Published : 29 May 2026, 09:25 PM
ঈদুল আজহার ছুটির মধ্যে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে আবার নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের পোস্টার লাগানো হয়েছে।
শুক্রবার দুপুরে সংগঠনটির বিশ্ববিদ্যালয় শাখার নেতা সাজবুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ফটকে ও দেয়ালে পোস্টার লাগিয়েছেন, সে সময় তার সঙ্গে ছিলেন আরও কয়েকজন নেতা।
এর আগে ঈদুল ফিতরের ছুটিতেও ছাত্রলীগের এই নেতা বিশ্ববিদ্যালয়ে পোস্টার ও ব্যানার লাগিয়েছিলেন।
সাজবুল বিশ্ববিদ্যালয় ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।
২০২৪ সালের ৫ অগাস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটে। এরপর সন্ত্রাসবিরোধী আইনে ছাত্রলীগকে নিষিদ্ধ করে মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার। গেল বছর আওয়ামী লীগের কার্যক্রমেও নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়।

জুলাই অভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে আওয়ামী লীগের ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠন ছাত্রলীগের জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখার কোনো কমিটি প্রকাশিত না হলেও সভাপতি ইব্রাহীম ফরাজি ও সাধারণ সম্পাদক আকতার হোসাইনের কর্তৃক কমিটি পূর্ণাঙ্গ করার গুঞ্জন রয়েছে।
সাজবুল বর্তমানে সেই পূর্ণাঙ্গ কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে নিজেকে পরিচয় দিয়েছেন।
পোস্টার সাঁটানোর পর একটি ভিডিও নিজের ফেইসবুকে পোস্ট করেছেন সাজবুল। সেখানে তিনি বলেন, “এই মুহূর্তে আমি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় গেইটে আছি। বাংলাদেশ আওয়ামি লীগ ও বাংলাদেশ ছাত্রলীগের অবৈধ নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করার জন্য আজ আমরা পোস্টারিং কার্যক্রম করেছি।
“জামায়াত-শিবির আর বিএনপি এই মানচিত্রকে খামচে ধরেছে। এই মানচিত্র আমরা মুক্ত করবো, বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা আমরা মুক্ত করবো, ইনশাআল্লাহ।”
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিশ্ববিদ্যালয়ে দায়িত্বরত এক নিরাপত্তা কর্মী বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “অনেকেই ঈদের ছুটিতে থাকায় আমরা নিরাপত্তাকর্মীরা সংখ্যায় অনেক কম। আর তারা তো সুযোগ বুঝে আসে ও মুহূর্তের মধ্যেই কাজ সেরে চলে যায়। এজন্য তাদের ধরাটা মুশকিল হয়ে যায়।”

বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ফটকে ও দেয়ালে লাগানো পোস্টারগুলোতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়ের ছবির পাশাপাশি নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি সাদ্দাম হোসেন এবং সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনানের ছবিও ব্যবহার করা হয়েছে।
পোস্টারে ‘শিক্ষার অধিকার ফিরিয়ে দিতে হবে’, ‘বাংলাদেশ ছাত্রলীগের নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে হবে’ এবং ‘রাজবন্দিদের নিঃশর্ত মুক্তি দিতে হবে’—এমন বিভিন্ন স্লোগান লেখা ছিল।
এর আগে ঈদুল ফিতরের ছুটিতে চলতি বছরের ২০ মার্চে একইভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ফটকে বাংলাদেশ ছাত্রীগের নাম ও লোগো সম্বলিত একটি ব্যানার সাঁটান তিনি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন বলেন, “নিষিদ্ধ ঘোষিত একটি সংগঠন গোপনে পোস্টারিং করে কাপুরুষতার পরিচয় দিয়েছে। তারা এমন সময়ে পোস্টারিং করেছে, যখন ক্যাম্পাসে তেমন কেউ উপস্থিত ছিল না। নিরাপত্তাকর্মীদের চোখ এড়িয়ে ঘটনাটি ঘটেছে। ক্যাম্পাস খোলার পর এ বিষয়ে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”