আব্দুল আলিম আরিফ ঘটনার বিষয়ে বলেন, “জকসুর একটি পূর্বনির্ধারিত সংবাদ সম্মেলন ছিল। সংবাদ সম্মেলন শেষে জকসুর অফিসে থাকা অবস্থায় অবকাশ ভবনের উপরতলা থেকে চিৎকার-চেঁচামেচির শব্দ শুনে সেখানে গিয়ে মারামারির ঘটনা দেখতে পাই। জকসুর প্রতিনিধি হিসেবে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করি, একেবারে শেষ সময় আমার বাম হাতে আঘাত লাগে।”

তিনি বলেন, “জকসুর জিএস বা শিবিরের নেতৃত্ব হামলার যে অভিযোগ তোলা হচ্ছে, তা একেবারেই মিথ্যা ও দায় দেওয়ার সংস্কৃতির বহিঃপ্রকাশ। ‘জকসুর জিএসের হাতে লাঠি’ এরকম অভিযোগও আসছে, যা পরিপূর্ণ ভিত্তিহীন। এই ঘটনার সব ভিডিও ফুটেজ সবার কাছেই রয়েছে। সেগুলো দেখলেই ঘটনা স্পষ্ট হবে। এসব অভিযোগের বিষয়ে আমাদের পক্ষ থেকে সংবাদ সম্মেলন করে সত্যতা তুলে ধরা হবে।”

এ বিষয়ে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মুহাম্মদ তাজাম্মুল হকের মোবাইল ফোনে ফোন করলে তিনি ধরেননি।