Published : 15 Jun 2025, 10:16 PM
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ নির্বাচনের (ডাকসু) কমিশন সোমবার ঘোষণা হতে পারে বলে আশ্বাস দিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর সহযোগী অধ্যাপক সাইফুদ্দিন আহমদ।
ডাকসু নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার দাবিতে উপাচার্যের বাসভবনের সামনে অব্স্থান নেওয়া শিক্ষার্থীদের আশ্বস্ত করে তিনি বলেন, “আগামীকাল (সোমবার) বিকালে সিন্ডিকেট মিটিং আছে। মিটিংয়ে আমরা ডাকসুর নির্বাচন কমিশনটা পাস করিয়ে নেব। এ ব্যাপারে আমরা আশাবাদী।
“ডাকসুর ব্যাপারে পরবর্তী সকল কার্যক্রম এই নির্বাচন কমিশন ঘোষণা করবে সকল আনুষ্ঠানিকতা এই নির্বাচন কমিশনই পরিচালনা করবে।”
তার আগে রোববার দুপুর থেকে ডাকসুর নির্বাচন কমিশন ও তফসিল ঘোষণার দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের বাসভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল শিক্ষার্থী।
‘ডাকসু আমার অধিকার, রুখে দেয় সাধ্য কার’, ‘ডাকসু আমার অধিকার, নারী শিক্ষার্থীদের হল বৃদ্ধি ডাকসুর অন্যতম ইশতেহার’ এমন স্লোগান লেখা প্ল্যাকার্ড নিয়ে তাদের অবস্থান কর্মসূচিতে দেখা গেছে।
বিকাল সাড়ে ৪টায় উপাচার্যের বাসভবনের সামনে ‘শিক্ষার্থীবৃন্দ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়’ ব্যানারে ডাকা এ কর্মসূচিতে কয়েকজন শিক্ষার্থীকে দেখা যায়।
তাদের দাবি, অবিলম্বে ডাকসু নির্বাচনের কমিশন গঠন এবং নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করতে হবে।
সে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ছিলেন ছাত্র অধিকার পরিষদের সভাপতি বিন ইয়ামিন মোল্লা। তিনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “ডাকসু নির্বাচন বানচাল করার জন্য বিভিন্ন মহল থেকে ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে।
“বিভিন্ন গোষ্ঠী বলার চেষ্টা করছে যে ডাকসু নির্বাচনের পরিবেশ নাই, বিশ্ববিদ্যালয়ে নিরাপত্তা নাই, বিশ্ববিদ্যালয়ে আওয়ামী লীগের দোসর আছে, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনা করতে পুরোপুরি সক্ষম নয় সুতরাং ডাকসু নির্বাচন দেওয়া যাবে না।”
একই দাবিতে এর আগে অনশন করা ইয়ামিন মোল্লা বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনার দায়িত্ব কি কেবলমাত্র প্রশাসন, কর্মকর্তা, কর্মচারীদের? কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ এবং হল সংসদে নির্বাচিত শিক্ষার্থীরাসহ প্রশাসন বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনা করবে।”
বিশ্ববিদ্যালয়ের যে ‘ব্যর্থতাগুলো’ লক্ষণীয় সেগুলো ঘোচানোর জন্যই ডাকসু নির্বাচন প্রয়োজন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
শতবর্ষী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এখন পর্যন্ত ছাত্র সংসদ নির্বাচন হয়েছে ৩৭ বার। এর মধ্যে ২৯ বারই হয়েছে ব্রিটিশ ও পাকিস্তান আমলের ৫০ বছরে। স্বাধীন দেশে ৫৩ বছরে মাত্র ৮ বার ভোট দেখেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।
১৯৭৩ সালের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অধ্যাদেশ অনুসারে, প্রতি বছর ডাকসু ও হল সংসদ নির্বাচন হওয়ার কথা। ডাকসু মনোনীত পাঁচ শিক্ষার্থী প্রতিনিধি বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম সিনেটের সদস্য হন। তারা শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন সমস্যা ও সুযোগের বিষয় তুলে ধরেন সিনেটে।
সবশেষ ডাকসু নির্বাচন হয়েছিল ২০১৯ সালে। সেই সংসদের মেয়াদপূর্তির পর পেরিয়ে গেছে আরো পাঁচ বছর। নির্বাচন না হওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেটে থাকছে না শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধিত্ব।
২০২৪ সালের ৫ অগাস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ফেব্রুয়ারির মধ্যে এই নির্বাচন আয়োজনের পরিকল্পনার কথা বলেছিল বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
তবে সে পরিকল্পনা বাস্তবে রূপ দিতে পারেনি প্রশাসন। ১৫ এপ্রিল ডাকসু নির্বাচনের ‘পথনকশা’ ঘোষণা করা হয়, সেখানে মে মাসের মাঝামাঝি সময়ের মধ্যে প্রস্তুতি শেষ করে ডাকসু নির্বাচনের তারিখ ঘোষণার কথা বলা হয়।
সে সময় পেরিয়ে যাওয়ার পর ২২ মে ডাকসু নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার দাবিতে আমরণ অনশনে বসেছিলেন বিশ্ববিদ্যালয় কয়েকজন শিক্ষার্থী। পরের দিন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক সায়মা হক বিদিশা ও প্রক্টর সাইফুদ্দিন আহমদ ২ জুনের মধ্যে নির্বাচন কমিশন গঠনের আশ্বাস দিলে অনশন ভাঙেন তারা।
পুরনো খবর: