ভাড়া নিয়ে তর্ক, চবি শিক্ষার্থীকে অটোরিকশাচালকের মারধর
“হামলায় শিক্ষার্থীর চোখে আঘাত লাগে, চশমা ভেঙে যায়, শরীরের বিভিন্ন স্থানেও আঘাতের চিহ্ন রয়েছে,” বলেন সহকারী প্রক্টর।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) ভাড়া নিয়ে বিতণ্ডার একপর্যায়ে শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে এক অটোরিকশাচালকের বিরুদ্ধে।
মঙ্গলবার দুপুর ২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের এক নম্বর গেইট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে বলে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
আহত মেহেদি হাসান চবির মেরিন সায়েন্স ইনস্টিটিউটের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী।
বিশ্ববিদ্যালয়টির সহকারী প্রক্টর কামরুল হোসেন বলেন, “ক্যাম্পাসের জিরো পয়েন্ট থেকে এক নম্বর গেইটে যাওয়ার সময় নির্ধারিত ৭ টাকার পরিবর্তে সিএনজিচালক ১০ টাকা ভাড়া দাবি করেন। অতিরিক্ত ভাড়া চাওয়ায় শিক্ষার্থী প্রতিবাদ করলে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে চালক শিক্ষার্থীকে মারধর করলে তিনি গুরুতর আহত হন।”
কামরুল হোসেন বলেন, “হামলায় শিক্ষার্থীর চোখে আঘাত লাগে। তার চশমা ভেঙে যায়। শরীরের বিভিন্ন স্থানেও আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। খবর পেয়ে সহকারী প্রক্টররা ঘটনাস্থলে গিয়ে আহত শিক্ষার্থীকে উদ্ধার করে দ্রুত বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারে পাঠান। সেখানে তার চিকিৎসা চলছে।”
চবির মেডিকেলের চিকিৎসক মোস্তফা কামাল হোসেন বলেন, “ওই শিক্ষার্থীর শরীরের অনেক জায়গায় কাটা ছেঁড়ার দাগ পাওয়া গেছে, সেটা আমরা ড্রেসিং করেছি। শরীরের বিভিন্ন জায়গায় ব্যথা পেয়েছে আমরা আপাতত ব্যথা উপশমের ওষুধ দিয়েছি।”
মারধরের খবর ছড়ালে বিশ্ববিদ্যালয়টির শিক্ষার্থীরা তাৎক্ষণিকভাবে জিরো পয়েন্ট এলাকায় গিয়ে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন। পরে সেখানে যান উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ আল ফোরকান। এসময় শিক্ষার্থীরা উপাচার্যের কাছে দাবিদাওয়া তুলে ধরেন।
দাবিগুলো হল- মঙ্গলবার রাতের মধ্যেই হামলাকারীকে গ্রেপ্তার করতে হবে। এর আগ পর্যন্ত এক নম্বর গেইট থেকে জিরো পয়েন্ট রোডে অটোরিকশা চলাচল বন্ধ থাকবে। শিক্ষার্থীদের পরিবহনে বিশ্ববিদ্যালয়ের চারটি বাস চক্রাকারে চলবে। সাত দিনের মধ্যে এক নম্বর গেইটে একটি পুলিশ বক্স বসাতে হবে।
দাবিদাওয়ার বিষয়ে উপাচার্য আল ফোরকান বলেন, “সেই সিএনজিচালক গ্রেপ্তার না হওয়া পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ে সকল ধরনের সিএনজি চলাচল বন্ধ থাকবে। এই সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে আমাদের নিজস্ব পরিবহন চক্রাকার আকারে চলবে।”
