দেশে ট্যাক্সির অভাব পূরণ করেছে উবার: সালমান রহমান

উবার বাংলাদেশে তাদের নেওয়ার্ক খুব দ্রুত সম্প্রসারণ করতে সক্ষম হয়েছে বলে মনে করেন প্রধানমন্ত্রীর এ উপদেষ্টা।

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদকবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 4 Sept 2022, 03:34 PM
Updated : 4 Sept 2022, 03:34 PM

বাংলাদেশে ট্যাক্সির বড় ধরনের অভাব ছিল মন্তব্য করে প্রধনামন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান বলেছেন, উবার ঢাকার পরিবহন ব্যবস্থায় গতি সঞ্চার করেছে।

তিনি বলেন, “উবার বাংলাদেশে ট্যাক্সির অভাব পূরণে সফল হয়েছে। এটা অনেক বড় একটা গ্যাপ ছিল।”

রোববার গুলশানের একটি হোটেলে উবার বাংলাদেশ আয়োজিত ‘আনলকিং অপরচুনিটিজ ইম্পেক্টিং লাইভস’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে একথা বলেন বেক্সিমকো গ্রুপের কর্ণধার।

তিনি বলেন, “আমি মনে করি, উবার বাংলাদেশে খুব দ্রুত তাদের নেওয়ার্ক সম্প্রসারণ করতে পেরেছে। বাংলাদেশের বাজার খুব দ্রুত বাড়ছে। এর সঙ্গে উবারও তাদের সেবা আরও সম্প্রসারণ করছে।

“এই বাজারে বিপুল প্রবৃদ্ধির সুযোগ রয়েছে। এই সুযোগ অন্যান্য কোম্পানিগুলোও নিতে পারবে।”

বাংলাদেশের পরিবহণ খাতে উবার ‘বিপ্লব’ এনেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে উবারের প্রভাব শীর্ষক একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। যুক্তরাজ্যভিত্তিক গবেষণা সংস্থা ‘পাবলিক ফার্স্ট’ এটি প্রকাশ করেছে।

প্রতিবেদনটি তুলে ধরেন ‘পাবলিক ফার্স্ট’- এর অংশীদার জনাথন দুপন্ট।

প্রতিবেদনের তথ্যে জনাথন বলেন, “২০২১ সালে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে আনুমানিক সাড়ে চার হাজার কোটি টাকা অবদান রেখেছে উবার। ওই বছর উবারের পরিবহন সেবা দেশের অর্থনীতিতে ৭ হাজার কোটি টাকা যোগ করেছে, যা জিডিপির প্রায় শূন্য দশমিক ২৫ শতাংশ।” প্রতিবেদনে বলা হয়, এক প্রশ্নের উত্তরে ৯০ শতাংশ যাত্রী বলেছেন, যাতায়াতে স্বস্তিই উবার ব্যবহারের একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, উবার ব্যবহারের ফলে আনুমানিকভাবে বছরে যাত্রীদের ১ কোটি ৭০ লক্ষ ঘণ্টা সাশ্রয় করে। বাংলাদেশি যাত্রীদের মতের ভিত্তিতে প্রতিবেদনে বলা হয়, গত এক দশকে পরিবহন খাতে তাদের দেখা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উদ্ভাবন হলো ‘রাইড শেয়ারিং’। উবারের ৭৩ শতাংশ চালক বলেছেন, ২০২১ সালে তারা উবার নিয়ে সন্তুষ্ট ছিলেন। এর মাধ্যমে গত বছর তারা অতিরিক্ত ৫২ কোটি ২০ লাখ টাকা আয় করেছেন। এই অতিরিক্ত আয় তাদের বিকল্প আয় ও কাজের উৎসের থেকে ২৬ শতাংশ বেশি। সমাজের ওপর প্রভাব ও নিরাপত্তা প্রতিবেদনে বলা হয়, ৯০ শতাংশ নারী যাত্রী জানিয়েছেন, উবার বেছে নেওয়ার পেছনে নিরাপত্তা একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ। আর ৭২ শতাংশ নারী যাত্রী একমত যে, রাতে দেরি করে বাড়ি পৌঁছানো এখন আগের থেকে সহজ। ব্যক্তিগত গাড়ি নেই এমন ৮৪ শতাংশ যাত্রী বলেছেন, উবারে রাইড শেয়ারিংয়ের সহজলভ্যতার কারণে তারা গাড়ি ‘না কেনার’ সিদ্ধান্ত নিতে পেরেছেন। উবারের এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চলের পাবলিক পলিসি ও গভর্নমেন্ট রিলেশনস বিভাগের সিনিয়র ডিরেক্টর মাইক অরগিল প্রতিবেদন সম্পর্কে বলেন, “২০১৬ সাল থেকে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও সুযোগের একটি গুরুত্বপূর্ণ চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করছে উবার। অবদানের ব্যাপ্তি সম্পর্কে আমাদের স্পষ্ট ধারণা ছিল না।

“যাতায়াতের উন্নত ব্যবস্থা কীভাবে মানুষকে নিরাপদে চলাচলের সুযোগ করে দেয় এবং অর্থনীতিতে অবদান রাখতে সাহায্য করে তা আমরা এই প্রতিবেদনে দেখছি।”

“একটি ‘স্মার্ট বাংলাদেশ’ গড়ে তুলতে প্রযুক্তি ও দক্ষতাকে কাজে লাগাতে আমরা দৃঢ় প্রতিজ্ঞ,” যোগ করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন তথ্য যোগাযোগ ও প্রযুক্তি বিভাগের (আইসিটি) সচিব এন এম জিয়াউল আলম।

এতে উবারের দক্ষিণ এশীয় অঞ্চলের পরিচালক (অপারেশন) শিবা শেইলেন্দ্র এবং ‘উবার বাংলাদেশ ও পূর্ব ভারতের’ প্রধান আরমানুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক