Published : 22 Dec 2023, 06:07 PM
চীনের আর্থিক ও কারিগরি সহায়তায় বাস্তবায়িত প্রকল্প বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে বড় ভূমিকা রাখছে বলে মন্তব্য করেছেন চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় রাজধানীর র্যাডিসন ব্লু হোটেলে ‘চায়না-বাংলাদেশ বিজনেস এক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ড ২০২৩’ অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
বাংলাদেশ-চায়না চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (বিসিসিসিআই) এবং চায়নিজ এন্টারপ্রাইজেস অ্যাসোসিযেশন অব বাংলাদেশ (সিইএবি) যৌথভাবে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
চীনা রাষ্ট্রদূত বলেন, তার দেশ বাংলাদেশের ‘সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য বন্ধু ও বিশ্বস্ত উন্নয়ন অংশীদার’। চীনের অনেক কোম্পানি বাংলাদেশের স্থানীয় ব্যবসায়ীদের সঙ্গে যুক্ত হয়ে সমন্বিতভাবে উন্নয়নে ভূমিকা রাখছে।
গত অগাস্টে জোহানেসবার্গে ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এবং বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দ্বিপক্ষীয় বৈঠক দুই দেশের রাজনৈতিক সম্পর্ককে আরো ‘উচ্চ পর্যায়ে’ নিয়ে গেছে বলে মনে করেন ইয়াও ওয়েন।
তার ভাষায়, এই শক্তিশালী রাজনৈতিক সম্পর্ক ভবিষ্যতে ‘দ্বিপক্ষীয় উন্নয়নের পথনির্দেশক’ হিসেবে কাজ করবে।
চীনা রাষ্ট্রদূত বলেন, গত ১৩ বছর ধরে চীন বাংলাদেশের ‘সবচেয়ে বড়’ বাণিজ্যিক অংশীদার। গত তিন প্রান্তিকে চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য ঘাটতি ১৬ শতাংশ কমেছে। চীন বাংলাদেশের এফডিআইয়ের অন্যতম উৎস। বাংলাদেশে চীন থেকে ৩১৭ কোটি ডলারের বিনিয়োগ এসেছে।
বিসিসিসিআই এর সেক্রেটারি জেনারেল আল মামুন মৃধা বলেন, “অর্থনৈতিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে পারস্পরিক আস্থা ও বিশ্বাসের ভিত্তিতেই বাংলাদেশ-চীন বাণিজ্যের পরিমাণ উচ্চস্তরে উন্নীত হয়েছে। চায়নিজ কাস্টমস এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২২-২৩ অর্থবছরে দুই দেশের বাণিজ্যের পরিমাণ ২৮ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত হয়েছে।”
তিনি বলেন, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে নিবন্ধিত বিসিসিসিআই বাংলাদেশে সবচেয়ে বড় দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যিক চেম্বার। সাতশর বেশি এন্টারপ্রাইজ এই চেম্বারের সদস্য, যার মধ্যে পাঁচশর বেশি চীনা এন্টারপ্রাইজ রয়েছে।
সিইএবি প্রেসিডেন্ট কে চ্যাংলিয়াং বলেন, “বাংলাদেশের সবচেয়ে বিশ্বস্ত উন্নয়ন অংশীদার হতে পেরে চীনা বিনিয়োগকারীরা গর্বিত। আমাদের সদস্য কোম্পানিগুলো বাংলাদেশে প্রত্যক্ষভাবে পাঁচ লাখের বেশি কর্মসংস্থান সৃষ্টি করেছে।”
দ্বিপক্ষীয় ব্যবসা সম্প্রসারণে ভূমিকার জন্য অনুষ্ঠানে মৃধা বিজনেস লিমিটেড ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও বিসিসিসিআই এর সাধারণ সম্পাদক আল মামুন মৃধা এবং চীনা কোম্পানি নিউ এরা ফ্যাশনস এমএফআরএস (বিডি) লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জাং উয়েনসেংকে সম্মাননা দেওয়া হয়।
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে চীনা কোম্পানি চায়না পেট্রোলিয়াম পাইপলাইন ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি লিমিটেড ও বাংলাদেশের যমুনা ম্যাটার ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড; রোড ও সেতুখাতে চীনা কোম্পানি চায়না রোড অ্যান্ড ব্রিজ করপোরেশন (সিআরবিসি) এবং বাংলাদেশের মীর আক্তার হোসাইন লিমিটেড; রেলওয়ে ও সিভিল এভিয়েশন খাতে চীনা কোম্পানি চায়না রেলওয়ে গ্রুপ লিমিটেড এবং বাংলাদেশের ম্যাক্স ইনফ্রাস্ট্রাকচার লিমিটেডকেও পুরস্কৃত করা হয়।
পানি ও পরিবেশ উন্নয়নে চীনা কোম্পানি পাওয়ার কনস্ট্রাকশন করপোরেশন অব চায়না এবং বাংলাদেশের আরিদদ টেক সার্ভ লিমিটেড; মেরিন ও হার্বার সেক্টর উন্নয়নে চীনা কোম্পানি সানি হেভি ইন্ডাস্ট্রি বাংলাদেশ লিমিটেড এবং বাংলাদেশি কোম্পানি সাইফ পাওয়ারটেক লিমিটেড; আইসিটি খাতে চীনা কোম্পানি হুয়াওয়ে টেকনোলজিস বাংলাদেশ লিমিটেড এবং বাংলাদেশের ডেফোডিল কম্পিউটারস লিমিটেড পুরস্কার পেয়েছে।
এছাড়া টেক্সটাইল ও পোশাক খাতে চীনা কোম্পানি এলডিসি গ্রুপ এবং বাংলাদেশি কোম্পানি শাহ ফতেউল্লাহ টেক্সটাইল মিলস লিমিটেড; দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও সেবা খাতের উন্নয়নে চীনের নিউ হোপ লিউহি বাংলাদেশ রিজিওন এবং বাংলাদেশি কোম্পানি হেনা এন্টারপ্রাইজেস লিমিটেড, এসিআই লিমিটেড এবং সেমস গ্লোবাল পুরস্কার পেয়েছে।
নারী উদ্যোক্তা ক্যাটাগরিতে চীনা কোম্পানি ইউনিমাস স্পোর্টসওয়্যার লিমিটেড এবং বাংলাদেশি কোম্পানি নিটেক্স; এসএমই ক্যাটাগরিতে চীনা কোম্পানি নিউটপ টেক্সটাইল (বিডি) লিমিটেড এবং বাংলাদেশি কোম্পানি তোহফা এন্টারপ্রাইজেস, সিএসআর ক্যাটাগরিতে চীনা ন্যাশনাল মেশিনারি ইম্পোর্ট অ্যান্ড এক্সপোর্ট করপোরেশন এবং বাংলাদেশের প্রিমিয়ার ব্যাংক পিএলসি পুরস্কার পেয়েছে।