শ্রমিকদের দক্ষতা বাড়াতে পুনঃপ্রশিক্ষণ চায় ‘বিলস’
“মেশিনের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে নিজেকে প্রস্তুত না করলে কাজ থাকবে না,” বলেন ‘বিলস’ এর নির্বাহী পরিচালক।
প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে শ্রমিকদের দক্ষতা বাড়াতে পুনঃপ্রশিক্ষণের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব লেবার স্টাডিজ (বিলস)।
ইনস্টিটিউটের নির্বাহী পরিচালক সৈয়দ সুলতান উদ্দিন আহমেদ বলেছেন, শিল্পক্ষেত্রে নতুন নতুন মেশিন ও প্রযুক্তি আসছে। এসব পরিবর্তনের সঙ্গে শ্রমিকরা নিজেদের দক্ষ করে তুলতে না পারলে অনেকেই কর্মসংস্থান হারানোর ঝুঁকিতে পড়বেন।
“তাই শুধু নতুন শ্রমিকদের প্রশিক্ষণ নয়, প্রযুক্তির কারণে যেসব শ্রমিকের প্রচলিত দক্ষতা অচল হয়ে যাচ্ছে, তাদেরও নতুন করে প্রশিক্ষণের আওতায় আনা প্রয়োজন।”
মঙ্গলবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) জাতীয় কারিগরি ও শিল্প শ্রমিক ফেডারেশনের পঞ্চম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনাসভায় তিনি একথা বলেন।
সুলতান উদ্দিন বলেন, “মেশিন আসছে। মেশিনের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে নিজেকে প্রস্তুত না করলে কাজ থাকবে না। প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের কারণে যদি শ্রমিকদের একটি অংশ কর্মক্ষেত্র থেকে ছিটকে পড়ে এবং তাদের জন্য বিকল্প কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা না থাকে, তবে সমাজে এর চাপ তৈরি হতে পারে।
“প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের সঙ্গে শ্রমিকদের দক্ষতা উন্নয়নের দায়িত্ব শুধু শ্রমিকের নয়, মালিক ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোকেও এ প্রক্রিয়ায় ভূমিকা রাখতে হবে।”
কারিগরি শ্রমিকদের পেশাগত স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবি তুলে ধরে তিনি বলেন, “বিভিন্ন মেশিনে কাজ করতে গিয়ে শ্রমিকদের হাত ও আঙুলসহ শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া আমরা দেখেছি, তাই কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা শ্রমিক সংগঠনের গুরুত্বপূর্ণ দাবি হওয়া উচিত।”
বিলসের নির্বাহী পরিচালক বলেন, “দক্ষতা থাকলেই শ্রমিকের সব অধিকার নিশ্চিত হয় না। শ্রমিককে নিজের মর্যাদা ও অধিকার সম্পর্কে সচেতন হতে হবে এবং সংগঠিতভাবে নিজের দাবি তুলে ধরতে হবে।”
জাতীয় কারিগরি ও শিল্প শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি আবুল হোসাইন, বাংলাদেশ শ্রমিক আন্দোলনের নেতা এ এ এম ফয়েজ হোসেনও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
