চালবাজি বন্ধে তিন স্তরের চালের দাম প্রকাশের ভাবনা মন্ত্রীর

খাদ্যমন্ত্রী বলছেন, “এক শ্রেণির ব্যবসায়ীর কারণে বিভিন্ন সুযোগে চালের বাজার অস্থির হয়ে যাচ্ছে।”

নিজস্ব প্রতিবেদকবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 13 Sept 2022, 09:03 AM
Updated : 13 Sept 2022, 09:03 AM

চালের বাজার নিয়ন্ত্রণে তিন স্তরের মূল্য সংক্রান্ত তথ্য ওয়েবসাইটের মাধ্যমে প্রকাশ করার একটি পদ্ধতি চালুর পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার।

মঙ্গলবার সচিবালয়ে বাংলাদেশ সেক্রেটারিয়েট রিপোর্টার্স ফোরাম (বিএসআরএফ) আয়োজিত এক সংলাপে অংশ নিয়ে তিনি এ পরিকল্পনার কথা জানান।

মন্ত্রী বলেন, “আমরা এমন একটি ওয়েবসাইট চালু করতে চাচ্ছি, সেখানে প্রতিদিন বিভিন্ন জেলার মিলাররা মিলগেইটের চালের দাম ঘোষণা করবেন, একইভাবে পাইকারি বাজারগুলোর ব্যবসায়ীরা পাইকারি বাজারের দাম ঘোষণা করবেন। আর খুচরা বাজারে চালের মূল্যও সেখানে থাকবে। এভাবেই চালের দাম নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।”

দেশে মিলারদের সরবরাহ করা চাল খুচরা বাজারে পৌঁছানোর পর দামের পার্থাক্য হয়ে যায় ১০ থেকে ১৫ টাকা। বাজারের এই অস্থিরতা নিয়ে পাল্টাপাল্টি দোষারোপ চলে। 

অনুষ্ঠানে খাদ্যমন্ত্রী বলেন, “এক শ্রেণির ব্যবসায়ীর কারণে বিভিন্ন সুযোগে চালের বাজার অস্থির হয়ে যাচ্ছে।”

তিনি বলেন, কয়েকদিন আগে ভোজ্য তেলের দাম যেভাবে বেড়েছে, তাতে চালের দাম কেজিতে বড় জোর ৭০ পয়সা থেকে ১ টাকা বাড়তে পারে। কিন্তু বাজারে প্রতি কেজিতে ৭/৮ টাকা করে বেড়ে গেছে।

“মিলাররা দাবি করে যে, মিলগেইটে দাম বাড়েনি। দাম বৃদ্ধির কথা কেউ স্বীকার করে না। তাহলে দামটা বাড়ায় কে? আসলে বাজার যে রকম অস্থির, ব্যবসায়ীদের মধ্য কিছু লোক আছে যারা অস্থিরতায় থাকেন। তাদের অস্থিরতার কারণে পরিস্থিতি খারাপ হচ্ছে।"

অক্টোবরের শুরু থেকে সব জেলা ও সিটি কর্পোরেশন এলাকায় ওএমএস ডিলারদের কাছে প্রতিদিন এক টন করে আটা দেওয়া হবে বলে ঘোষণা দেন খাদ্যমন্ত্রী। তাতে খাদ্যপণ্যের বাজার ‘অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে চলে আসবে’ বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

খাদ্যমন্ত্রী বলেন, “জেলা পর্যায়ে ১ অক্টোবরে থেকে প্রতি ডিলারকে এক টন করে আটা বরাদ্দ দেওয়া শুরু করব। এখন আপাতত ৪০০ জনের কিছু বেশি ডিলারের কাছে আটা দেওয়া হচ্ছে। এটা প্যাকেটজাত করা যায় কিনা সেটা চিন্তা করছি।

“এতে দাম একটু বেশি পড়বে, কিন্তু কালোবাজারি হওয়ার আশঙ্কা কমে যাবে। ওএমএসের আটার মূল্য প্রতিকেজি ১৮ টাকা, আর বাজারে আটার দাম দ্বিগুণ।

মন্ত্রী দাবি করেন, এখনও দেশে যে খাদ্যের মজুদ আছে, তাতে ‘হাহাকারের সম্ভাবনা নেই’। তারপরও ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে সরকার চাল গম আমদানি করে রাখছে।

মিনিকেট থাকছে না

বাজারে মিনিকেট নামে চাল বিক্রি হলেও আসলে ওই নামে কোনো চালের জাত যে নেই, সে কথা আবারও তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, “মিনিকেটের উৎপত্তি সম্পর্কে মানুষ যদি জানত, তাহলে মিনিকেট চাল খুঁজতে যেতে না।”

তিনি বলেন, “এক সময় আমরা উচ্চ ফলনশীল চিকন জাতের চালের জন্য মিনি প্যাকেটে করে কিছু বীজ সংগ্রহ করি। সেই মিনি প্যাক থেকে এসেছে মিনিকেট। এই হল মিনিকেটের ইতিহাস। এটা অনেকবার বলা হয়েছে। ভোক্তা অধিকার মিনেকেট নামটা উচ্ছেদ করার জন্য মোবাইল কোর্ট চালাতে পারে।

“আমরা একটা আইন মন্ত্রিসভায় অনুমোদনের জন্য দিয়েছি।খসড়া অনুমোদন পেয়েছে। এখন সেটা ভেটিংয়ের অপেক্ষায় আছে। ব্র্যান্ড যেটাই হোক, বস্তার গায়ে অবশ্যই ধানের জাতের কথা উল্লেখ করতে হবে। চাল চিকন করতে গিয়ে কতটা ছাঁটাই করা যাবে সেটাও আমরা নির্দিষ্ট করে দেব।চাল চিকন করতে গিয়ে যে ক্ষয়টা হয়, সেটাও কিন্তু সারাদেশের মোট উৎপাদনের ওপর প্রভাব ফেলে।”

সংসদে ওই আইন পাস করতে পারলে মিনিকেট নিয়ে প্রতারণা বন্ধ করা অনেক সহজ হয়ে যাবে বলে আশা প্রকাশ করেন মন্ত্রী।

তিনি বলেন, “তখন প্যাকেটে করে মিহি চাল খাওয়া বন্ধ হয়ে যাবে। সবাইকে খসখসে চালটাই খেতে হবে।… সবাই যদি ওইদিকে চলে যায়, তাহলে দামও কমে আসবে।”  

চালের বাজারে বড় বড় ব্যবসায়ীদের যে ‘সিন্ডিকেট’ সক্রিয়, সে বিষয়ে ভোক্তাদেরও সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান খাদ্যমন্ত্রী।

তিনি বলেন, “তারা অনেক পণ্যের ব্যবসাই করে। তারা খোলা বাজারের ৬০/৬৫ টাকার চাল প্যাকেট করে ৮০/৯০ টাকায়ও বিক্রি করে। আমরাও সেটা আগ্রহ করে নিয়ে চলে যাই।

“সেজন্য আমাদের মধ্যেও সচেতনতা বাড়াতে হবে। কিন্তু আমাদের মধ্যে অনেকের পয়সা বেশি হয়ে গেছে। তারা এগুলো নিয়ে চিন্তা করছে না।”

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক