১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

মৃত্যুবার্ষিকীতে স্যার ফজলে হাসান আবেদকে স্মরণ ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের

২০১৯ সালের ২০ ডিসেম্বর রাজধানীর একটি হাসপাতালে মারা যান ব্র্যাকের প্রতিষ্ঠাতা স্যার ফজলে হাসান আবেদ।

নিজস্ব প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 20 Dec 2023, 10:53 PM

Updated : 20 Dec 2023, 10:53 PM

বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ব্র্যাকের প্রতিষ্ঠাতা স্যার ফজলে হাসান আবেদের চতুর্থ মৃত্যুবার্ষিকীতে নানা কর্মসূচিতে তার স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়। 

বুধবার সকালে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো ভাইস-চ্যান্সেলর এবং ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য অধ্যাপক সৈয়দ মাহফুজুল আজিজ বনানী কবরস্থানে তার কবরে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। 

এরপর ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ে স্মরণ সভার আয়োজন করা হয়। সেখানে শিক্ষা ও সমাজ উন্নয়নে ফজলে হাসান আবেদের অবদানসহ তার জীবনের বিভিন্ন দিক ও দর্শন নিয়ে আলোচনা হয়। 

স্যার ফজলে হাসান আবেদ ৩৬ বছর বয়সে, ১৯৭২ সালে তদানীন্তন সিলেট জেলায় একটি ক্ষুদ্র ত্রাণ ও পুনর্বাসন প্রকল্প হিসেবে ব্র্যাক প্রতিষ্ঠা করেন। পরের পাঁচ দশকে বহু বিস্তৃত কার্যক্রমের মধ্য দিয়ে ব্র্যাক বিশ্বের অন্যতম কার্যকরী বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থায় পরিণত হয়।

১৯৩৬ সালের ২৭ এপ্রিল হবিগঞ্জের বানিয়াচংয়ে জন্মগ্রহণকারী ফজলে হাসান আবেদ ২০১৯ সালের ২০ ডিসেম্বর রাজধানীর একটি হাসপাতালে মারা যান।

স্মরণ সভায় ব্র্যাক ইন্সটিটিউট অব ল্যাঙ্গুয়েজেস এর সিনিয়র ডিরেক্টর সৈয়দা সারওয়াত আবেদ বলেন, ফজলে হাসান আবেদ দেশে ৪৫ হাজার প্রাথমিক বিদ্যালয় তৈরি করেছেন। 

“প্রাথমিক শিক্ষায় স্যার ফজলে হাসান আবেদের রয়েছে অভূতপূর্ব অবদান। সমাজের সবাইকে সম্পৃক্ত করতে উদ্ভাবনী শিক্ষাপদ্ধতি চালু করেছেন তিনি। বাংলাদেশ এবং বিশ্বের শিক্ষা ক্ষেত্রে দীর্ঘস্থায়ী এক প্রভাব রেখে গেছেন।” 

ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য অধ্যাপক সৈয়দ মাহফুজুল আজিজ বলেন, “ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয় স্যার ফজলে হাসান আবেদের দূরদর্শী চিন্তার শ্বাশ্বত প্রমাণ হিসেবে অটল থাকবে। 

“কেবল আনুষ্ঠানিকতায় নয়, ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির গবেষণা, পাঠদান এবং পাঠ্যক্রমের মধ্যে স্যার ফজলে ও তার অবদান আজীবন বেঁচে থাকবে।” 

বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক রেজিস্ট্রার মেজর জেনারেল (অব.) সাহুল আফজাল বলেন, “শিক্ষাক্ষেত্রে স্যার ফজলের যে অবদান তার পরিধি এত ব্যাপক এবং বিস্তৃত যে তার সবকিছু পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে সঙ্কলন এবং নথিভুক্ত করতে একাধিক বইয়ের প্রয়োজন হবে।” 

তিনি সবাইকে, বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মকে স্যার ফজলে সম্পর্কে জানার ও অধ্যয়নের আহ্বান জানান।

বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার ডেভিড ডাউল্যান্ড বলেন, “স্যার ফজলের জীবনের অসাধারণ যাত্রা, একজন উদ্যোক্তা হিসেবে তার অর্জনসমূহ এবং জাতীয় থেকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ব্র্যাকের অগ্রযাত্রা আমাদের শিক্ষার্থীদের জন্য বিশাল অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করে থাকে।” 

ব্র্যাক ইন্সটিটিউট অফ ল্যাঙ্গুয়েজেস এর পরিচালক অধ্যাপক শায়লা সুলতানাসহ বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা আলোচনা সভায় উপস্থিত ছিলেন। 

অনুষ্ঠানে ফজলে হাসান আবেদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে কবিতা আবৃত্তি এবং সংগীত পরিবেশন করেন ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষক। 

এছাড়া তার জীবনের স্মরণীয় মূহুর্তগুলোর ছবি নিয়ে ডিজিটাল প্রদর্শনী চলছে, যা চলবে আগামী সাতদিন। শিক্ষার্থীরাও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তার বিভিন্ন অবদান তুলে ধরে কন্টেন্ট শেয়ার করেছেন।