২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩

খোলা বাজারে ডলার উঠেছে ১২৮ টাকায়

দুই-তিন কারণে প্রধান এ বিদেশি মুদ্রার চাহিদা বাড়ছে।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 29 Oct 2026, 12:35 AM

Updated : 29 Oct 2026, 12:35 AM

ডলারের দাম আবার বাড়ছে; আন্তঃব্যাংক লেনদেনে ১২৪ টাকায় উঠেছে। ব্যাংকগুলো এর চেয়ে বেশি দরে ডলার বিক্রি করছে। আর খোলা বাজারে তা ১২৮ টাকা ছাড়িয়েছে।

সপ্তাহের ব্যবধানে আন্তঃব্যাংকে ডলারের দর বেড়েছে শূন্য দশমিক ২৭ শতাংশ; এক মাসের ব্যবধানে বেড়েছে শূন্য দশমিক ৭৭ শতাংশ।

জ্বালানি তেল ও গ্যাস আমদানির ঋণপত্র (এলসি) নিষ্পত্তি করতে গিয়ে ব্যাংকগুলোর ওপর চাপ বাড়ায় টাকার বিপরীতে মার্কিন ডলারের দাম বাড়ার কথা বলছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান।

বুধবার রাতে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে তিনি বলেন, আমদানি ব্যয়ের চাপ আছে। বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের ব্যারেল ১১৭ ডলারে উঠেছে। এলপিজির দামও বেশি। রোজাকে সামনে রেখে প্রয়োজনীয় পণ্য আমদানির এলসি (ঋণপত্র) খুলছেন ব্যবসায়ীরা। সব কিছু মিলিয়ে ডলারের চাহিদা বাড়ায় দর ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে।

বুধবার আন্তঃব্যাংক মুদ্রাবাজারে ডলারের সর্বোচ্চ দর ছিল ১২৩ টাকা ৯৮ পয়সা; সর্বনিম্ন দর ছিল ১২৩ টাকা ৯৮ পয়সা। সে হিসাবে গড় দাম ছিল ১২৩ টাকা ৯৮ পয়সা।

এক সপ্তাহ আগে গত ১৯ অক্টোবর আন্তঃব্যাংক মুদ্রাবাজারে ডলারের গড় দাম ছিল ১২৩ টাকা ৬৫ পয়সা। ১ অক্টোবর ছিল ১২৩ টাকা ৩ পয়সা।

এ হিসাবে সপ্তাহের ব্যবধানে শূন্য দশমিক ২৭ শতাংশ বেড়েছে ডলারের দর; মাসের ব্যবধানে বেড়েছে শূন্য দশমিক ৭৭ শতাংশ।

আড়াই মাস আগে ১৯ অগাস্ট আন্তঃব্যাংক মুদ্রাবাজারে ডলারের গড় দাম ছিল ১২২ টাকা।

এর আগে ৬ আগস্ট আন্তঃব্যাংক মুদ্রাবাজারে ডলারের দর বেড়ে সর্বোচ্চ ১২৩ টাকা ৮২ পয়সায় উঠেছিল; সর্বনিম্ন ছিল ১২৩ টাকা ৮০ পয়সা। গড় দাম ছিল ১২৩ টাকা ৮১ পয়সা।

এর পর নিম্নমুখী হয় দর, যা এখন আবার চড়ছে।

এদিন রাষ্ট্রায়ত্ত সোনালী ব্যাংক স্পট মার্কেটে ১২৪ টাকা ১০ পয়সা দরে ডলার বিক্রি করেছে; কিনেছে ১২৩ টাকা ১০ পয়সায়।

বেসরকারি ইস্টার্ন ব্যাংক স্পট মার্কেটে ১২৪ টাকা ২৮ পয়সা দরে ডলার বিক্রি করেছে; কিনেছে ১২৩ টাকা ২৮ পয়সায়।

মানি এক্সচেঞ্জগুলোর সংগঠন মানি চেঞ্জার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (এমসিএবি) কিছুদিন ধরে ডলারের দর নির্ধারণ করে দিচ্ছে। প্রতিদিন সকালে দর বেঁধে দেওয়া হয় এবং সংগঠনের সদস্য এক্সচেঞ্জ হাউজগুলো সেই দরে ডলার কেনাবেচা করে।

এমসিএবির নির্ধারিত দর অনুসরণ করে বুধবার ১২৮ টাকা দরে ডলার বিক্রি করেছে এক্সচেঞ্জ হাউজগুলো; কিনেছে ১২৭ টাকায়। আগের দিন মঙ্গলবার বিক্রয় মূল্য ছিল ১২৭ টাকা ৮০ পয়সা; কেনা হয় ১২৬ টাকা ৮০ পয়সায়। সোমবার কেনা হয় ১২৬ টাকা ৬০ পয়সায়; বিক্রি করা হয় ১২৭ টাকা ৬০ পয়সায়।

মাস খানেক আগে ১ অক্টোবর বিক্রয় মূল্য ছিল ১২৬ টাকা ৬০ পয়সা। কেনা হয় ১২৫ টাকা ৬০ পয়সায়।

এক্সচেঞ্জ হাউজগুলোর বাইরে রাজধানীর মতিঝিল ও গুলশানে ১২৮ টাকা ২০ পয়সায় ডলার বিক্রি হয়েছে বলে জানিয়েছেন ডলার ব্যবসায়ীরা।

ডলারের দর নিয়ন্ত্রণ ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে গত ২৪ অগাস্ট থেকে মানি এক্সচেঞ্জগুলোর জন্য ডলারের দর বেঁধে দিচ্ছে দেশের এক্সচেঞ্জগুলোর সংগঠন এমসিএবি।

এরপর থেকে প্রতিদিন এমসিএবির ওয়েবসাইটে টাকা-ডলারের বিনিময় হার বেঁধে দেওয়া হচ্ছে এবং সে দামেই ডলার কেনাবেচা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংগঠনটির সভাপতি এম এস জামান।

বুধবার বিডিনিউজ টোয়েন্টিঢোর ডটকমকে তিনি বলেন, দেশে দেশে যুদ্ধ, অস্থিরতা ও উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে বিশ্বব্যাপীই ডলারের দর বাড়ছে। তার প্রভাব বাংলাদেশেও পড়েছে।

“নানা কারণে আমদানি খরচ বেড়েছে। সে কারণে ডলারের চাহিদা বেড়েছে; কিন্তু সে অনুযায়ী জোগান নেই। তাই এখন দাম বাড়ছে। কিছুদিন পর ঠিক হয়ে যাবে।”

তিনি বলেন, “সংগঠনের পক্ষে কঠোরভাবে মনিটর করছি। বেঁধে দেওয়া দরের বাইরে কোনো ডলার কেনাবেচা হচ্ছে না।”

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত ২০২৫-২৬ অর্থবছরের শেষ দিন ৩০ জুন আন্তঃব্যাংক মুদ্রাবাজারে টাকা-ডলারের বিনিময় হার ছিল ১২২ টাকা ৮৫ পয়সা। এক বছর আগে ২০২৫ সালের ১৯ অক্টোবর ছিল ১২১ টাকা ৮৭ পয়সা।