১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২ আশ্বিন ১৪৩৩

ঢাবিতে প্রাধ্যক্ষের বিরুদ্ধে নির্যাতনের অভিযোগ তদন্তে কমিটি

রোববার ফেইসবুকে প্রাধ্যক্ষের বিরুদ্ধে পোস্ট দেওয়ায় নির্যাতনের শিকার হওয়ার অভিযোগ তোলেন এক শিক্ষার্থী।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 17 Aug 2026, 06:05 PM

Updated : 11 Sep 2026, 03:51 PM

ফেইসবুকে প্রাধ্যক্ষের বিরুদ্ধে পোস্ট করায় ফজলুল হক মুসলিম হলের এক শিক্ষার্থীকে নির্যাতনের যে অভিযোগ উঠেছে, তা তদন্তে ৫ সদস্যের কমিটি গঠন করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) কর্তৃপক্ষ।

প্রক্টর অধ্যাপক ইসরাফিল রতনকে আহ্বায়ক করে এ কমিটি গঠন করা হয় বলে সোমবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তরের এক বিজ্ঞপ্তিতে তথ্য দেওয়া হয়েছে। 

কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন- সহকারী প্রক্টর অধ্যাপক শান্টু বড়ুয়া, সহকারী প্রক্টর এনামুল হক সজীব এবং সহকারী প্রক্টর মীর মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুন আলী। ফজলুল হক মুসলিম হলের সহকারী আবাসিক শিক্ষক আল আমীন সিকদার কমিটির সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। কমিটিকে দ্রুততম সময়ের মধ্যে প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে। 

এর আগে রোববার ফেইসবুকে প্রাধ্যক্ষের বিরুদ্ধে পোস্ট দেওয়ায় নির্যাতনের শিকার হওয়ার অভিযোগ তোলেন মো. ইব্রাহিম নামে ফজলুল হক মুসলিম হলের এক শিক্ষার্থী। ওই শিক্ষার্থীর ভাষ্য, তাকে আটকে রেখে ‘ভয়ভীতি’ দেখানো হয়েছে। ফোন কেড়ে নেওয়ার কথাও বলেছেন তিনি।

তবে প্রাধ্যক্ষ ইলিয়াস আল মামুনের দাবি, ওই শিক্ষার্থী ফেইসবুকে তার বিরুদ্ধে মিথ্যা কথা ছড়িয়েছেন। এ বিষয়ে কথা বলার জন্য তাকে ডাকা হয়েছিল। মারধর বা নির্যাতন চালানোর অভিযোগ ঠিক নয়।

মো. ইব্রাহীম বিশ্ববিদ্যালয়ের রোবটিক্স অ্যান্ড মেকাট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের ছাত্র। তিনি ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী সংসদ-২’ নামে একটি ফেইসবুক গ্রুপে সম্প্রতি একটি পোস্ট দেন, যেখানে প্রাধ্যক্ষ ইলিয়াস আল মামুনের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ তোলেন।

এসব অভিযোগের বিষয়ে ইলিয়াস আল মামুন সাংবাদিকদের বলেন, “ওই শিক্ষার্থী তার সম্পর্কে ফেইসবুকে এমন কিছু লিখেছেন, যা সঠিক নয়। এ বিষয়ে জানার জন্য হল সংসদের সঙ্গে কথা বলার পর তাকে ডাকা হয়েছিল।”

ফোন নেওয়ার বিষয়ে প্রাধ্যক্ষ বলেন, শিক্ষার্থী কথোপকথন রেকর্ড করছিলেন বুঝতে পেরে ফোনটি বের করতে বলা হয় এবং পরে তিনি রেকর্ড করা বিষয়টি মুছে দেন। 

ওই শিক্ষার্থী লিখিত বক্তব্যে হল সংসদের ভিপি, জিএস ও এজিএসের প্ররোচণায় পোস্টটি করেছিলেন বলেও দাবি করেন তিনি।

এদিকে এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে রোববার রাতে প্রাধ্যক্ষের অফিস তালাবদ্ধ করে বিক্ষোভ করে ফজলুল হক মুসলিম হলের আবাসিক শিক্ষার্থীরা।

পরে রাত ২টার দিকে প্রক্টর ও দুই উপ-উপাচার্য সেখান থেকে প্রাধ্যক্ষকে উদ্ধার করেন। এ সময় হলটির ছাত্রশিবির ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।

ঢাবিতে প্রাধ্যক্ষের বিরুদ্ধে পোস্ট দেওয়ায় শিক্ষার্থীকে নির্যাতনের