সমুদ্রে মাছ ধরা নৌযান হবে একই রঙের, বসছে নম্বর

সামুদ্রিক মৎস্য আহরণকে ‘সিস্টেম আনতে’ এমন পদক্ষেপ বলে জানালেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব।

নিজস্ব প্রতিবেদকবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 25 July 2022, 02:31 PM
Updated : 25 July 2022, 02:31 PM

বাংলাদেশের সমুদ্রসীমায় প্রতিবেশী দেশের নৌযানকে চিহ্নিত করার পাশাপাশি মাছ ধরায় শৃঙ্খলা আনতে সমুদ্রগামী সব মাছ ধরা নৌযানে নির্দিষ্ট রঙ করে নম্বর দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

সোমবার মন্ত্রিসভা বৈঠকে 'সামুদ্রিক মৎস্য আহরণ নীতিমালা, ২০২২' এর খসড়া অনুমোদনকালে এ নির্দেশ দেওয়া হয় বলে জানিয়েছেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম।

দেশের সমুদ্রসীমায় মিয়ানমার ও ভারতের মাছ ধরা নৌযান ঢুকে পড়লেও বাংলাদেশের নৌযান থেকে সেগুলোকে আলাদা করা সম্ভব হয় না। এজন্য দেশের নৌযানকে চিহ্নিত করতে চার মাসের মধ্যে রঙ দেওয়ার এমন পদক্ষেপ বলে জানিয়েছেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব।

ভার্চুয়াল মাধ্যমে আয়োজিত এদিনের মন্ত্রিসভা বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বৈঠক শেষে সচিবালয়ে প্রেস ব্রিফিংয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান, এ সংক্রান্ত আইন অনুযায়ী একটি নীতিমালা করা হয়েছে। সেখানে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে।

এতে কারা কোন কাজ করবে এবং সেটা ঠিক করে দিয়ে ২০টি প্রতিষ্ঠানকে বিভিন্ন দায়িত্ব দেওয়ার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, “যাতে আমরা সামুদ্রিক মৎস্য আহরণকে একটা সিস্টেম আনতে পারি।“

খন্দকার আনোয়ারুল জানান, সমুদ্রে মাছ ধরা নৌযানগুলোকে দ্রুত নিবন্ধন করা জটিল হবে। এ কারণে এ মুহূর্তে রঙ দিয়ে নম্বর দেওয়ার পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে যাতে সেগুলোকে চিহ্নিত করা যায়।

“সবুজ, লাল অথবা যেটা দেওয়া হোক, সেটা নিয়ে আজ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে,” বলেন তিনি।

তিনি বলেন, “নইলে মিয়ানমারের কিছু নৌকা আমাদের মধ্যে ঢুকে যাচ্ছে। কারণ এই ২০ বা ৪০ হাজার নৌকার মধ্যে বাইরের একটা নৌকা ঢুকলে তা চিহ্নিত করা মুশকিল হয়। ভারতের নৌকার কিন্তু একটা কালারও আছে, রেজিস্ট্রেশন নম্বরও আছে।

“রেজিস্ট্রেশন নম্বর দিতে যেহেতু সময় লাগবে, সেজন্য আজকে মন্ত্রিপরিষদ থেকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে যতে তাড়াতাড়ি সম্ভব... (রঙ দেওয়ার)।”

মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, "মৎস্য সচিব জানিয়েছেন তারা ইতোমধ্যে প্রক্রিয়া শুরু করেছেন, নম্বর তারা দিয়ে দিচ্ছেন। মন্ত্রিসভা থেকে বলা হয়েছে নম্বরের পাশাপাশি রঙটাও দিয়ে দিতে।"

আলোচনায় লাল ও সবুজ রঙ দেওয়ার কথা উঠে আসলেও কারিগরি বিভিন্ন দিক বিবেচনায় নিয়ে সুবজ বা লাল না হলেও যেটা ‘কমফরটেবল’ হয় সেটি দিয়ে নম্বর দিয়ে দিতে হবে বলে তিনি জানান।

তিনি বলেন, “নম্বর দিয়ে একটা টাইম দিয়ে দেওয়া যে তিন বা চার মাস, এরপর আর নম্বর ছাড়া যেন কোনো নৌকা সাগরে নামতে না পারে। আর রেজিস্ট্রেশন নম্বরটা দেবে মৎস্য অধিদপ্তর।“

সমুদ্রে মাছ শিকার করে এমন নৌযানের সংখ্যা আনুমানিক ১০ হাজার হতে পারে বলে জানান তিনি।

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক