Published : 06 Aug 2026, 08:30 PM
মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৃত্যুদণ্ডের রায় মাথায় নিয়ে ভারতে থাকা সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনা এবং কার্যক্রমে নিষেধাজ্ঞা থাকা দলকে সক্রিয় করতে তৎপর শিক্ষকদের চিহ্নিত করতে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ একটি ‘উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন’ তথ্যানুসন্ধান কমিটি গঠন করেছে।
বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত ‘রাষ্ট্র ও শৃঙ্খলাবিরোধী’ কর্মকাণ্ডে দেশের ২২টি বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪০৪ জন শিক্ষক জড়িত থাকার অভিযোগসংক্রান্ত প্রতিবেদন আমলে নিয়ে এই কমিটি করার বিষয়টি বৃহস্পতিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।
তিন সদস্যের এ কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে মেরিন সায়েন্স অনুষদের ডিন অধ্যাপক মো. শাহাদাত হোসেনকে। কমিটির সদস্য সচিব মৎস্যবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক মোহাম্মদ আশরাফুল আজম খান। আর সদস্য করা হয়েছে সহকারী প্রক্টর রসায়ন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মো. কামরুল হোসেনকে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার মো. হাছান মিয়া বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “সংবাদমাধ্যমে বেশ কয়েকজন শিক্ষকের নাম উঠে এসেছে। ওনাদের ভেতরে কারা জড়িত এবং এর বাইরে কেউ জড়িত আছেন কিনা, তা তদন্ত করার জন্য একটি উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন ‘ফ্যাক্টস ফাইন্ডিং’ কমিটি করা হয়েছে।
“আমরা এই কমিটিকে সাত কর্ম দিবসের মধ্যে রিপোর্ট প্রদানের জন্য অনুরোধ করেছি। তদন্তের রিপোর্ট পাওয়ার পর অভিযুক্ত শিক্ষকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ওই শিক্ষকদের তৎপরতার অভিযোগ প্রকাশিত হওয়ার পর বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বলেছে, এ ধরনের কর্মকাণ্ড দেশের প্রচলিত আইন, বিচারিক প্রক্রিয়া এবং রাষ্ট্রীয় শৃঙ্খলার পরিপন্থি। নিষিদ্ধ সংগঠনের কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত হয়ে বিশ্ববিদ্যালয় ও দেশে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি বা বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা গুরুতর শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় মুক্তবুদ্ধির চর্চা, আইনের শাসন, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও সাংবিধানিক কাঠামোর প্রতি শ্রদ্ধাশীল, এ কথা তুলে ধরে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, মতপ্রকাশের স্বাধীনতার আড়ালে ‘রাষ্ট্রবিরোধী বা বিশ্ববিদ্যালয় ও দেশকে অস্থিতিশীল’ করার উদ্দেশ্যে পরিচালিত কোনো কর্মকাণ্ড গ্রহণযোগ্য নয়।
“শিক্ষক হিসেবে এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মর্যাদা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে সাংঘর্ষিক।”
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ১৯৭৩-এর ৫৫(৩) ধারা এবং ‘চিটাগং ইউনিভার্সিটি এমপ্লয়িজ (ইফিসিয়েন্সি অ্যান্ড ডিসিপ্লিন) স্ট্যাটিউটস’ অনুযায়ী এ ধরনের কর্মকাণ্ড অশিক্ষকসুলভ আচরণ, অসদাচরণ ও নৈতিক স্খলনজনিত অপরাধ।
যেসব শিক্ষকের বিরুদ্ধে এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ ওঠেছে, তাদের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি-বিধান এবং দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী আইনগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
“এ লক্ষ্যে জড়িত ব্যক্তিদের চিহ্নিত করতে ইতোমধ্যে একটি উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন ‘ফ্যাক্টস ফাইন্ডিং কমিটি’ গঠন করা হয়েছে,” বলেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।