২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৪ আশ্বিন ১৪৩৩

পাটপণ্যের রপ্তানি আয় বিলিয়ন ডলারে নিতে একগুচ্ছ সুপারিশ

এ লক্ষ্য অর্জনে ১ হাজার নতুন উদ্যোক্তা তৈরির প্রস্তাব দিয়েছেন এ খাতের ব্যবসায়ীরা।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 29 Sep 2026, 07:59 PM

Updated : 29 Sep 2026, 07:59 PM

বহুমুখী পাটপণ্যের রপ্তানি আয় ২০৩০ সালের মধ্যে এক বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করতে এবং প্রায় এক লাখ নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে সরকারের কাছে একগুচ্ছ প্রস্তাব দিয়েছেন খাতসংশ্লিষ্ট উদ্যোক্তারা।

এ লক্ষ্য অর্জনে ১ হাজার নতুন উদ্যোক্তা তৈরির প্রস্তাব দিয়েছেন তারা।

সোমবার বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে এক বৈঠকে এসব প্রস্তাব তুলে ধরেন বাংলাদেশ বহুমুখী পাটজাত পণ্য উৎপাদক ও রপ্তানিকারক সমিতির সভাপতি মো. রাশেদুল করীম মুন্না।

বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।

খাতসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব দেওয়ায় মন্ত্রী তা ‘অ্যাপ্রিশিয়েট’ করেছেন বলে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানান রাশেদুল করীম মুন্না।

তিনি বলেন, “উদ্যোক্তারা অগ্রাধিকার ভিত্তিতে প্রস্তাবগুলো বাস্তবায়নে একটি সময়সীমা নির্ধারণ এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে দায়িত্ব বণ্টনের অনুরোধ জানান। বৈঠকে মন্ত্রী প্রস্তাবগুলো মনোযোগ দিয়ে শোনেন এবং আগামী মাসে ফের বসতে চেয়েছেন।”

বৈঠকে উদ্যোক্তাদের পক্ষ থেকে দেওয়া প্রস্তাবে বলা হয়, বর্তমানে কাঁচা পাট, পাটের সুতা ও প্রচলিত পাটপণ্য রপ্তানি করে দেশ প্রায় ৯০ শতাংশ বৈদেশিক মুদ্রা আয় করে।

“অথচ উচ্চমূল্য সংযোজিত পণ্য উৎপাদন ও বাজার বহুমুখী করার মাধ্যমে এই অনুপাত ৬০ থেকে ৭০ শতাংশে নামিয়ে আনা প্রয়োজন। এ কারণে পাট খাতের রপ্তানি আয় দীর্ঘদিন ধরে বাড়ছে না।”

প্রস্তাবে বলা হয়, কাঁচা পাট ও সুতা রপ্তানির ৫৬ শতাংশ ভারত, তুরস্ক ও চীনের ওপর নির্ভরশীল।

উৎপাদন ব্যয় কমাতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ও রপ্তানি নীতিতে বিভিন্ন পরিবর্তন আনারও প্রস্তাব দিয়েছেন উদ্যোক্তারা।

এর মধ্যে রয়েছে গবেষণা ও পণ্য উন্নয়ন ব্যয়ে কর রেয়াত দেওয়া এবং আন্তর্জাতিক মেলায় অংশগ্রহণের খরচের ওপর বর্তমানে থাকা ২৫ শতাংশ ভ্যাট ও কর প্রত্যাহার করে ম্যাচমেকিংয়ের সুবিধা দেওয়া।

এছাড়া এক্সপোর্ট প্রসিডের ওপর বর্তমানে যে ১ শতাংশ কর কাটা হয়, তা শূন্যে নামানো এবং কাঁচামাল কেনার ক্ষেত্রে থাকা দশমিক ৫০ শতাংশ উৎসে কর (টিডিএস) প্রত্যাহারের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

নগদ সহায়তার বিপরীতে ১০ শতাংশ কর কাটা হয়, সেটিও শূন্যে নামানোর পাশাপাশি বন্ড সুবিধার আলোকে এনবিআরের বিদ্যমান আইন সংশোধনের প্রস্তাব দিয়েছেন উদ্যোক্তারা।

জিএসপি সুবিধার বাইরে অতিরিক্ত শুল্কের কারণে যেসব বাজার হারানোর ঝুঁকি রয়েছে, সেসব দেশের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় চুক্তির মাধ্যমে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়। এ ক্ষেত্রে ভারত বেশ কিছুটা এগিয়ে আছে বলেও উদ্যোক্তাদের পক্ষ থেকে বৈঠকে তুলে ধরা হয়।

পাটকে কৃষি মন্ত্রণালয়ের কৃষিপণ্যের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানিয়ে রাশেদুল করীম মুন্না বলেন, এতে উন্নত মানের বীজ উন্নয়ন ও সরবরাহ, রেটিং পদ্ধতির উন্নয়ন এবং কৃষকদের আর্থিক ও নীতিগত সহায়তা দেওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।

পাট থেকে উৎপাদিত পণ্যকে কৃষি প্রক্রিয়াজাত পণ্যের তালিকায় রাখারও সুপারিশ করেন তিনি।

এছাড়া শতভাগ দেশীয় উন্নত মানের পাটবীজ উৎপাদনের সক্ষমতা অর্জনে জোর দিচ্ছেন উদ্যোক্তারা।

সরকারি ক্রয়নীতিতে যেসব পণ্য পাট থেকে উৎপাদন ও সরবরাহ করা সম্ভব, সেসব ক্ষেত্রে পাটপণ্য কেনা বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাব দিয়েছেন তারা।

স্কুলব্যাগ প্রকল্প আরও কয়েক বছর চালু রাখা এবং এ ধরনের আরও এক-দুটি নতুন প্রকল্প নেওয়ার কথাও তাদের সুপারিশে এসেছে।

আমদানির ক্ষেত্রে বহুমুখী পাটপণ্যের আলাদা এইচএস কোড না থাকায় বিভিন্ন জটিলতা তৈরি হচ্ছে জানিয়ে বিষয়টি দেখার জন্য ট্যারিফ কমিশনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন উদ্যোক্তারা।

বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলম, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।