১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২ আশ্বিন ১৪৩৩

সেপ্টেম্বরেও অপরিবর্তিত জ্বালানি তেলের দাম

ডিজেল প্রতি লিটার ১১৫ টাকা, অকটেন ১৪৫ টাকা, পেট্রোল ১৪০ টাকা এবং কেরোসিন ১৩৫ টাকায় বিক্রি হবে।

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 31 Aug 2026, 05:40 PM

Updated : 16 Sep 2026, 01:02 PM

দেশে সেপ্টেম্বর মাসেও ডিজেল, কেরোসিন, অকটেন ও পেট্রোলের দাম অপরিবর্তিত রাখছে সরকার। ফলে টানা চার মাস একই দামে এসব জ্বালানি তেল কিনবেন ভোক্তারা।

আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে ডিজেল প্রতি লিটার ১১৫ টাকা, অকটেন ১৪৫ টাকা, পেট্রোল ১৪০ টাকা এবং কেরোসিন ১৩৫ টাকায় বিক্রি হবে।

সোমবার জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের অপারেশন-১ শাখা থেকে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের চেয়ারম্যানকে চিঠি দিয়ে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়েছে।

সোমবার জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ থেকে চিঠি দিয়ে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের চেয়ারম্যানকে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়েছে।

সেপ্টেম্বরের জ্বালানি তেলের দাম নির্ধারণের বিষয়ে বিপিসি গত ২৫ অগাস্ট জ্বালানি বিভাগে প্রস্তাব পাঠিয়েছিল। 

চিঠিতে বলা হয়েছে, গত ৩১ মে জ্বালানি বিভাগের প্রজ্ঞাপনে ভোক্তা পর্যায়ে ডিজেলের দাম ১১৫ টাকা, অকটেন ১৪৫ টাকা, পেট্রোল ১৪০ টাকা এবং কেরোসিন ১৩৫ টাকা প্রতি লিটার নির্ধারণ করা হয়েছিল।

“যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদনে সেই দাম সেপ্টেম্বর মাসের জন্য অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। ফলে ১ সেপ্টেম্বর থেকেও সর্বশেষ নির্ধারিত দাম কার্যকর থাকবে।”

জুনে এই দাম কার্যকর হওয়ার পর জুলাই ও অগাস্টেও সরকার চার ধরনের জ্বালানি তেলের দাম অপরিবর্তিত রেখেছিল। ফলে সেপ্টেম্বর নিয়ে টানা চার মাস একই দাম থাকছে। 

গত ১ জুন আগের মাসের চেয়ে অকটেন, পেট্রোল ও কেরোসিনের দাম লিটারে ৫ টাকা করে বাড়ানো হয়েছিল। তখন অকটেন ১৪০ টাকা থেকে ১৪৫ টাকা, পেট্রোল ১৩৫ টাকা থেকে ১৪০ টাকা এবং কেরোসিন ১৩০ টাকা থেকে ১৩৫ টাকা হয়। ডিজেলের দাম ১১৫ টাকাতেই রাখা হয়।

এর আগে ১৮ এপ্রিল আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বেড়ে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে দেশে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো হয়েছিল। পরে মে মাসে সেই দাম অপরিবর্তিত রাখা হয়।

বাংলাদেশে ২০২৪ সাল থেকে স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে জ্বালানি তেলের দাম নির্ধারণ করা হচ্ছে। এ ব্যবস্থায় প্রতি মাসে আন্তর্জাতিক বাজারের দাম, আমদানি ব্যয়, ডলারের বিনিময় হার, শুল্ক ও কর, বিপিসির মার্জিন, ভ্যাট এবং বিতরণ ব্যয় বিবেচনায় নিয়ে দাম পর্যালোচনা করা হয়। তবে আন্তর্জাতিক বাজারের দামের ওঠানামার সঙ্গে দেশের বাজারে প্রতি মাসেই যে দাম পরিবর্তন হবে, তা নয়। হিসাব পর্যালোচনার পর সরকার আগের দামও বহাল রাখতে পারে।

এ বছর ইরান যুদ্ধের কারণে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়। এর প্রভাবে দেশে জ্বালানি তেলের আমদানি ব্যয়ও বেড়েছে। 

২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম নয় মাসে বাংলাদেশ ৫৭ লাখ ৪০ হাজার টন জ্বালানি তেল আমদানি করেছে। আগের অর্থবছরের একই সময়ে আমদানি ছিল ৫০ লাখ ৫ হাজার টন।

বিপিসির হিসাবে, গত অর্থবছরে দেশে জ্বালানি তেলের চাহিদা ছিল প্রায় ৭৪ লাখ টন। এর আগের ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বাংলাদেশ ৬২ লাখ ১৫ হাজার টন জ্বালানি তেল আমদানি করেছিল। এর ২৪ শতাংশ ছিল অপরিশোধিত তেল এবং ৭৬ শতাংশ ছিল সরাসরি ব্যবহারের উপযোগী পরিশোধিত জ্বালানি তেল।

দেশে ব্যবহৃত জ্বালানি তেলের মধ্যে সবচেয়ে বড় অংশ ডিজেলের। 

জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত গত জুনে বলেছিলেন, দেশের মোট জ্বালানি তেল ব্যবহারের প্রায় ৬৬ শতাংশই ডিজেল। জনসাধারণের ওপর চাপ কম রাখতে জুনে অন্য তিন ধরনের জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো হলেও ডিজেলের দাম অপরিবর্তিত রাখা হয়েছিল বলে জানিয়েছিলেন তিনি।