লুফথানসার ‘লিডো’ দিয়ে ফ্লাইট চালাবে বিমান

নতুন এই ফ্লাইট ডিসপ্যাচ সলিউশন চালু করায় বছরে আনুমানিক ২০ কোটি টাকা সাশ্রয় হবে বলে আশা করছে বিমান।

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদকবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 28 Nov 2023, 02:18 PM
Updated : 28 Nov 2023, 02:18 PM

ফ্লাইট পরিচালনায় জার্মানির লুফথানসা সিস্টেমের ফ্লাইট ডিসপ্যাচ সলিউশন ‘লিডো ফ্লাইট ফোরডি’ চালু করেছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স।

মঙ্গলবার বিমানের প্রধান কার্যালয় বলাকায় জার্মান প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে আনুষ্ঠানিকভাবে সফটওয়্যারটির উদ্বোধন করেন বিমানের ব্যবস্থাপনা পরিচালকি শফিউল আজিম।

ফ্লাইটের রুট, গতিবেগ ইত্যাদি নির্ধারণে বিভিন্ন ধরনের সফটওয়্যার ব্যবহার করে এয়ারলাইন্সগুলো। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স দীর্ঘদিন ‘সিটা ফ্লাইট প্ল্যান সিস্টেম’ ব্যবহার করে আসছিল।

সিটার পর কিছুদিন স্কাইপ্ল্যান সিস্টেম ব্যবহার করে বিমান। এখন বিমান জার্মানির লুফথানাসা সিস্টেমের ‘লিডো ফ্লাইট ফোরডি’ ফ্লাইট ডিসপ্যাচ সলিউশন দিয়ে ফ্লাইট চালাবে।

বিমানের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বিমানকে ‘স্মার্ট এয়ারলাইন্স’ হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ হিসেবে ‘লিডো ফ্লাইট ফোরডি’ চালু করা হয়েছে। এর ফলে বছরে আনুমানিক ২০ কোটি টাকা সাশ্রয় হবে বিমানের।

কাতার এয়ারওয়েজ, এমিরেটস এয়ারলাইন্স, সিঙ্গাপুর এয়ারলাইনস, ইতিহাদ এয়ারওয়েজ, ব্রিটিশ এয়ারওয়েজের মত অপারেটরগুলোও এখন ‘লিডো ফ্লাইট ফোরডি’ সফটওয়্যার ব্যবহার করছে।

কোন পথে এবং কোন উচ্চতায় ফ্লাই করলে সবচেয়ে কম জ্বালানি খরচ হবে, কোন দেশের উপর দিয়ে ফ্লাই করলে ‘ওভার ফ্লাই চার্জ’ কম লাগবে, যে এয়ারপোর্ট ব্যবহার করা হবে তা সংশ্লিষ্ট উড়োজাহাজের জন্য ব্যবহার উপযোগী কিনা, সাইক্লোন বা অগ্নুৎপাতের মত ঝুঁকিপূর্ণ আবহাওয়ার সম্ভাবনা আছে কী না ইতাদি বিষয় বিবেচনায় নিয়ে ফ্লাইট পরিচালন পরিকল্পনার নাম হল ‘ফ্লাইট ডিসপ্যাচ’। যে সফটওয়্যার ব্যবহার করে এই কাজগুলো করা হয় সেটাই ফ্লাইট ডিসপ্যাচ সলিউশন।

বিমানের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘লিডো ফ্লাইট ফোরডি’ সফটওয়্যারটি ‘একটি সম্পূর্ণ ডিসপ্যাচ ব্যবস্থা’। এর মাধ্যমে নিখুঁত এবং সাশ্রয়ীভাবে ফ্লাইট প্ল্যানিং করা সম্ভব।

আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরিচালনার জন্য ফ্লাইট প্ল্যান করা এবং যেসব দেশের ওপর দিয়ে উড়োজাহাজ যাবে, সেসব দেশের এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলকে তা অবহিত করা ব্যাধ্যতামূলক।

ফ্লাইট প্ল্যান করার ক্ষেত্রে অন্যতম বিবেচ্য বিষয় হচ্ছে গন্তব্যের দূরত্ব, উড়োজাহাজের গতিবেগ, আবহাওয়ার অবস্থা, গন্তব্যের পথে আবহাওয়ার অবনতি বা জরুরি অবস্থায় সম্ভাব্য বিকল্প গন্তব্য নির্ধারণ, জ্বালানি তেলের পরিমাণ নির্ধারণ ইত্যাদি। লিডো ফ্লাইট ফোরডি দিয়ে এসব কাজ নিখুঁতভাবে করা সম্ভব বলে বিমানের ভাষ্য।

মঙ্গলবার বিমানের প্রধান কার্যালয় বলাকায় আনুষ্ঠানিকভাবে সফটওয়্যারটির উদ্বোধন করেন বিমানের এমডি ও সিইও শফিউল আজিম। লুফথানাসা সিস্টেমের এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চলের সিইও টম ভ্যানড্যানডিল বিশেষ অতিথি হিসেবে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

বিমানের এমডি বলেন, “বিমানকে স্মার্ট এয়ারলাইন্স হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ হিসেবে ‘লিডো ফ্লাইট ফোরডি’ গ্রহণ করা হয়েছে। এর মাধ্যমে আমরা অত্যন্ত নিখুঁত, সুরক্ষিত এবং সাশ্রয়ীভাবে ফ্লাইট প্ল্যান করতে পারব।

“এছাড়া স্বয়ংক্রিয়ভাবে আবহাওয়া ও প্রতিকূল পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি বিকল্প পন্থা অবলম্বনেও সহযোগিতা পাওয়া যাবে। ফ্লাইট আকাশে চলাকালে লাইভ মনিটরিং, সবচেয়ে কম খরচের যাত্রাপথ নির্ধারণ এবং শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত নিরাপদ ফ্লাইটের জন্য নিখুঁত পারফরম্যান্স হিসাব করা সম্ভব হবে।”