নির্ধারিত দামের বেশি নিলে ব্যবস্থা: এলপিজি বিক্রেতাদের সতর্ক করল লোয়াব
লোয়াবের ভাষ্য, সেপ্টেম্বর মাসে দেশে ১ লাখ ৫৬ হাজার মেট্রিক টন এলপিজি আমদানি হয়েছে, যা চাহিদার তুলনায় ‘যথেষ্ট’।
দেশে পর্যাপ্ত আমদানি থাকার পরও যে অপারেটর, পরিবেশক, ডিলার ও খুচরা বিক্রেতারা বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে এলপিজি বিক্রি করছে, তাদের সতর্ক করেছে এলপিজি অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (লোয়াব)।
বৃহস্পতিবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সংগঠনটি বলেছে, নির্ধারিত দামের বেশি দামে এলপিজি বিক্রি বা নিয়মবহির্ভূতভাবে মজুদ করা হলে তা প্রচলিত আইনের লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচিত হবে এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
লোয়াবের ভাষ্য, দেশে এলপিজির আমদানি ও সরবরাহ পরিস্থিতি ‘সন্তোষজনক’। সেপ্টেম্বর মাসে দেশে ১ লাখ ৫৬ হাজার মেট্রিক টন এলপিজি আমদানি হয়েছে, যা অগাস্টের ১ লাখ ৫৮ হাজার মেট্রিক টনের কাছাকাছি।
এই সরবরাহ দেশের চাহিদার তুলনায় ‘যথেষ্ট’ বলে মনে করছে লোয়াব। ফলে বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরির সুযোগ নেই বলেও সংগঠনটি দাবি করেছে।
তবে বাজারের বাস্তবতা ভিন্ন। ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় ভোক্তাদের নির্ধারিত দামে ১২ কেজির সিলিন্ডার না পাওয়ার অভিযোগ এসেছে। কোথাও সিলিন্ডার পাওয়া গেলেও ১ হাজার ৫৮৫ টাকা নির্ধারিত দামের বদলে ২ হাজার থেকে ২ হাজার ৩০০ টাকা পর্যন্ত নেওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে।
অনেক গ্রাহক বলছেন, নিয়মিত ব্যবহার করা কোম্পানির সিলিন্ডার না পেয়ে তাদের অন্য কোম্পানির সিলিন্ডার কিনতে হয়েছে। এরকম ক্ষেত্রে সিলিন্ডারের দামসহ সাড়ে তিন হাজার টাকা দাম রাখছেন বিক্রেতারা।
লোয়াবের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকার পরও কোনো অপারেটর, পরিবেশক, ডিলার বা খুচরা বিক্রেতা বিইআরসি নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে এলপিজি সিলিন্ডার বিক্রি করলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নিয়মবহির্ভূতভাবে এলপিজি মজুদের ক্ষেত্রেও একই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
গত ২৮ সেপ্টেম্বর বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ে এলপিজির আমদানি, মজুদ, সরবরাহ ও মূল্য পরিস্থিতি নিয়ে একটি মতবিনিময় সভা হয়। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুর সভাপতিত্বে ওই সভায় মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা ও এলপিজি অপারেটররা অংশ নেন। সেখানে অপারেটররা দেশে এলপিজির সামগ্রিক সরবরাহ ও মজুদ পরিস্থিতি ‘স্বাভাবিক’ রয়েছে বলে দাবি করেন।
এদিকে ৩০ সেপ্টেম্বর জেলা প্রশাসকদের সঙ্গে এক অনলাইন সভায় জ্বালানি মন্ত্রী এলপিজির বাজার কঠোরভাবে নজরদারির নির্দেশ দেন। কৃত্রিম সংকট তৈরি করে দাম বাড়ানো হচ্ছে কি না, তা তদন্ত করে তথ্য-প্রমাণসহ প্রতিবেদন দিতে জেলা প্রশাসকদের নির্দেশ দেওয়া হয়।
লোয়াব তার সদস্য কোম্পানি, পরিবেশক, ডিলার ও খুচরা বিক্রেতাদের অবিলম্বে বিইআরসি নির্ধারিত দামে এলপিজি বিক্রি নিশ্চিত করতে বলেছে।
ভোক্তার অধিকার সুরক্ষা ও বাজার স্থিতিশীল রাখতে প্রশাসন এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর সঙ্গে সহযোগিতা অব্যাহত রাখার কথাও বলছে সংগঠনটি।
