Published : 11 Nov 2025, 08:47 PM
কার্যক্রমে নিষেধাজ্ঞা থাকা আওয়ামী লীগের ঢাকা ‘লকডাউন’ কর্মসূচিকে ঘিরে জনগণকে গণপ্রতিরোধের আহ্বান জানিয়েছে সম্মিলিত ছাত্র সংসদ।
দেশের যেখানে নিষিদ্ধ সংগঠনের ‘সন্ত্রাসীদের’ পাওয়া যাবে, সেখানে তাদের প্রতিরোধ করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী হাতে তুলে দেওয়ার আহ্বানও এসেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ চার বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের এই মোর্চার তরফে।
মঙ্গলবার ডাকসু, জাকসু, রাকসু ও চাকসুর চার ভিপি স্বাক্ষরে সম্মিলিত ছাত্র সংসদের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, “আমরা দলমত নির্বিশেষে বাংলাদেশের সকল দেশপ্রেমিক নাগরিক, ছাত্র-জনতা-শ্রমিকসহ সর্বস্তরের জনগণের প্রতি গণহত্যাকারী ফ্যাসিস্ট এবং সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ শক্তিশালী গণপ্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানাচ্ছি।
“দেশের যে প্রান্তেই এই নিষিদ্ধ সংগঠনের সন্ত্রাসীদের পাওয়া যাবে সেখানেই প্রতিরোধ করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে তুলে দিতে হবে।”
জুলাই অভ্যুত্থান দমাতে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে শেখ হাসিনার বিচারের রায় ঘনিয়ে আসায় ১০ থেকে ১৩ নভেম্বর বিক্ষোভের কর্মসূচি দিয়েছে আওয়ামী লীগ। দলটি ১৩ নভেম্বর ‘ঢাকা লকডাউন’ কর্মসূচি দিয়েছে।
দলটির কর্মসূচির মধ্যে সোমবার ঢাকার অন্তত সাতটি স্থানে হাতবোমা বিস্ফোরণ ও চার গাড়িতে আগুনের ঘটনা ঘটে।
এরপর সোমবার গভীর রাত থেকে মঙ্গলবার সন্ধ্যা পর্যন্ত ঢাকার রায়েরবাগ, যাত্রাবাড়ী, উত্তরা ও সূত্রাপুরে চারটি বাসে আগুনের খবর দেয় ফায়ার সার্ভিস। এছাড়া ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়ায় দাঁড়িয়ে থাকা বাসে অগ্নিসংযোগের পর দগ্ধ হয়ে চালক জুলহাস মিয়া মারা যান।
সম্মিলিত ছাত্র সংসদের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, “আমরা অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রতি দাবি জানাচ্ছি, অবিলম্বে এই দেশদ্রোহী গণহত্যাকারীদেরকে কঠোর হস্তে দমন করতে হবে।
“যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা রোধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিয়মিত টহল জোরদার করতে হবে এবং দেশব্যাপী চিরুনি অভিযান চালিয়ে সন্ত্রাসীদের হাত থেকে জাতিকে নিরাপদ করতে হবে। পাশাপাশি জুলাইয়ে সংঘটিত গণহত্যার বিচারের দৃশ্যমান উন্নতি জাতির সামনে তুলে ধরতে হবে।”
চার ভিপির ভাষ্য, “বাংলাদেশের ছাত্র-জনতা-শ্রমিকসহ মুক্তিকামী জনগণ ঐতিহাসিক জুলাই বিপ্লবের মাধ্যমে দীর্ঘ আঠারো বছরের দুঃসহ ফ্যাসিবাদী শাসন থেকে জাতিকে মুক্ত করেছে।
“সহস্র শহীদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত এই নতুন বাংলাদেশ যখন ফ্যাসিবাদ ও ফ্যাসিবাদী কাঠামোর চিরস্থায়ী বিলুপ্তির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে ঠিক তখনই বিতাড়িত ফ্যাসিস্ট, গণহত্যাকারী ও সন্ত্রাসী সংগঠন আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবকলীগ এবং নিষিদ্ধ ছাত্রলীগসহ তাদের দোসররা দেশ ও জাতির বিরুদ্ধে এক গভীর চক্রান্তে লিপ্ত হয়েছে।”
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “ইতিপূর্বে লগি-বৈঠার তাণ্ডব থেকে শুরু করে দেড় দশক ধরে গুম-খুন, গণহত্যা ও রাষ্ট্রের সকল প্রতিষ্ঠানকে দলীয়করণের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ ও তাদের দোসররা দেশকে একটি অকার্যকর রাষ্ট্রে পরিণত করেছিল।”
সম্মিলিত ছাত্র সংসদের দাবি, দেশজুড়ে নাশকতা, চোরাগোপ্তা হামলা, অগ্নিকাণ্ড, ককটেল বিস্ফোরণ এবং বিভিন্ন ধর্মীয় উপাসনালয়ে হামলার ষড়যন্ত্র দৃশ্যমান হলেও সন্ত্রাসীদের মূলোৎপাটনে সরকার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা ‘সন্তোষজনক নয়’।
এধরনের ঘটনা প্রতিরোধে তারা সরকারকে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণের আহ্বান জানান।
জুলাই জাতীয় সনদ বিষয়ে ছাত্র সংসদের ভিপি বলেছেন, “জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি প্রদান, গণভোট এবং জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে দেশে অরাজকতা সৃষ্টির অপতৎপরতা ইতিমধ্যেই শুরু করেছে পতিত স্বৈরাচার ও তাদের দোসররা। জনগণের জান-মালের হেফাজত এবং রাষ্ট্রের স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে আওয়ামী সন্ত্রাসীদের শেকড় সমূলে উৎপাটনে সরকারকে আরো সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে হবে।
“দেশের বিভিন্ন স্থানে জুলাই গণহত্যায় জড়িত সন্ত্রাসীরা এখনো নির্বিঘ্নে ঘুরে বেড়াচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষার স্বার্থে এসকল আওয়ামী ফ্যাসিস্ট ও তাদের দোসরদের অনতিবিলম্বে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় নিয়ে আসতে হবে।”
তার আগে এদিন আওয়ামী লীগের কর্মসূচির বিপরীতে পাল্টা কর্মসূচি ঘোষণা করেছে ‘জুলাই ঐক্য’ নামের আরেকটি মোর্চা।
এছাড়া শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ড এবং ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়নের দাবিতে বুধবার ঢাকা, চট্টগ্রাম, বরিশাল ও সিলেটে বিক্ষোভ মিছিল কর্মসূচি ঘোষণা করেন তিনি।
আরও পড়ুন:
আওয়ামী লীগের লকডাউনের পাল্টায় অবস্থান কর্মসূচি জুলাই ঐক্যের
ছেলে তো রাজনীতি করে না, কেন পুড়িয়ে মারল: বাসচালকের মায়ের প্রশ্ন
ময়মনসিংহে দাঁড়িয়ে থাকা বাসে আগুন, দগ্ধ হয়ে একজনের মৃত্যু