Published : 07 Sep 2026, 11:33 PM
ঘোষণার পর অর্থ তুলে নিতে ৮৮ হাজারের বেশি আবেদন পেয়েছে পাঁচ ব্যাংক একীভূত করে গঠন হওয়া রাষ্ট্রায়ত্ব সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক।
এসব আবেদনের বিপরীতে আমানত তোলার চাহিদা চার হাজার কোটি টাকার বেশি। আগের দিন ৭৪ হাজার ২২১ আবেদনের বিপরীতে চাহিদা ছিল ৩ হাজার ৯২৫ কোটি টাকা। সোমবার নতুন করে আরও ১৪ হাজার আবেদন জমা পড়ে।
সব মিলিয়ে ৪২৭ কোটি টাকার চাহিদা থাকার তথ্য দিয়ে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবেদুর রহমান সিকদার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, ‘‘টাকা তোলার চাপ কম। আমরা আমাদের আমানতকারীদের মধ্যে আস্থা পুনরুদ্ধারের চেষ্টা করছি। আশা করছি, গ্রাহকরা আস্থা ফিরে পাবেন।”
তিনি বলেন, সোমবার টাকা তোলার চাহিদা ছিল এক হাজার ৩২৯ কোটি টাকা। এর বিপরীতে শেষ বেলা পর্যন্ত প্রায় ৩০০ কোটি টাকা নিয়েছেন গ্রাহকরা।
এদিন থেকে আবেদনের বিপরীতে অর্থ তুলতে পেরেছেন আমানতকারীরা। গ্রাহকদের স্বাগত জানানো হয় ব্যাংকের শাখাগুলোতে।
ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকের মতিঝিলের দিলকুশা শাখায় ফুল ও মিষ্টি বিতরণের আয়োজন করা হয় আমানতকারীদের জন্য।
ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকের দিলকুশা শাখার ব্যবস্থাপক তাহারুল হক বলেন, অন্য চার ব্যাংকের শাখাতেও একই ব্যবস্থা নিতে প্রধান কার্যালয় থেকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে তিনি বলেন, “আবেদন করার আগ থেকেই আমরা গ্রাহকদের যতটা সম্ভব অর্থ তোলার সুযোগ দিয়েছি। এ শাখার ব্যবসা ও গ্রাহক তুলনামূলক অন্যান্যদের চেয়ে বেশি। এখন নীতিমালার আলোকে আমানতকারীদের টাকা দেওয়া হচ্ছে।’’
তিনি বলেন, ‘‘আমরা শুধু টাকাই দেইনি। অনেক গ্রাহক টাকা জমা রেখেছে ভরসা করে।’’
অনেকে অনলাইনে টাকা স্থানান্তরের আবেদন করেছেন। শাখায় আসছেন না বলে জানান তাহারুল হক।
গত ১ সেপ্টেম্বর আবেদন জমা দেওয়া গ্রাহকদের সোমবার আমানত তুলে নেওয়ার সুযোগ দেয়া হয় জানিয়ে গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংকের মতিঝিল শাখায় জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা মারজিয়া নুসরাত বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, ‘‘মোট ৪৫ জন আবেদন করেছিল। কিন্তু টাকা নিতে বিকাল সোয়া তিনটা পর্যন্ত ১৬ জন এসেছেন।”
গ্রাহকরা সম্পূর্ণ মূল আমানত তুলে নিলে কোনো মুনাফা পাবেন না। ব্যাংক হিসাব সচল রেখে আমানতের একটি অংশ জমা রাখলেই শুধু হেয়ারকাট বাতিল হওয়ায় মুনাফা পাবেন।
গত ২০ জুলাই কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সিদ্ধান্তের পর শরিয়াহভিত্তিক এক্সিম ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক ও সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংকের পুরো দায়িত্ব বুঝে নেয় সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক। পুরো নিয়ন্ত্রণ পাওয়ার পর গত মাসে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের পথচলা শুরু হয়।
সারা দেশে থাকা পাঁচ ব্যাংকের মোট ৭৬০টি শাখা, ৬৯৮টি উপশাখা, ৫১১টি এজেন্ট ব্যাংকিং আউটলেট ও ৯৭৫টি এটিএম বুথ এখন সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের মার্চ শেষে পাঁচ ব্যাংকে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল ১ লাখ ৬৫ হাজার ৭৭৯ কোটি টাকা, খেলাপির হার ৮৪ দশমিক ২২ শতাংশ।
৩৫ হাজার কোটি টাকা অনুমোদিত মূলধন নিয়ে যাত্রা শুরু করা নতুন এই ব্যাংকে সরকার ইতোমধ্যে ২০ হাজার কোটি টাকা মূলধন সহায়তা দিয়েছে।