Published : 09 Jan 2026, 12:00 PM
জুলাই অভ্যুত্থানে শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার অভিযোগে সমাজবিজ্ঞান বিভাগের চার শিক্ষকের বিরুদ্ধে ‘অভিযোগ গঠনের’ সিদ্ধান্ত নিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট।
সেই চার শিক্ষক হলেন— জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক সাদেকা হালিম, অধ্যাপক আ ক ম জামাল, শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক জিনাত হুদা ও অধ্যাপক মশিউর রহমান।
বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত চলা সিন্ডিকেট সভায় এ সিদ্ধান্ত হওয়ার কথা বলেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর সাইফুদ্দিন আহমদ।
তিনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “এ চার শিক্ষকের বিরুদ্ধে ২০২৪ সালের শেষদিকে চার জনের জন্য বিষয়ে চারটি ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং কমিটি করা হয়। সেটা গত ২০ নভেম্বর তাদের তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়। সেটার পরিপ্রেক্ষিতে চার্জশিট গঠন করা হয়, যা সিন্ডিকেটে অনুমোদন পেয়েছে।”
তিনি বলেন, “এখন তদন্ত কমিটি চার শিক্ষককে চিঠি দিবে। তাদেরকে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেওয়া হবে। আত্মপক্ষ সমর্থনের পর সিন্ডিকেট পরবর্তী ব্যবস্থা নেবে।”
এদিক সিন্ডিকেট সভার পর একাধিক সংবাধমাধ্যমে খবর আসে, সমাজবিজ্ঞান বিভাগের চার শিক্ষক বরখাস্ত হতে যাচ্ছেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মুনসী শামসুদ্দিন আহমদ বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, "তাদেরকে স্থায়ী বহিষ্কার করা হয়নি। এটা তারা (সংবাদমাধ্যম) কীভাবে করেছে, আমি জানি না।”
এই চার শিক্ষকের মধ্যে সাদেকা হালিম ২০০৯ সালের জুলাই থেকে ২০১৪ সালের জুন পর্যন্ত তথ্য কমিশনে প্রথম নারী তথ্য কমিশনার পদে প্রেষণে দায়িত্ব পালন করেন।
এর আগে ২০০৪ থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সদস্য হিসাবে দায়িত্ব পালন করা এই অধ্যাপক তিন মেয়াদে শিক্ষক সমিতির কার্যকরী পরিষদের সদস্য ও তিনবার সিনেট সদস্য ছিলেন।
অধ্যাপক সাদেকা হালিম জাতীয় শিক্ষানীতি কমিটি-২০০৯ এর ১৮ জন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদের কমিটিতে সদস্য ছিলেন।
অধ্যাপক সাদেকার বাবা অধ্যাপক ফজলুল হালিম চৌধুরী ১৯৭৬ থেকে ১৯৮৩ সময়ে প্রায় সাত বছর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ছিলেন।
আরেক শিক্ষক আ ক ম জামাল উদ্দিন আওয়ামীপন্থি নীল দলের সদস্য। ৫ অগাস্ট আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকার পতন হওয়ার পর থেকে তাকে ক্যাম্পাসে খুব একটা দেখা যায়নি।
এর মধ্যে গেল ১১ ডিসেম্বর বিশ্ববিদ্যালয় নিজের বিভাগে গিয়ে হেনস্তার শিকার হয়ে ক্যাম্পাস ছাড়েন এই শিক্ষক।
সেদিন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আসা ভিডিওতে দেখা যায়, ডাকসুর সমাজসেবা সম্পাদক এবি জুবায়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের সিঁড়িতে অধ্যাপক জামালকে জাপটে ধরে আটকানোর চেষ্টা করেন। আ ক ম জামাল নিজেকে ছাড়ানোর চেষ্টায় তার হুডি খুলে ফেলেন। তিনি সিঁড়ি থেকে নেমে দৌড়ে পালালে তার পিছু ধাওয়া করেন জুবায়ের।