যাত্রীদের সঙ্গে ‘ভালো ব্যবহারের’ প্রশিক্ষণ পাবেন বিমানবন্দর কর্মকর্তারা

বিমানবন্দরে কর্মরত ইমিগ্রেশন, কাস্টমস, পুলিশ সবাই এর আওতায় থাকবে।

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদকবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 10 August 2022, 07:01 PM
Updated : 10 August 2022, 07:01 PM

শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে দায়িত্বপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তাদের ‘ভালো ব্যবহারের’ প্রশিক্ষণ দেওয়ার পরিকল্পনা করছে কর্তৃপক্ষ।

বিমানবন্দরে যাত্রীর সঙ্গে বাজে ব্যবহারের ধারাবাহিক অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে এ উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানানো হয়েছে।

বুধবার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আয়োজিত গণশুনানিতে এ তথ্য জানান বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মোহাম্মদ মফিদুর রহমান।

বিমানবন্দরটিতে যাত্রী সেবা তদারকির মূল দায়িত্ব বেবিচক কর্তৃপক্ষের। তবে এখানে আর্মড পুলিশ, বিশেষ শাখার পুলিশ, কাস্টমস, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, সরকারের বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থাসহ অনেকগুলো সরকারি সংস্থা কাজ করে।

এর আগে বিভিন্ন সময় এসব সংস্থার কর্মীদের বিরুদ্ধে যাত্রীদের হয়রানি ও দুর্ব্যবহারের একের পর এক অভিযোগ এসেছে। সবশেষ গত ২ আগস্ট কাস্টমসের এক কর্মকর্তা মালয়েশিয়া ফেরত এক যাত্রীকে চড় মেরে বরখাস্ত হয়েছেন।

যাত্রীর সঙ্গে বিমানবন্দরে কর্মরত বিভিন্ন সংস্থার কর্মীদের খারাপ আচরণের ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে বেবিচকের চেয়ারম্যান বলেন, “বিমানবন্দরে সাধারণ যাত্রীর সঙ্গে খারাপ ব্যবহার নিয়মিত ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। যাত্রীদের সঙ্গে যাতে কর্মীরা ভালো ব্যবহার করেন, সে জন্য বিশেষ প্রশিক্ষণ কোর্স চালু করা হবে। বিমানবন্দরে কর্মরত ইমিগ্রেশন, কাস্টমস, পুলিশ সবাই এর আওতায় থাকবে।

“সম্প্রতি কাস্টমসের ঘটনায় আমরা ব্যথিত। যাত্রী ভুল করে থাকলেও তার গায়ে আঘাত করার অধিকার কারও নেই। যিনি এই ঘটনা ঘটিয়েছেন, তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। সাময়িক বরখাস্ত করার পাশাপাশি তার ব্যাপারে তদন্ত চলছে।”

শুনানিতে বিমানবন্দরের কর্মীদের বাজে ব্যবহার ছাড়াও লাগেজ পেতে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা, লাগেজ হারিয়ে যাওয়া এবং বাইরে এসে ভাড়া গাড়ির চালকদের গলাকাটা দর হাঁকানোর বিষয়টিও উঠ আসে।

এ বিষয়ে এয়ার ভাইস মার্শাল মফিদুর রহমান বলেন, “প্রবাসীরা পরিবহন চালকদের কাছে অনেক সময় প্রতারিত হন। আমরা প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় শাটল বাসের ব্যবস্থা করতে যাচ্ছি। শাটল বাসে প্রবাসীরা সামান্য মূল্য দিয়ে টিকিট কাটতে পারবেন।

“বিমানবন্দর থেকে যাত্রীদের নিয়ে বাস চলে যাবে উত্তরার দিকে। ওখানে বাসস্ট্যান্ডে দাঁড়াবে। পরে দাঁড়াবে রেলওয়ে স্টেশনের সামনে। এতে যাত্রীরা আর জিম্মি হবে না।

বিদেশগামী যাত্রীদের কমপক্ষে তিন ঘণ্টা আগে বিমানবন্দরে প্রবেশের আহ্বান জানিয়ে বেবিচক চেয়ারম্যান বলেন, “তাহলে সেবাগুলো নির্বিঘ্নে পাবেন তারা।”

শুনানির এক পর্যায়ে ওমানগামী যাত্রী মো. রাসেল অভিযোগ করেন, বুধবার বেলা দেড়টায় সালাম এয়ার নামে একটি এয়ারলাইন্সের টিকিট কিনেছিলেন তিনি। যথাসময়ে বিমানবন্দরে উপস্থিত হয়ে শোনেন ফ্লাইট নেই।

পরে বেবিচক চেয়ারম্যান সালাম এয়ারের প্রতিনিধির কাছে জবাব চাইলে ওই প্রতিনিধি জানান, “সালাম এয়ারের ফ্লাইটটি ভোর ৫টায় ঢাকায় নেমে আবার পৌনে ৬টায় ঢাকা ছেড়েছে। ওই যাত্রী দেশের বাইরে সালাম এয়ারের কোন এজেন্টের কাছ থেকে ওই টিকিট কিনে বিড়ম্বনায় পড়েছেন।”

সালাম এয়ারের প্রতিনিধিকে বেবিচক চেয়ারম্যান বলেন, “রাসেলসহ বিড়ম্বনায় পড়া সালাম এয়ারের যাত্রীরা যতক্ষণ ঢাকা না ছাড়ছেন ততোক্ষণ তাদের থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা করবে এয়ারলাইন্সটি।”

সালাম এয়ারের যে এজেন্ট এই টিকিট বিক্রি করেছে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে সালাম এয়ারের প্রতিনিধিকে নির্দেশ দেন তিনি।

তিনি বলেন, “এজেন্সি যে দেশের হোক, সেই দেশের সিভিল এভিয়েশনকে আমি জানাব যে, তোমার দেশের এজেন্সি আমার দেশের যাত্রীদের সঙ্গে প্রতারণা করে।”

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক