তৃতীয় এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনের চীনা প্রস্তাবে সায় মেলেনি
গত ১৯ জুন চীনের প্রতিষ্ঠান সিএনইই মহেশখালীর কুতুবজোমে একটি অফশোর এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণের প্রস্তাব দেয়।
দেশে চলমান জ্বালানি সরবরাহের সংকটের মধ্যে মহেশখালীর কুতুবজোমে ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল (এফএসআরইউ) স্থাপনে চীনা রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানের দেওয়া প্রস্তাবে সায় মেলেনি সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির।
সরকার-থেকে-সরকার (জিটুজি) পদ্ধতিতে এই টার্মিনাল স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়ার প্রস্তাব বুধবার সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভার বৈঠকে উঠলে তা ফেরত যায়।
অর্থ মন্ত্রণালয় এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে তথ্য দিয়েছে, এ দিন সরকারি ক্রয় সভার বৈঠকের আলোচ্য বিষয় হিসেবে এ প্রস্তাব উত্থাপন হয়।
সেখানে দেখা যায়, মহেশখালীতে জিটুজি পদ্ধতিতে কুতুবজোম এফএসআরইউ স্থাপনের লক্ষ্যে চায়না ন্যাশনাল এনার্জি ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড কনস্ট্রাকশন কোং লিমিটেড (সিএনইই) যে দর দিয়েছে, তা অনুমোদনের প্রস্তাব কমিটির সামনে তোলা হয়েছিল।
জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের নথি বলছে, সুপারিশকৃত দরদাতা সিএনইই। তাদের প্রস্তাবিত ব্যয় ছিল ১৫ বছর মেয়াদে প্রায় ১২ হাজার ৩২৪ কোটি টাকা, অথবা ২০ বছর মেয়াদে প্রায় ১৩ হাজার ১৬১ কোটি টাকা।
দেশের জ্বালানি সরবরাহের সংকটের মধ্যে আরও একাধিক এলএনজি টার্মিনাল করার কথা বলে বিএনপি সরকার। এর প্রেক্ষিতে বিভিন্ন দেশ তাদের আগ্রহ জানিয়ে আসছ।
এরমধ্যে গত ১৯ জুন সিএনইই কুতুবজোমে একটি অফশোর এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণের প্রস্তাব দেয়। এতে দৈনিক রিগ্যাসিফিকেশন সক্ষমতা ধরা হয়েছে ৬০০ মিলিয়ন ঘনফুট, সর্বোচ্চ সক্ষমতা ৭৫০ মিলিয়ন ঘনফুট।
তখন এ নিয়ে প্রকাশিত সংবাদের তথ্য বলছে, এফএসআরইউ স্থাপনে ১৫ বছরের চুক্তিতে প্রতিষ্ঠানটি দৈনিক ৩ লাখ ৪২ হাজার ডলার নেবে। বর্তমানে এক্সিলারেট এনার্জির টার্মিনালের জন্য সরকারের দৈনিক খরচ ২ লাখ ৫৪ হাজার ডলার। সামিট এলএনজি টার্মিনালের জন্য খরচ ২ লাখ ৪৯ হাজার ১১৫ ডলার। অর্থাৎ কুতুবজোমে এফএসআরইউ নির্মান করলে সিএনইই-কে বর্তমান ব্যয়ের চেয়ে ৩৫ থেকে ৩৭ শতাংশ বেশি দিতে হবে এই চুক্তির আওতায়।
বর্তমানে দেশে গ্যাসের দৈনিক চাহিদা প্রায় ৩ হাজার ৮০০ মিলিয়ন ঘনফুট। স্বাভাবিক সময়ে দেশীয় উৎপাদন ও আমদানি করা এলএনজি মিলিয়ে সরবরাহ হয় প্রায় ২ হাজার ৭০০ মিলিয়ন ঘনফুট। মহেশখালীতে বর্তমানে দুটি ভাসমান টার্মিনাল আছে, এক্সিলারেট এনার্জির (দৈনিক সক্ষমতা ৬০০ মিলিয়ন ঘনফুট) ও সামিটের (৫০০ মিলিয়ন ঘনফুট)।
কোনো টার্মিনাল বিকল হলে সরবরাহে বড় প্রভাব পড়ে। গত ২১ জুলাই এক্সিলারেটের টার্মিনালের বৈদ্যুতিক ক্যাবলে আগুন লাগলে দৈনিক প্রায় ৪৫০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। টার্মিনালটি আংশিক চালু হয় দুই সপ্তাহের বেশি সময় পর ৬ অগাস্ট।
এই সংকট কাটাতে সরকার ২০২৯ সালের মধ্যে আরও তিনটি ভাসমান টার্মিনাল বসানোর পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে। জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেছেন, এর জন্য পায়রা, মোংলা ও হিরনপয়েন্টে সম্ভাব্যতা যাচাই চলছে এবং বিনিয়োগকারীও খোঁজা হচ্ছে।
তবে এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনে 'স্বচ্ছ' প্রতিযোগিতার কথা বলে আসছে যুক্তরাষ্ট্র।
গত ৭ সেপ্টেম্বর এফবিসিসিআই কার্যালয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের সঙ্গে বৈঠকে ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি ক্রিস্টেনসেন এফএসআরইউ স্থাপনে ‘স্বচ্ছ ও প্রতিযোগিতামূলক’ প্রক্রিয়ার ওপর জোর দেন। তিনি বলেন, মার্কিন কোম্পানিগুলো বাংলাদেশে কাজ করতে অত্যন্ত আগ্রহী।
জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, “দ্রুততম সময়ে টার্মিনাল নির্মাণের সক্ষমতা দেখাতে পারলে মার্কিন কোম্পানির প্রস্তাব সর্বোচ্চ গুরুত্ব পাবে।”
