বঙ্গবন্ধু শিক্ষাখাতকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়েছিলেন: ঢাবি উপাচার্য
স্বাধীনতার পর যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ গঠনে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান দেশের শিক্ষাখাতকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়েছিলেন বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মো. আখতারুজ্জামান।
তিনি বলেছেন, “শিক্ষাকে জাতীয়করণ, শিক্ষা ব্যবস্থায় স্বায়ত্তশাসন প্রদান এবং শিক্ষাখাতে সর্বোচ্চ বরাদ্দ দিয়ে তিনি একটি সৎ, দক্ষ ও প্রশিক্ষিত জাতি গঠন করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু ঘাতকরা তার সেই স্বপ্ন পূরণ হতে দেয়নি। বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সফল বাস্তবায়ন এবং তার অসমাপ্ত কাজ সম্পন্ন করতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।”
রোববার জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আব্দুল মতিন চৌধুরী ভার্চুয়াল ক্লাসরুমে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় অধ্যাপক আখতারুজ্জামান এ কথা বলেন।
‘জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জীবন ও কর্ম’ শীর্ষক এই ভার্চুয়াল আলোচনা সভায় বঙ্গবন্ধুর বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবনের নানান দিক তুলে ধরেন উপাচার্য।
তিনি বলেন, “জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান অসাম্প্রদায়িক ও মানবিক মূল্যবোধসম্পন্ন এক সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন দেখেছিলেন। তিনি সাধারণ মানুষের ভাগ্যোন্নয়নের লক্ষ্যে আজীবন কাজ করে গেছেন।
“জীবনের মাত্র ১২ ভাগ সময় তিনি পরিবারকে দিয়েছিলেন। বাকি ৮৮ ভাগ সময় তিনি গণমানুষের সেবায় ব্যয় করেছিলেন। বঙ্গবন্ধুর এই মহান আত্মত্যাগের কথা কেউ যেন ভুলে না যায়।”
উপ-উপাচার্য ( প্রশাসন) অধ্যাপক মুহম্মদ সামাদ বলেন, “জাতির জন্য, মানষের জন্য বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবারের অবদান,আত্মদান ও ত্যাগ-তিতীক্ষার উদাহরণ পৃতিবীর ইতিহাসে দ্বিতীয়টি নেই। আজকের এই দিনটি আমাদের জন্য শোকের , শক্তির। শোককে শক্তিতে পরিণত করে আজকে বঙ্গবন্ধু কন্যা তার পিতার স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়তে দিনরাত অবিরাম চেষ্টা করছেন।
“১৫ আগস্টের শপথ হবে বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়তে অসাপ্ত কাজ সম্পন্ন করা, বঙ্গবন্ধুর কন্যা শেখ হাসিনার নির্দেশে যার যার জায়গা থেকে দেশের জন্য কাজ করা, দেশকে এগিয়ে নেওয়া।”
বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার প্রবীর কুমার সরকারের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে
কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক মমতাজ উদ্দিন আহমেদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক মো. রহমত উল্লাহ, সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মো. নিজামুল হক ভূইয়া, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের মহাসচিব রঞ্জন কর্মকারসহ অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশন, কর্মচারী সমিতি, কারিগরি কর্মচারী সমিতি ও চতুর্থ শ্রেণী কর্মচারী ইউনিয়নের নেতারা বক্তব্য দেন।
স্বাধীনতার চার বছরের মধ্যে ১৯৭৫ সালের ১৫ অগাস্ট সেনাবাহিনীর একদল কর্মকর্তা ও সৈনিকের হাতে সপরিবারে জীবন দিতে হয় বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের নায়ক, তৎকালীন রাষ্ট্রপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে।
তার পরিবারের ছয় বছরের শিশু থেকে শুরু করে অন্তঃসত্ত্বা নারীও সেদিন ঘাতকের গুলি থেকে রেহাই পায়নি। সেই দিনটি বাংলাদেশ পালন করে জাতীয় শোক দিবস হিসেবে।
শোক পালনে এদিন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান প্রধান ভবন ও হলে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হয় এবং কালো পতাকা উত্তোলন করা হয়।
সকালে উপাচার্য অধ্যাপক আখতারুজ্জামানের নেতৃত্বে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ধানমণ্ডিতে বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘরে জাতির পিতার প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন।
এছাড়া জোহরের নামাজের পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদ মসজিদুল জামিয়াসহ প্রত্যেক হল ও আবাসিক এলাকার মসজিদে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ ১৫ অগাস্ট নিহত সবার রূহের মাগফেরাত কামনা করে দোয়া মাহফিল এবং বিশ্ববিদ্যালয় এলাকার অন্য ধর্মীয় উপাসনালয়ে বিশেষ প্রার্থনার আয়োজন করা হয়।
