Published : 05 May 2026, 11:46 PM
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের জন্য গেল সপ্তাহে মার্কিন কোম্পানি বোয়িং এর কাছ থেকে ১৪টি উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি হয়ে গেলেও এখনো চেষ্টা তদবির অব্যাহত রেখেছে ইউরোপীয় কোম্পানি এয়ারবাস।
মঙ্গলবার বেসামরিক বিমান পরিবহন মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও সচিবের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে বিমানের জন্য মিশ্র বহর গঠনে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন এয়ারবাসের কর্মকর্তারা।
গত বৃহস্পতিবার ঢাকার একটি হোটেলে বোয়িংয়ের সঙ্গে ১৪টি উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি স্বাক্ষর করে বিমান। এসব উড়োজাহাজ কিনতে খরচ পড়বে ৩ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলার বা ৪৫ হাজার ৪০৮ কোটি টাকা (১ ডলারে ১২২ টাকা ৭৩ পয়সা হিসাবে) ।
সেই চুক্তির পরেও এয়ারবাসের কর্মকর্তারা দৃশ্যত হাল ছেড়ে দেননি।
মঙ্গলবার বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এদিন সকালে সচিবালয় বেসামরিক বিমান পরিবহন মন্ত্রী আফরোজা খানমের সঙ্গে মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন এয়ারবাসের ভাইস প্রেসিডেন্ট এডুয়ার্ড ডেলাহে।
বেসামরিক বিমান পরিবহন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত, সচিব ফাহমিদা আখতার, এনডিসি এবং বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কাইজার সোহেল আহমেদ এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আলোচনায় বিমানের বহরে মিক্সড ফ্লিট গঠনে এয়ারবাসের আগ্রহের কথা প্রকাশ করা হয়।
“এসময় মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী বিমানের ফ্লিট গঠনে এয়ারবাসের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।”
বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় ১০টি এয়ারবাস কেনার নীতিগত সিদ্ধান্ত জানানো হয়েছিল। কিন্তু অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের পতন আর ডনাল্ড ট্রাম্পের শুল্কের চাপের মধ্যে শেষ পর্যন্ত বিমানের ক্রয়াদেশ যায় বোয়িংয়ের ব্যাগে।
২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে ঢাকা সফরে এসে ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাক্রোঁ তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে বলেছিলেন, বাংলাদেশ ফ্রান্সের কোম্পানি এয়ারবাস থেকে ১০টি বড় উড়োজাহাজ ‘কেনার প্রতিশ্রুতি’ দিয়েছে।
এয়ারবাস থেকে আটটি যাত্রীবাহী ও দুটি পণ্যবাহী উড়োজাহাজ কেনার বিষয় ‘পর্যালোচনার’ মধ্যে আমেরিকান কোম্পানি বোয়িংও তৎপর হয়ে ওঠে। তৎকালীন সরকারের সঙ্গে দুপক্ষেরই দেনদরবার চলে। এর মধ্যেই ২০২৪ সালের অগাস্টে গণঅভ্যুত্থানে পতন হয় শেখ হাসিনা সরকারের।
এরপর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প চলতি বছর হোয়াইট হাউজে বসেই যে বাণিজ্য যুদ্ধের সূচনা করেন, তার প্রভাব বাংলাদেশেও পড়ে।
ট্রাম্পের ৩৫ শতাংশ শুল্কের মধ্যে গত বছরের জুলাইয়ে বোয়িংয়ের কাছ থেকে ২৫টি উড়োজাহাজ কেনার সিদ্ধান্ত ঘোষণা করে অন্তর্বর্তী সরকার। সেই ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার ১৪টি এয়ারক্রাফট কেনার চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।