১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

মানি এক্সচেঞ্জে ডলার বিক্রির সর্বোচ্চ দর ১২৬ টাকা ৫০ পয়সা

বেঁধে দেওয়া দরের বাইরে ডলার কেনাবেচা করলে লাইসেন্স বাতিল করার হুঁশিয়ারি দিয়েছে এমসিএবি।

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 25 Aug 2026, 12:06 AM

Updated : 11 Sep 2026, 03:53 PM

সর্বোচ্চ ১২৬ টাকা ৫০ পয়সা দরে ডলার বিক্রি করতে পারবে মানি এক্সচেঞ্জগুলো; কিনতে পারবে এক টাকা কমে; ১২৫ টাকা ৫০ পয়সায়।

বাজারে ডলারের দর নিয়ন্ত্রণ ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে এই দর নির্ধারণ করে দিয়েছে দেশের এক্সচেঞ্জগুলোর সংগঠন— মানি চেঞ্জার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (এমসিএবি)।

সোমবার ঢাকার পুরানা পল্টনে আজাদ সেন্টারে সংগঠনটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন ডেকে এই দর ঘোষণা করেন এমসিএবির সভাপতি এম এস জামান।

বেঁধে দেওয়া দরের বাইরে কোনো একচেঞ্জ হাউজ ডলার কেনাবেচা করলে লাইসেন্স বাতিলসহ তাদের বিরুদ্ধে ‘কঠোর ব্যবস্থা’ গ্রহণ করা হবে বলে জানান তিনি।

এ বিষয়ে সোমবার রাতে তিনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “বাজারের চলমান প্রেক্ষোপটে আমরা এ সিদ্ধান্ত নিয়েছি। 

“বিশ্বব্যাপী ডলারের দাম এখন ঊর্ধ্বমুখী। আমাদের পাশের দেশ ভারতে বাড়ছে; পাকিস্তানে বাড়ছে। সব দেশেই বাড়ছে। তার প্রভাব আমদের এখানেও পড়বে; এটাই স্বাভাবিক। জোর করে আটকে রাখার সুযোগ নেই।”

সাম্প্রতিক বাজার পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে তিনি বলেন, “আন্তঃব্যাংক মুদ্রাবাজারে ডলারের দর বাড়তে বাড়তে ১২৩ টাকা ৯০ পয়সায় উঠেছিল। পরে তা ১২২ টাকায় নামে। সোমবার আবার বেড়ে ১২২ টাকা ৫০ পয়সা ছাড়িয়েছে।”

এদিন সংবাদ সম্মেলনে এম এস জামান বলেন, “আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সমন্বয় করে টাকা-ডলারের বিনিময় হার নির্ধারণ করা হবে। যখন বাড়বে, তখন বাড়ানো হবে। আর যখন কমে যাবে, তখন কমানো হবে। এমনও হতে পারে প্রতিদিনই এই দর সমন্বয় হবে। আবার সপ্তাহেও সপ্তাহেও হতে পারে। মাসে মাসে হতে পারে। সব কিছু নির্ভর করবে আন্তর্জাতিক বাজারের ওপর।” 

ডলার বাজারের অস্থিরতা নিয়ে তিনি বলেন, “অনৈতিক কারসাজির দায় মানি চেঞ্জারদের নয়, ব্যাংকগুলোর। মানি চেঞ্জার খাতের পরিধি অত্যন্ত সীমিত হওয়ায় এ খাতে বাজার ম্যানিপুলেট বা 'গেইম' করার সুযোগ নেই।”

এম এস জামানের অভিযোগ, “কোভিড মহামারীর পরবর্তী সময়ে ডলার বাজারে অস্থিতিশীলতা তৈরি করে বিভিন্ন ব্যাংক বিপুল মুনাফা করেছে। অথচ বাজারে অস্থিরতা দেখা দিলেই এর দায় মানি চেঞ্জারদের ওপর চাপানোর চেষ্টা করা হয়। এটি অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক।

‘‘এখনো আমাদের দোষ দেয়া হচ্ছে। আমাদের তো কেউ (বাণিজ্যিক ব্যাংক ও বাংলাদেশ ব্যাংক) ডলার দেয় না। প্রবাসীরা দিয়ে যান, যেখানে বেশি দাম পাবেন সেখানেই তো তারা যাবেন।’’

গত কয়েক দিন আন্তব্যাংক মুদ্রা বাজারে ডলারের দর কমলেও ব্যাংক কার্ব মার্কেট বা খোলা বাজারে বাড়তে বাড়তে ১২৮ টাকা ছাড়িয়ে ১২৮ টাকা ৫০ পয়সায় উঠেছিল। তবে সোমবার কমে ১২৭ টাকা ৬০ পয়সায় নেমে এসেছে।

এদিকে আন্তব্যাংক মুদ্রা বাজারে ডলারের দর কমে ১২২ টাকায় নামলেও সোমবার তা ফের বেড়ে ১১২ টাকা ৫২ পয়সায় উঠেছে।

সংবাদ সম্মেলনে এমসিএবির মহাসচিব গৌতম দে বলেন, ‘‘অনেক লাইসেন্সবিহীন মানি চেঞ্জারের অস্বাভাবিক দামের কারণে তারা ব্যবসা চালাতে অসুবিধার সম্মুখীন হচ্ছি। বিভিন্ন জায়গায় অভিযোগ জানানোর পরও কোনো ফল হয়নি।’’

দেশে অনুমোদিত মানি এক্সচেঞ্জের সংখ্যা এখন ২২৮টি। এর মধ্যে ঢাকায় ১৬৫টি।