২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫ আশ্বিন ১৪৩৩

ঈদের আগের রাতে আতর-টুপির দোকানে ভিড়, দাম এবার বাড়তি

‘উদ’ নামে বাংলাদেশে তৈরি সর্বোচ্চ ৮০ হাজার টাকা মূল্যের ১০০ এমএলের এক বোতল আতর থাকার কথা জানালেন এক দোকানি। তবে ‘মাঝারি’ দামের আতরই চলে বেশি।

ঈদের আগের রাতে আতর-টুপির দোকানে ভিড়, দাম এবার বাড়তি

ঢাকার বায়তুল মোকাররম মার্কেটে বৃহস্পতিবার টুপি ও আতর কিনতে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে ছিলেন শিশুরাও।

কাজী মোবারক হোসেন

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 21 Apr 2023, 10:52 PM

Updated : 22 Apr 2023, 01:54 AM

রাত পোহালেই ঈদ। উৎসবের এ দিনকে আরও রঙিন ও সুরভিত করে তুলতে শেষ সময়ের কেনাকাটায় যোগ হয়েছে আতর-টুপি আর জায়নামাজ; যাতে সন্ধ্যার পর থেকে দোকানে দোকানে বেড়েছে ভিড়, বিক্রেতাদের মুখের হাসি হয়েছে চওড়া।

তবে এবার অন্যসব জিনিসের মতই আতরের বাজারেও পড়েছে বাড়তি দাম নেওয়ার হিড়িক।

দোকানিরা বলছেন, হরেক রকম সুগন্ধির দাম অন্তত দেড়গুণ বেড়েছে; কমেছে বেচাকেনাও। যে কারণে দাম না বাড়িয়ে উপায় নেই।

ঢাকার পল্টনে বায়তুল মোকাররম মসজিদ মার্কেটে আতর বিক্রেতা সজল মিয়া শুক্রবার জানান, গত বছরের তুলনায় এবার কেনাবেচায় মন্দা চলছে।

একটি খালি বোতল দেখিয়ে তিনি বলেন, এটি গত বছর চার টাকা করে কিনেছেন, এখন ১৫ টাকা। এরকম সব উপাদানের দামই বেড়েছে।

Image

ঢাকার বায়তুল মোকাররম মার্কেটে আতরের গন্ধ শুকে দেখছেন একজন ক্রেতা।

“তবে দামি আতরের তুলনায় দেড়শ থেকে দুশো টাকার আতরের দিকেই বেশি নজর ক্রেতাদের। বিভিন্ন মডেল ও ব্র্যান্ড ভেদে দাম কম-বেশি।”

আতরের খোঁজ খবর নিতে গিয়ে জানা গেল বাহারি সব নামও। সৌরভ ছড়ানো অনেক দামি সুগন্ধি যেমন পাওয়া যায়, তেমনি বাজেটের মধ্যেও রয়েছে বিভিন্ন নামের আতর।

দেশের বাজারে সাধারণত জেসমিন, হাসনা হেনা, রজনীগন্ধা, এক্সকাচি বেলি, সিলভার, চকোলেট মাক্সসুলতান, আমির আল কুয়াদিরাজা ওপেন, জান্নাতুল ফেরদৌস, রয়েল, ওরেঞ্জ, সফট, লর্ডনিভিয়া মেন, রয়েল ম্যাবরেজজপি, রাসা, আল ফারিসবেস্ট, ফিগো, হাজরে আসওয়াদ নামের আতর বেশি বিক্রি হয় বলে জানালেন দোকানিরা। এগুলোর দাম প্রতি এমএল একশ থেকে দেড়শ টাকা।

ঢাকার বায়তুল মোকররম মসজিদ মার্কেট, গুলিস্তান, কাঁটাবন মসজিদ মার্কেট, কাকরাইল মসজিদ মার্কেটসহ ফুটপাতের বিভিন্ন দোকানে পাওয়া যায় এসব আতর। সঙ্গে এসব জায়গায় মেলে টুপি ও জায়নামাজ।

তবে বায়তুল মোকাররম মার্কেটের নিচতলায় আতর-টুপির দোকানের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। প্রতিটি দোকানে সাজানো বাহারি সব টুপি-জায়নামাজ। আতর, আতরদানি, সুরমা, পাঞ্জাবি, তসবিহর আলাদা দোকান রয়েছে।

আতর এখানে বেশি পাওয়া গেলেও অনেকে একটু ভালো ব্র্যান্ডের আশায় ভিড় জমান বায়তুল মোকাররম মার্কেটের ভেতরে। যদিও ওখানে একটু ধনিক শ্রেণির লোকেদের আসা যাওয়া বেশি।

এখানকার একটি দোকানের মালিক ইউনুছ বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানান, তার দোকানে সর্বোচ্চ ৮০ হাজার টাকা মূল্যের ১০০ মিলিলিটারের (এমএল) এক বোতল আতরও আছে।

‘উদ’ নামের এ আতর বাংলাদেশেই তৈরি। তবে এত দামি আতরের তুলনায় ‘মাঝারি’ দামের আতরই বেশি চলে।

Image

হরেক রকম এসব সুগন্ধির দাম অন্তত দেড়গুণ বেড়েছে।

"হ্যা বক, সিকোওয়ান, ইস্কেফ, গোল্ডেন সেন্ট এগুলোও বেশি চলে। পারফিউম ফ্লেবারকে বেশি প্রধান্য দেন ক্রেতারা," যোগ করেন ইউনুছ।

বায়তুল মোকাররমের প্রধান ফটকের সামনে অস্থায়ী দোকানে নানান পদের আতর নিয়ে বসেছেন মোহাম্মদ মানিক।

তিনি জানালেন, রয়্যাল, কদম, ফেরারি এগুলো বেশি চলে। সবগুলো মিলির (ছোট) দামই ১০০ থেকে ১২০ টাকা।

তার দোকানে নানান নকশার আতরদানিও (বোতল) পাওয়া যায়। কাঁচ, প্লাস্টিক ছাড়াও বিভিন্ন ধাতুর মিশ্রণে তৈরি এসব আতরদানিও বিভিন্ন দামে বিক্রি হয়।

ঈদের আগের দিন বায়তুল মোকররম মসজিদ মার্কেটে গিয়ে দেখা যায়, নতুন টুপি কিনতে এসেছেন অনেকেই। দেশি টুপি ছাড়াও পাকিস্তান ও চীনের তৈরি টুপি বিক্রি হচ্ছে বেশি। কম দামে বৈচিত্র্যময় নকশার কারণে এগুলোর চাহিদা বেশি।

এছাড়া তুরস্ক, ভারত, সৌদি আরব, কাতার, মালয়েশিয়া থেকেও টুপি আসে। নকশা, কাপড়ভেদে ৫০ টাকা থেকে ১০ হাজার টাকা দামের টুপিও পাওয়া যায়। ১৫০ টাকা থেকে দুই হাজার টাকার মধ্যে চীনা ও পাকিস্তানি  টুপি পাওয়া যায়।

চীনা টুপি ১৫০ থেকে ৩৫০ টাকা, পাকিস্তানি টুপি ১৫০ থেকে ৬৫০ টাকা, ভারতীয় টুপি ৮০ থেকে ৮০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

এর মধ্যে চীনের ওয়ানি ৬৫০ টাকায়, ভারতের গুজরাটি ২৫০ থেকে ৩০০ টাকায়, সিডনি ৪০০ টাকা, পাঠান ৪৫০ টাকা এবং ছোট পুতির সঙ্গে সোনালি কাজ করা প্রতিটি টুপি বিক্রি হচ্ছে ৪০০ থেকে এক হাজার টাকার মধ্যে।

এছাড়া নেটের তৈরি চীনা টুপি ১৫০ টাকা ও তুর্কির টুপি ৫০ থেকে ১০০ টাকায় বিক্রি করছেন দোকানিরা।

বৈচিত্র্যময় নকশা ও ম্যাটেরিয়ালের জায়নামাজেও ভরপুর দেখা গেছে ওখানকার দোকানগুলো। সুতি, মখমল, সিলিকন, পশমিসহ বিভিন্ন রকম জায়নামাজ পাওয়া যাচ্ছে মার্কেটে। বাংলাদেশ ছাড়াও পাকিস্তান, কাশ্মীর, বেলজিয়াম, চীন, সৌদি আরব ও কাতারের জায়নামাজ পাওয়া যাচ্ছে। দাম পড়ছে ১২০ থেকে পাঁচ হাজার টাকা পর্যন্ত।

এছাড়া কাঠ, প্লাস্টিক, মুক্তা, পাথর, হাতির দাঁত, হরিণের শিং, ক্রিস্টালসহ বিভিন্ন উপাদানে তৈরি তসবিহ পাওয়া যাচ্ছে বাজারে। ২৫ গুটি, ৫০ গুটি থেকে শুরু করে ১০০, ২০০, ২৫০ ও সর্বোচ্চ ৫০০ গুটির তসবিহ পাওয়া যায় বাজারে।

তবে ডিজিটাল তসবিহরও কদর বেড়েছে,যার দাম ৫০ থেকে ১০ হাজার টাকার মধ্যে।

বায়তুল মোকাররম মসজিদের সামনে ফুটপাতের টুপি বিক্রেতা রজ্জব আলী আরশ বলেন, "আগে ২০ টাকা দামের টুপি বেশি চলত, এখন দাম বাড়তি। একশ থেকে দেড়শ টাকার টুপি কম চলে। ৫০-৬০ টাকা দামের টুপি বেশি চলে।”