সিন্ডিকেট যদি দেখতে পারতাম, ধরতে পারতাম: পরিকল্পনামন্ত্রী
“আমরা চাই- শ্রীলঙ্কা ভালো করুক, আমরাও ভালো করতে পারব,” বলেন তিনি।
দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির জন্য যে সিন্ডিকেটের কথা বলা হয়, তা পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নানের ভাষায় ‘অদৃশ্য শক্তি’।
তিনি বলেছেন, “বাজারের সিন্ডিকেট যদি দেখতে পারতাম, ধরতে পারতাম, তাহলে ব্যবস্থা নিতে পারতাম।”
শুক্রবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি মিলনায়তনে এক অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে বের হওয়ার সময় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
এম এ মান্নান বলেন, “সিন্ডিকেট ধরা যায় না, অধরা থেকে যায়। তবে তা সাময়িকভাবে বাজারের ভেতরেই থাকতে পারে। সিন্ডিকেট হয়, সিন্ডিকেট ভাঙে, আবার নতুন সিন্ডিকেট হয়। বাজার নিয়ন্ত্রণ করার শক্তি দুনিয়ায় কারোরই নেই। বাজার নিজেকেই নিজে নিয়ন্ত্রণ করে।
“তবে কিছু অনুষঙ্গ আছে— সরবরাহ, চাহিদা। এগুলো নিয়ে তাত্ত্বিক বিশ্লেষণ করা যায়। আসল প্রশ্ন হল, একটা উদীয়মান অর্থনীতিতে সব সময় চাহিদা ও জোগানের মধ্যে অনেক পার্থক্য থাকে। স্থিতিশীল বুড়ো অর্থনীতিগুলোর বাজারে একটা ভারসাম্য আছে।"
বাংলাদেশের অর্থনীতি যে ‘উদীয়মান’, সে কথা তুলে ধরে পরিকল্পনা মন্ত্রী বলেন, “এ ধরনের অর্থনীতিতে কিছু বিকৃতি থাকবেই, লাভ বা মুনাফার সুযোগ নেবেই। এটা মোকাবিলার জন্য বিভিন্ন ধরনের নিয়ন্ত্রণ বা নিয়ামক সংস্থাকে বিধিবিধান প্রয়োগ করতে হবে।
“আইনে যা আছে, সেটাকে মাঠে নেমে প্রয়োগ করতে হবে। এখানে কিছু ঘাটতি মাঝেমধ্যে হয়ে যায়। কয়েকটা নিয়ামক সংস্থা আছে, একেবারে নতুন। তাদের তো দাঁত গজাতে হবে। তারা আস্তে আস্তে অভিজ্ঞ হচ্ছে, কাজ করছে।"
বাংলাদেশে ‘শ্রীলঙ্কার মত পরিস্থিতি’ হয়নি মন্তব্য করে মান্নান বলেন, “গত দুই বছর আগে অনেকেই বলেছিলেন যে- বাংলাদেশ শ্রীলঙ্কা হয়ে গেছে; শুধু বাঁশি বাজানো বাকি, সেটা হয়নি।
“আমরা চাই- শ্রীলঙ্কা ভালো করুক, আমরাও ভালো করতে পারব। শ্রীলঙ্কার অর্থনীতি আকারে আমাদের অর্থনীতির ১০ ভাগের এক ভাগও নয়। কিছু সূচকে শ্রীলঙ্কা আবার আমাদের চেয়ে এগিয়ে। শ্রীলঙ্কা যদি ঘুরে দাঁড়িয়ে থাকে, ভালো। আমি প্রশংসা করি। আমরাও ঘুরে দাঁড়াচ্ছি, দাঁড়াব। ভয় বা সংকটের কোনো বিষয় নেই।"
এর আগে মার্কেটার্স ইনস্টিটিউট বাংলাদেশের আয়োজনে ‘বাংলাদেশ মার্কেটিং ডে’র সূচনাপর্বে অংশ নেন পরিকল্পনা মন্ত্রী।
