ডি-৮ জোটে বাণিজ্য বাড়বে ১০ গুণ: মোমেন

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ডি-৮ দেশগুলোর মধ্যে বাণিজ্য ও শুল্ক বাধা অনেক বেশি।

নিজস্ব প্রতিবেদকবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 27 July 2022, 05:43 PM
Updated : 27 July 2022, 05:43 PM

উন্নয়নশীল দেশের জোট ডি-৮ সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে ১০ বছরে বাণিজ্যের পরিমাণ ১০ গুণ বাড়তে পারে বলে আশা করছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন।

বুধবার ঢাকায় ডি-৮ পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের ২০তম সভা শেষে সংবাদ সম্মেলনে দেশগুলোর মধ্যে অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য চুক্তি (পিটিএ) কার্যকর হতে যাচ্ছে জানিয়ে এমন আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

ইতোমধ্যে, মিশর ছাড়া অন্যান্য সাতটি সদস্য রাষ্ট্র ডি-৮ পিটিএ অনুসমর্থন করেছে।

বৈঠকের সভাপতি মোমেন বলেন, "আপনারা জেনে আনন্দিত হবেন যে, এবারের সভায় মিশর জানিয়েছে তারা শিগগির ডি-৮ পিটিএ অনুসমর্থন করবে।"

এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি জানান, ডি-৮ জোটের দেশগুলোর মধ্যে পিটিএ কার্যকর হওয়ার পর শুল্কের বাধা শিথিল হলে ১০ বছরের মধ্যে বাণিজ্যের পরিমাণ ১০ গুণ বাড়তে পারে।

"১২৯ বিলিয়ন ডলার থেকে আন্তঃবাণিজ্য ১০ গুণ বাড়বে। সেটা ১০ বছরে ১ দশমিক ৩ ট্রিলিয়ন ডলার হবে বলে আমি আশা করছি।”

তিনি জানান, বাংলাদেশের ৫২ বিলিয়ন ডলার রপ্তানির মধ্যে ডি-৮ জোটের সাত দেশে তা ১০ বিলিয়ন।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, "ডি-৮ দেশগুলোর মধ্যে বাণিজ্য ও শুল্ক বাধা অনেক বেশি। সেজন্য আমরা আশা করতেছি যে, শুল্ক বাধাগুলো যখন শিথিল হবে, তখন বাণিজ্য বাড়বে।"

বাংলাদেশের সঙ্গে ডি-৮ জোটের বর্তমান সদস্যরাষ্ট্র হিসেবে রয়েছে মিশর, ইন্দোনেশিয়া, ইরান, মালয়েশিয়া, নাইজেরিয়া, পাকিস্তান ও তুরস্ক।

এই আট দেশের মধ্যে ১২৯ বিলিয়ন ডলারের বাণিজ্য রয়েছে জানিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ১৯৯৭ সালে প্রতিষ্ঠার সময় ডি-৮ এর সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে আন্তঃবাণিজ্যের পরিমাণ ছিল মাত্র ১৪ বিলিয়ন ডলার।

বৈঠকের সভাপতি মোমেন জানান, ডি-৮ পিটিএ দ্রুত কার্যকর করতে ট্রেড ফ্যাসিলিটেশন স্ট্র্যাটেজির খসড়া চূড়ান্ত করার প্রক্রিয়া চলছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের সভায় এ বিষয়ে পর্যালোচনা করা হয়েছে।

তিনি বলেন, "এই খসড়াটি শিগগির বাংলাদেশে অনুষ্ঠিতব্য তৃতীয় বাণিজ্যমন্ত্রী পর্যায়ের সভায় গৃহীত হবে বলে আশা করা যাচ্ছে।”

তবে বাণিজ্যমন্ত্রী পর্যায়ের সভার দিনক্ষণ ঠিক হয়নি বলে এক প্রশ্নের উত্তরে জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

ডি-৮ মহাসচিব ইসিয়াকা আবদুল কাদির ইমাম বলেন, "ডি-৮ পিটিএ ইতোমধ্যে স্বাক্ষর হয়েছে। এখন কেবল কার্যকর করা বাকি। আমরা আশা করছি, চলতি বছরের অক্টোবরের মধ্যে এটা কার্যকর হবে।"

রাশিয়া-ইউক্রেইন যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা নিয়ে সভায় আলোচনা হয়েছে জানিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোমেন বলেন,

“বিশ্বব্যাপী চলমান জ্বালানি সংকটের মুহূর্তে জ্বালানি খাতে আন্তঃডি-৮ সহযোগিতা বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তা অনুধাবন করে ডি-৮ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীরা প্রথম জ্বালানি বিষয়ক মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠক করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।”

ঢাকার ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলে বুধবার ডি-৮ পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের সভার আয়োজন করে বর্তমানে জোটের সভাপতি বাংলাদেশ।

বর্তমানে ডি-৮ সভাপতি, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে সভার উদ্বোধন করেন। এরপর হাইব্রিড মাধ্যমে সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় তুরস্ক ও ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীসহ অন্যান্য ডি-৮ সদস্য রাষ্ট্রগুলোর পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী পর্যায়ের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক